অনলাইন শপিং,ফ্রিল্যান্সিং ও অন্যান্য কাজ করার জন্য এই ওয়েবসাইটে একটি একাউন্ট থাকতে হবে। একাউন্ট খোলা মানেই টাকা দিতে হবে এমন না। ফ্রিল্যান্সার অথবা বায়ার, এর যে কোন একটি চয়েজ করে একাউন্ট তৈরি করতে হবে।অথবা শপিং সেকশনের যে কোন প্রোডাক্টের এ্যাড টু কার্ট বাটনে ক্লিক করেও আপনি একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।সাইনআপ করুন এবং কাজ পোষ্ট করুন। ফ্রিল্যান্সারগণ কাজ খুজুন ও বিড করুন।একাউন্ট তৈরি হলে আপনি আপনার দেয়া ইউজার আইডি ও পাসওর্য়াড ব্যবহার করে সাইটে লগইন করতে পারবেন। You must have an account on this website for online shopping, freelancing and other activities. Opening an account does not mean that you have to pay. Freelancer or buyer, you have to create an account by choosing one of them. Or you can create an account by clicking on the add to cart button of any product in the shopping section.Sign up and post work. Freelancers find work and bid. Once the account is created, you can login to the site using your given user ID and password.

We have 202 guests and no members online

All Posts

2081 posts found

Abu Sale Deel Mahamud
16 April 2021, 22:18

কনসেন্ট দেয়ার বয়সের পূর্বে যৌন সম্পর্ক হলে তাকে ধর্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করবে ফ্রান্স। দেশটিতে যৌন সংসর্গের ন্যূনতম বয়স ১৫।


অর্থাৎ, ১৫ বছরের পূর্বে যৌন সম্পর্ক হলে তা
সম্মতিক্রমে হোক বা জোরপূর্বক দুটোকেই ধর্ষণ হিসেবে গণনা করা হবে। বিলটি
ফ্রান্সের পার্লামেন্টে পাশ হয়েছে। এ নিয়ে ফরাসি বিচারমন্ত্রী বলেছেন,
আমাদের বাচ্চাদের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক আইন। কোনো প্রাপ্তকবয়স্ক আর
সম্মতির ভিত্তিতে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়াতে পারবে না।
যদিও আইন অনুযায়ী, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫ বছরের বড় কেউ চাইলে
যৌন সম্পর্কে জড়াতে পারবে। সেক্ষেত্রে এটি ধর্ষণ হবে না।


দেশটির প্রেমিক-প্রেমিকাদের রক্ষায় আইনে এমন
ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তবে জোরপূর্বক কিছু হলে সেটি যে বয়সেরই হোক না কেনো
কঠিন শাস্তি পেতে হবে।


0 Share Comment
Abu Sale Deel Mahamud
16 April 2021, 22:11

Watch this Video. This my son's own making one.

Prottoy Khan's Game Video
Bubble Shooting Auto Game
+1 Share Comment
Deshi Group
16 April 2021, 16:07

অভিনেত্রী অনন্যার প্রথম চুমুর অভিজ্ঞতা

অভিনেত্রী অনন্যার প্রথম চুমুর অভিজ্ঞতা
বলিউড অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডে। তার আরেক পরিচয় তিনি অভিনেতা চাংকি পান্ডের মেয়ে।

‘স্টুডেন্ট অব দি ইয়ার টু’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি জগতে পা রাখেন অনন্যা। সিনেমায় তার সঙ্গে আরো ছিলেন টাইগার শ্রফ ও তারা সুতারিয়া। এই সিনেমাতেই টাইগার শ্রফকে প্রথম চুমু খেয়েছেন অনন্যা।

এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘এটি আমার জীবনের প্রথম চুমু ছিল। এর আগে কখনো কাউকে চুমু খাইনি তাই তুলনাও করতে পারছি না। তবে প্রথম চুমু হিসেবে এটি সেরা ছিল।’

অনন্যা অভিনীত পরবর্তী সিনেমা ‘লিগার’। এতে দক্ষিণী সিনেমার অভিনেতা বিজয় দেবরকোন্ডার সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন তিনি। করন জোহর প্রযোজিত এই সিনেমা পরিচালনা করছেন দক্ষিণের নিমার্তা পুরী জগন্নাথ। পুরো ভারতে পাঁচটি ভাষায় সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন নির্মাতারা।

এছাড়া সকুন বাত্রার একটি সিনেমায় দেখা যাবে অনন্যাকে। সিনেমাটিতে আরো অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন ও সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী। ইতোমধ্যে সিনেমাটির শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন অনন্যা। এখনো নাম ঠিক না হওয়া এই সিনেমা চলতি বছর মুক্তির কথা রয়েছে।
0 Share Comment
Deshi Group
16 April 2021, 16:05

বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা, প্রশমিত হতে পারে তাপপ্রবাহ

বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা, প্রশমিত হতে পারে তাপপ্রবাহ
দেশের বেশকিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশমিত হতে পারে বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

এছাড়া রাজশাহী, পাবনা, মাদারীপুর, রাঙ্গামাটি, ফেনী, মৌলভীবাজার অঞ্চলসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটি কিছু এলাকায় প্রশমিত হতে পারে।

সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে ১১ মিলিমিটার।
0 Share Comment
Deshi Group
16 April 2021, 15:46

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের অর্থায়নে পরিচালিত ইংলিশ অ্যাকসেস
মাইক্রোস্কলারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় দুই বছর মেয়াদি অ্যাকসেস প্রোগ্রাম
সফলভাবে সম্পন্ন করে স্কলারশিপ পেয়েছেন সিলেটের ২০ শিক্ষার্থী। যার মধ্যে
১০ জন তরুণ এবং ১০ জন তরুণী। প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের ইংরেজি
ভাষা, বিশ্লেষণাত্মক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্বের দক্ষতাসহ অন্যান্য
বিপণনযোগ্য যোগাযোগ ও উদ্ভাবনী দক্ষতা (সফট স্কিল) আরও শক্তিশালী করেছেন।


সোমবার (১২ এপ্রিল) এক ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের
রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার ইংলিশ অ্যাকসেস মাইক্রোস্কলারশিপ প্রোগ্রামের নবীন
২০ জন স্নাতককে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।


রাষ্ট্রদূত মিলার মহামারির সময়ে কোর্সটি সম্পন্ন করতে তারা যে কঠোর
পরিশ্রম করেছেন, সে জন্য স্থানীয় মাদ্রাসা ও পাবলিক বিদ্যালয়ের ১০ জন
তরুণী এবং ১০ জন তরুণের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতের প্রস্তুতির জন্য তাদের
পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন।


মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশ কিছুদিন আগেই তার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করল- যে
দিনটিতে দেশটি তার নিজের পথ নিজেই তৈরি করে নেওয়ার অভিপ্রায় ও সামর্থ্যের
ঘোষণা দিয়েছিল। তরুণ মনের শক্তিকে স্বীকৃতি জানানোর এর চেয়ে ভালো সময় আর
হয় না- ঠিক আপনাদের মতো (তরুণ)- যারা পরবর্তী ৫০ বছরের নকশা আঁকবেন।
আপনারা এই দক্ষতা সঙ্গে নিতে পারেন এবং কাজে লাগাতে পারেন সেই নেতাদের মতো
করে, যারা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়বেন।


বৃত্তি পাওয়ার যোগ্যতা


ইংলিশ অ্যাকসেস মাইক্রোস্কলারশিপ প্রোগ্রাম একটি দ্বি-বার্ষিক কর্মসূচি,
যা অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত ১৩-১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে ইংরেজি ভাষা,
আমেরিকান সংস্কৃতি, বিশ্লেষণাত্মক সিদ্ধান্ত গ্রহণের চর্চা এবং নেতৃত্বর
ভিত তৈরি করে এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য তাদেরকে আরও
প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে সহায়তা করে।


বর্তমানে, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের ৭৬ জন শিক্ষার্থী অ্যাকসেস প্রোগ্রামে
অংশ নিচ্ছেন। চলতি ২০২১ সালে আরও ২০০ শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
২০০৪ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে ১,২৬০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এটি সফলভাবে
শেষ করেছেন। আজকের উত্তীর্ণরা বিশ্বের ৮৫টির বেশি দেশে অ্যাকসেস
প্রোগ্রামের আরও ৯৫ হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থীর দলে যোগ দিলেন।


উদ্দেশ্য


সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে
ব্যক্তিসম্পর্ক ও শিক্ষা-সংযোগ প্রসার, স্থানীয়ভাবে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং
উদ্ভাবনী শিক্ষার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশি যুবাদের ক্ষমতায়নের জন্য
ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের নেওয়া অনেক উদ্যোগের একটি এই অ্যাকসেস
প্রোগ্রাম।


কর্মসূচির সহযোগী


এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (ইএইচডিএস),
অ্যাকসেস প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে দূতাবাসের অংশীদার। ২০০৯ সালে সিলেটভিত্তিক
এই অলাভজনক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক্সচেঞ্জ
কর্মসূচির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। সংস্থাটি মূলত মেয়েদের শিক্ষা, নারী ও
মেয়েদের নেতৃত্বের বিকাশ এবং ইংরেজি শিক্ষা নিয়ে কাজ করে। ২০১০ সাল থেকে
তারা ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বিশ্বস্ত অংশীদার। সিলেটে কমিউনিটির
উন্নয়ন ও শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে সহায়তার জন্য ইএইচডিএসকে একাধিক অনুদান
দেওয়া হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, ঢাকার ইংরেজি ভাষা প্রোগ্রাম সম্পর্কে আরও তথ্যের
জন্য, দেখুন:
https://bd.usembassy.gov/education-culture/english-language-programs/।


শিক্ষার্থীদের জন্য দূতাবাস ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত
অন্যান্য এক্সচেঞ্জ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ বিষয়ক তথ্যের জন্য,
দেখুন:
https://bd.usembassy.gov/education-culture/student-exchange-programs/।


ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ এবং শেখার রিসোর্সের সন্ধান পেতে,
দেখুন: https://americanenglish.state.gov/ এবং এর ফেসবুক পেজ
https://www.facebook.com/AmericanEnglishatState।


যুক্তরাষ্ট্র স্টেট ডিপার্টমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় ইংরেজি শিক্ষক ও শিক্ষা
পেশার ব্যক্তিদের জন্য অ্যাসেসমেন্ট অব ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নার্স বিষয়ে
বিনা মূল্যের ম্যাসিভ ওপেন অনলাইন কোর্স (এমওওসি) সম্পর্কে আরও জানতে,
দেখুন:
https://www.canvas.net/browse/fhi-pd/courses/assessment-english-language-learners


0 Share Comment
Deshi Group
16 April 2021, 15:41

আজ ‘বিশ্ব ভয়েস (কণ্ঠ) দিবস’। প্রতি বছর
১৬ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হয় দিবসটি। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘এক
বিশ্ব, অনেক ভয়েস’। কণ্ঠ ও কণ্ঠনালির সমস্যা এবং কণ্ঠকে সুস্থ রাখার উপায়
সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।


ব্রাজিলিয়ান ভয়েস কেয়ার পেশাদারদের
দ্বারা ১৯৯৯ সালে প্রথম শুরু হয়েছিল ভয়েস উদযাপন। পরে এটি ব্রাজিলিয়ান
ভয়েস ডে হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের মতো দেশেও
উদযাপিত হয়েছিল।


পরবর্তীকালে, ২০০২ সালে আমেরিকান একাডেমি
অফ ওটোলারিঙ্গোলজিস্ট-হেড এবং নেক সার্জারি এটি উদযাপন শুরু করলে,
আনুষ্ঠানিকভাবে এটি বিশ্ব ভয়েস দিবস হিসাবে স্বীকৃত হয়।


প্রাপ্ত এক তথ্যে জানা গেছে, দেশের ৫
কোটিরও বেশি মানুষ কণ্ঠের নানা সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি
আক্রান্ত হচ্ছেন স্বরভঙ্গে। এ ছাড়া দেশের ক্যান্সার আক্রান্তদের প্রায় ৩০
ভাগই নাক, কান ও গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাদের এক-তৃতীয়াংশ শুধু গলার
ক্যান্সারে ভুগছেন।


নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. সতীনাথ
সরকারের মতে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গলা বসা বা কণ্ঠস্বর ভাঙার কারণ হলো
শ্বাসনালিতে সংক্রমণ। এমনকি সাধারণ ঠান্ডা লাগা বা দীর্ঘক্ষণ জোরে কথা
বললেও গলার স্বর ভাঙতে পারে। তবে দীর্ঘদিন এই সমস্যা হচ্ছে, কিছুতেই সারছে
না, বিশেষ করে আপনি যদি ধূমপায়ী হয়ে থাকেন, তবে সতর্ক হোন। ফুসফুস বা
শ্বাসতন্ত্রের ক্যানসারে ভোকাল কর্ড বা এর স্নায়ু আক্রান্ত হয়ে গলা বসে
যেতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যায়ও অনেক সময় গলার স্বর বসে যায়। এ ছাড়া
গলার কোনো অস্ত্রোপচারে ভোকাল কর্ড বা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গলা
বসে যেতে পারে।


প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে দিবসটি পালনে এবার কোনো সরব কর্মসূচী নেই।


0 Share Comment
National/International News Group
16 April 2021, 00:27

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ষবিদায় ও বরণকৃত্য

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ষবিদায় ও বরণকৃত্য
ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে পরিচয় মুছতে থাকলেও এখনো এক এক ঋতু সাজে এক এক উৎসব আর মেলার আয়োজনে। অঞ্চল ও জাতিভেদেও ঋতুভিত্তিক আচার-রীতিগুলোও ভিন্ন ভিন্ন। বারো মাসে তেরো পার্বণের বাংলাদেশে বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়ের কৃত্য আচারগুলো সব ক্ষেত্রেই উৎসবমুখরতা তৈরি করে। পাশাপাশি বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণকে ঘিরে দেশের নানা প্রান্তে আয়োজিত হয় চৈত্রসংক্রান্তি, গাজন, চড়ক কি বৈশাখী মেলা। বাংলা বছরকে ঘিরে বাঙালি সমাজে চৈত্রসংক্রান্তি, হালখাতা, নববর্ষ যেমন বাংলার জন-উৎসব, তেমনি দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সমাজে বর্ষবিদায় ও বরণের কৃত্যগুলোও জন-উৎসবে রূপ নেয়। অঞ্চল ও জাতিভেদে বর্ষবিদায় ও বরণ উৎসবের নামগুলোও ভিন্ন ভিন্ন। সমতলের কোচ ও হাজং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা বর্ষবিদায় ও বরণ উৎসবকে ‘বিহু’ বলেন। ভাওয়াল ও মধুপুরগড়ের বর্মণ ও কোচ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা সন্যাসী পূজা, গাজন, চড়ক পূজার মাধ্যমে চৈত্রসংক্রান্তি পালন করে। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা এ উৎসবকে বলেন বিষু। সিলেট অঞ্চলের চা বাগানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের অনেকেই এ সময় পালন করে দণ্ডবর্ত। পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমারা বর্ষবিদায় ও বরণের এ উৎসবকে বলে বিজু। মারমারা বলে সাংগ্রাই। রাখাইনদের ভাষায় সাংগ্রেং। ত্রিপুরারা বলে বৈসু বা বৈসুক, কোথাও বুইসুক। গুর্খা ও অহমিয়ারা বলে বিহু। তঞ্চঙ্গারা বলে বিষু। ম্রোরা এ উৎসবের নাম দিয়েছে চানক্রান। চাক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা এ উৎসবকে বলে সাংগ্রাইং। খিয়াং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের অনেকেই এ উৎসবকে সাংলান বলে।

নীলকণ্ঠ ও দুধ-উদলানো কৃত্য

নাটোরের চলনবিল অঞ্চলের বাগদী সমাজ চৈত্রসংক্রান্তির দিন নীলকণ্ঠ পূজা করে। বৈশাখের প্রথম দিনে গোয়ালঘরে আয়োজন করে ‘দুধ-উদলানো’ কৃত্য। গরুর দুধ জ্বাল দিয়ে সেই দুধ গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখা হয়। বছরের প্রথম দিনে এভাবেই ভূমি জননীকে দুধ দিয়ে নতুন বার্তা বয়ে আনার আহ্বান জানায় বাগদী সমাজ, যাতে বছরজুড়ে গোয়াল ভরা সুস্থ দুধেল গরু থাকে, সংসারের আয়রোজগার ভালো হয়, সংসারের মঙ্গল হয়।

হাজরা ও আম-ছাতুয়া

রবিদাসদের ভেতর হাজরা নামের এক কৃত্যের মাধ্যমে বর্ষবিদায় পালিত হয়। এদিন যবের ছাতু ও কাঁচা আম একত্রে মিশিয়ে আম-ছাতুয়া খাওয়া হয়। মৌসুমি ফল আমকে বর্ষবিদায়ের এ রীতির ভেতর দিয়েই সমাজ গ্রহণ করে। বছরের প্রথম দিন ঘরের দেওকুড়ি নামের পবিত্র স্থলে কর্মের পূজা করা হয়। রবিদাসদের ভেতর যে যে কর্মপেশায় জড়িত তারা সেই কর্মের সঙ্গে জড়িত আনুষঙ্গিক উপকরণগুলো দেওকুড়িতে রাখে। হাতুড়ি, কোদাল, শাবল, কাঁচি, ছুরি, বাটাল যার কর্মে যা লাগে সব। এ সময় ঢোল, খাজরি, ঝাল বাজানো হয়। রবিদাসদের ভেতর এ সময় বাইশাখী পূজাও পালিত হয়।

ছাতাপরব ও পাতাপরব

ছাতাপরব ও পাতাপরবের ভেতর দিয়ে আয়োজিত হয় সাঁওতালদের বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ পর্ব। চৈত্রসংক্রান্তিতে সাঁওতালরা পাতা উৎসব পালন করে। এটাকে অৗচুর পাতাও বলে। ‘অৗচুর’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে ঘোরানো। চড়ক পূজার বড়শি ঘুরানো যেমন করে হয়। এ সময় বাড়ির সব গাছের গোড়ায় নতুন মাটি তুলে দিতে হয়। নতুন বছর যেন ফুলে-ফলে-শস্য-ফসলে ভরপুর থাকে গাছগাছালি এই মানতে। বর্ষবিদায় ও বরণের কৃত্য হিসেবে মুণ্ডারা গ্রাম পূজা হিসেবে পালন করে মুড়ই পূজা। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বেদিয়া-মাহাতোরা চৈত্রসংক্রান্তির দিন বথুয়া, কাঁটা খুঁড়ে, গিমাসহ নানা জাতের তিতা শাক খায়। সাঁওতালদের বছর শুরু হয় ফৗগুন (ফাল্গুন) মাসে। আর এ মাসেই আয়োজিত হয় বর্ষবরণের উৎসব বাহা। বাহাকে তাই সাঁওতালি ভাষায় ‘হড়’-দের ‘নাওয়া সেরমা পরব’ মানে ‘সাঁওতালদের বর্ষবরণ উৎসব’ বুঝায়। বাহা পরব দু-চারদিন জুড়ে হয়, পরবের প্রথম দিনকে উম ও দ্বিতীয় দিনকে বাহা সৗরদি দিন বলে।

বিজু

বিজুই চাকমাদের সবচেয়ে বড় আয়োজনের সামাজিক উৎসব। ফুল বিজু, মূল বিজু ও গয্যাপয্যা দিন—তিন পর্বে বিভক্ত বিজু শুরু হয় ২৯ চৈত্র। পাহাড়-টিলা-বন ও গ্রাম ঘুরে ঘুরে এদিনে শিশু, কিশোর ও বালিকারা সংগ্রহ করেন নানা পদের ফুল। ভাতজরা ফুল বা বেই ফুল ছাড়া বিজু জমে না। ভাতজরা ফুল বিজুর সময়ে ফোটে বলে অনেকে একে বিজু ফুলও বলে। ফুল বিজুর দিনে সবাই সকাল সকাল স্নান সেরে পরিপাটি হয়ে নেয়। স্নানের সময় ডুব দিলে বিজুগুলা নামের সুস্বাদু ফল পাওয়া যেতে পারে আশায় কেউই স্নানের জন্য দেরি করে না। সংগৃহীত ফুল নদী বা ছড়ার পাড়ে পূজা করে জলে ভাসিয়ে দেয়া হয়। ঘরবাড়ি ফুল দিয়ে সাজানো হয়। ফুল বিজুর দিন থেকে পরবর্তী সাতদিন চাকমারা ঘরের দরজা, ঘরের খুঁটি ও বাড়ির আশপাশে সন্ধ্যাবাতি জ্বালিয়ে রাখে। ফুল বিজুর পরদিনই শুরু হয় মূল বিজু। এদিনে চাকমা বাড়িতে বাড়িতে নানা পদের রান্না হয়। এসবের ভেতর বিজুর পাজোন বা এক ধরনের মিশ্র সবজি হলো সবার কাঙ্ক্ষিত খাবার। পাজানোর তরিতরকারি খুঁজতে জঙ্গলে যাওয়াকে চাকমা ভাষায় বলে ‘তোনতগা যানা’। সান্যা পিঠা, বিনি পিঠা, বিনি হগা, বড়া পিঠা বানানো হয় ঘরে ঘরে। খবরক, গ্যাল­ং, লংকাপোড়া বিনি, কালাবিনি, লালবিনির মতো নানা জুমধান থেকে তৈরি করা জগরা, কানজি ও দোয়াচুয়ানির আনন্দিত আসর জমে ওঠে। চাকমারা নববর্ষের দিনকে গয্যাপয্যা বলে মানে আরাম আয়েশ, গড়াগড়ি করে কাটানোর দিন। নারীরা এদিন মালোকখীমার উদ্দেশে ভাত উৎসর্গ করেন। বিজুর সময় চাকমা গ্রামে গ্রামে গেংখুলীরা উভোগীত, রাধামন ধনপুদি পালা, চাদিগাং ছড়া পালাসহ নানা পালাগানের আয়োজন করে।

বৈসুক

ত্রিপুরাদের ভেতর বৈসুক পালিত হয় ত্রিপুরাব্দের তাল­াং মাসের ৩০ তারিখে। এদিনই ত্রিপুরা বর্ষপঞ্জিকা প্রবর্তিত হয়েছিল। এ সময় ত্রিপুরারা কর্ম ও প্রেমের দেবতা গড়িয়ার আরাধনা করে গড়িয়া নাচের ভেতর দিয়ে। পূর্বজনদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে পালিত হয় পারিবারিক কৃত্য। ছড়া বা নদীর স্রোতে প্রদীপ ভাসিয়ে অবিবাহিত ত্রিপুরা মেয়েরা পালন করে সিমতুং পূজা।

বিষু

তঞ্চঙ্গগারা ফুল বিষু, মূল বিষু ও গয্যাপয্যা বিষু—তিনদিনে পালন করে বর্ণাঢ্য বিষু। বিষুর দিনে তঞ্চঙ্গারা বিনি চালের গুঁড়া ও দুধের তৈরি মু পিঠা বানায় বাড়িতে বাড়িতে। অনেকেই বিজু-বিষুর দিনে ক্যাঙ বা বৌদ্ধমন্দিরে খাদ্য ও উপঢৌকন দান করে।

সাংগ্রাইং

বর্ষবিদায় ও বরণের উৎসবকে মারমারা বলে সাংগ্রাই। মারমারাও প্রায় তিনদিন ধরেই পালন করে সাংগ্রাই। মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবের মতোই কিছুুটা নামের মিল আছে চাকদের বর্ষবিদায় ও বরণ উৎসবের। সাংগ্রাইং উৎসবের প্রথম দিনকে চাকরা বলে পাইংছোয়েত বা ফুল দিন। চাকরা সাংগ্রাইংয়ের সময় কাইনকো বা নাগেশ্বর ফুল সংগ্রহে মুখর হয়ে ওঠে। পাইংছোয়েতর দিন গ্রামে গ্রামে আয়োজিত হয় পেকো (গিলা), গ্যাং (লাটিম), মাইকানিকছা (কানামাছি) নামের নানা চাক খেলা। সাংগ্রাইংয়ের দ্বিতীয় দিন হলো আক্যাই। এদিনে পাড়ার যুবসম্প্রদায় বাইক (ঢোল), লাংহোয়াক (ঝাঁজ) ও হ্নে (বাঁশি) বাজিয়ে ক্যাং বা বৌদ্ধমন্দিরে যায় আশীর্বাদ গ্রহণের জন্য। সাংগ্রাইংয়ের শেষ দিনকে চাকরা বলে আপ্যাইং। নববর্ষের এদিন বাড়ি বাড়ি নানা পদের রান্না হয়। নিমন্ত্রণ খায় মানুষ এবাড়ি-ওবাড়ি। গৌতম বুদ্ধের পূজা-অর্চনার ভেতর দিয়ে এ আনন্দমুখর আয়োজনে খিয়াংরা পালন করে সাংলান উৎসব।

বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণকে ঘিরে মূলত চৈত্রসংক্রান্তিতেই গ্রামজনপদে মেলা আয়োজনের আদি চল। গাজীপুর, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের নানা প্রান্তে যেখানেই চড়ক পূজা আয়োজিত হয় সেখানেই এখনো মেলার আয়োজন ঘটে। বিশেষত চা বাগান এলাকাগুলোতে এসব মেলার আয়োজন স্থানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত। এসব মেলা কোনো কোনোটি একদিন স্থায়ী হয়, কোনোটি চলে দিনকয়েক, কোনোটিবা ১৫ দিন কি এক মাস। তবে চলতি সময়ে বর্ষবিদায় ও বরণ ঘিরে আয়োজিত মেলাগুলোর স্থায়িত্ব খুব কম এলাকায় এক মাস গড়ায়। অঞ্চলভেদে এসব মেলায় আগে ভিন্ন ভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, ফলফলারি, বীজ, পঞ্জিকা পাওয়া গেলেও এখন দেশের প্রায় সব এলাকার মেলাই একাকার হয়ে গেছে। এ যেন বহুজাতিক বিশ্বায়িত দুনিয়ার বাণিজ্য বাহাদুরি। সব মেলাতেই এখন প্রায় একই ধরনের সস্তা প্লাস্টিক পণ্য ও করপোরেট পানীয় পাওয়া যায়। হাওর অঞ্চলে চৈত্র মাসে আয়োজিত মেলাগুলো ‘বান্নি’ বা ‘বারুণী’ হিসেবে পরিচিত। সোমেশ্বরীর মেলা, হোমাই ঠাকুরের মেলা, পণাতীর্থ, লেংটার মেলা, শারপীনের মেলা। এসব মেলা আখ, ক্ষীরা, বেল, খই-দইয়ের জন্য বিখ্যাত ছিল। এখন এসব মেলায় প্যাকেটজাত পণ্য থেকে শুরু করে মোবাইল ফোনের কার্ড পর্যন্ত পাওয়া যায়। রাজশাহীর পবা ও নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চৈত্রসংক্রান্তির মেলায় স্থানীয়ভাবে নির্মিত মুখা বা মুখোশ পাওয়া যেত। এখন খুব কম। লোহার জিনিস, মাটির জিনিসের পাশাপাশি খই, মুড়ি, চিঁড়া, নকুলদানা, কদমা, বাতাসা, জিলাপি, কটকটি, মুরালি আর রঙিন কাচের চুড়িসহ হরেক রকম পুঁতির মালা ছিল এসব মেলার প্রাণ। বেদে নারীরা মেলায় চুড়ি ও মালা বিক্রি করত। চড়ক আর বৈশাখী মেলাতেই বেশি বিক্রি হতো বেদে নারীদের নিজস্ব সংগৃহীত মুক্তা ও মুক্তার নাকফুল কি মালা। আর মেলে পঞ্জিকা, পুথি, পাচালি, নামাজ শিক্ষা, স্ত্রী শিক্ষা, লতাপাতার গুণ, ব্রতকথাসহ নানা সস্তা পুস্তিকা। এসব দোকানে পাওয়া যায় কাঠের মালা, তুলসী মালা, চন্দন, আবির, শাঁখা-সিঁদুর, তিলকমাটি, নীলমাটি। রাষ্ট্র বহুদিন বাদে বহু বিতর্ককে জিইয়ে রেখে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০’ তৈরি করেছে। ওই আইনে দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনগণের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কি বাঙালি সবার বর্ষব্যাপী উৎসব ও মেলাকেই সমমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বর্ষবিদায় ও বরণকে ঘিরে এসব উৎসব ও মেলা আয়োজনের সঙ্গে কেবল বিশ্বাস ও বিনোদন নয়, জড়িয়ে আছে এ জনপদের উৎপাদন সম্পর্কের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি। নতুন বছরে দেশের সব জনপদের কৃত্য উৎসবের প্রতি রাষ্ট্র সম-উদ্যোগী হবে—এই প্রার্থনা।

পাভেল পার্থ: গবেষক ও লেখক

0 Share Comment
National/International News Group
16 April 2021, 00:26

বাংলা সনের উৎপত্তি ও আকবরের নবরত্ন

বাংলা সনের উৎপত্তি ও আকবরের নবরত্ন


দিল্লীশ্বর তৃতীয় মুঘল সম্রাট আবুল ফাতহ জালাল উদ্দীন মুহম্মদ আকবরের (১৫৪২-১৬০৫) সম্রাটশাসিত মন্ত্রিসভার প্রধান সদস্য ছিলেন নয়জন, যাদের ইতিহাসে নবরত্ন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। আবুল ফজল (১৫৫১-১৬০২) ছিলেন গ্রান্ড উজির, রাজা তোডর মল (১৫০০-১৫৮৯) অর্থমন্ত্রী, রাজা বীরবল ওরফে মহেশ দাস (১৫২৮-১৫৮৬) হিন্দুবিষয়ক উপদেষ্টা এবং মুখ্য সেনাপতি, আবু আল ফাইজ ইবনে মোবারক ওরফে ফৈজী (১৫৫৭-১৫৯৫) ছিলেন মালিক উশ শোয়ারা বা সভাকবি (পোয়েট লরিয়েট), রাজা মান সিংহ ১ (১৫৫০-১৬১৪) বিশ্বস্ত জেনারেল, মিয়া তানসেন (১৫০০-১৫৮৬) সংগীতজ্ঞ, মোল্লা দোপিয়াজা (১৫২৭-১৬২০) বুদ্ধির জাহাজ, ফকির আজিও আও দীন (১৫০৮-১৫৭২) ধর্মমন্ত্রী এবং আবদুল রহিম খান ই খানান (১৫৫৬-১৬২৭) কবি এবং আকবরের মেন্টর। দেখা যায় আকবরের কেবিনেটে সমরবিশারদ, বুদ্ধিজীবী, অর্থ ও ধর্মবিষয়ক পণ্ডিত, কবি ও সংগীতবেত্তাদের প্রাধান্য ছিল। সম্রাট আকবর ১৫৫৬ থেকে ১৬০৫ পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৪৯ বছর দোর্দণ্ডপ্রতাপ, প্রতিভা, রাজ্য বিস্তার ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সংহতকরণ, ধর্ম-মত-অর্থ ও রাজস্ব সংস্কার সাধনে ব্যাপৃত হয়েছিলেন। আর এর জন্য তার নবরত্ন সভার সভাসদরা তাদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও পাণ্ডিত্য দিয়ে তাকে ঋদ্ধ করেছিলেন। তিনি ফসলি সন প্রবর্তনের যে কাজটি করেছিলেন সুদূর দিল্লির সিংহাসনে বসে, তা সুবে বাংলার (বর্তমানের বাংলাদেশ) জন্য আজও চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে। পুরো ভারতবর্ষে একমাত্র বাংলাদেশে তার প্রবর্তিত ফসলি সন কার্যকর রয়েছে, বাঙালির নিজস্ব পঞ্জিকা বর্ষ বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন হিসেবে।

বাংলা সন প্রবর্তনের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে জলবায়ু, অঞ্চল ও বিরাট রাষ্ট্রীয় কাজে রাজস্ব আহরণে স্বার্থে ও সুবিধার্থে সময়ের প্রয়োজনেই বাংলা সনের উদ্ভব হয়। সরকারি খাজনা আদায় করা হতো চন্দ্র সনের হিসেবে। তখন এ অঞ্চলে হিজরি সনই ছিল দিন গণনা এবং দাপ্তরিক কাজকর্মের একমাত্র মাধ্যম। তত্কালীন যুগে বাংলার এ অঞ্চল ছিল কৃষিনির্ভর। তখন জমিতে ফসল উৎপাদনের সময়ের ওপর ভিত্তি করে জমির খাজনা আদায় করা হতো। এক্ষেত্রে হিজরি সনের হিসাব করা হতো। কিন্তু হিজরি সন চান্দ্রমাসভিত্তিক হওয়ায় তা কোনো ফসলি মৌসুম মেনে চলত না। এ সনের মাসগুলো কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে স্থির থাকে না। এতে বছরে ১১ দিন সময় কমে যেত। যার ফলে ফসলের ঋতুর মিল থাকত না। কৃষকরা সাধারণত বৈশাখ মাসে শস্যাদি বাজারজাত করতেন। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল খেয়ে ফেলার পরে সরকার খাজনা নিতে আসত। তাতে মানুষের হাতে না থাকত ফসল, না থাকত অর্থ। ফলে রাজস্ব বা খাজনা আদায়ের হিসাব-নিকাশ সংরক্ষণে রাজস্ব বিভাগের দারুণ অসুবিধার সৃষ্টি হতো। একদিন রাজ্যের হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কয়েকজন সম্রাট আকবরের কাছে গেলেন। বললেন, ‘বাদশাহ আমাদের ধর্মকর্ম সম্পর্কিত অনুষ্ঠানে আরবি অর্থাৎ হিজরি সাল ব্যবহার করতে ইচ্ছে হয় না। তাই আপনি আমাদের একটি পৃথক সাল নির্দিষ্ট করে দিন।’ এর কিছুদিন পরেই আবার অসন্তোষ দেখা দিল সম্রাটের রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীদের মধ্যে। সম্রাটের কাছে তারা তাদের আবেদনে জানান, ‘জাঁহাপনা সৌর পদ্ধতিতে হিজরি সালের কিছু ত্রুটি এবং চান্দ্র সালের কারণে ফসলের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের সময়কাল নির্দিষ্ট রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এমন অবস্থায় আপনি হিজরি এবং চান্দ্রবর্ষের সমন্বয়ে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক নতুন সালের প্রবর্তন করে দিন। যাতে নির্দিষ্ট দিন বা সময়ে আমরা জমির খাজনা আদায় করতে পারি।’

সম্রাট আকবর ছিলেন রাজ্যের সুশাসক এবং ধর্মমতের ব্যাপারে উদার। বিষয়টির গুরুত্ব তিনি উপলব্ধি করেন। তার শাসনামলের ২৯ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর এ সমস্যার সমাধান বের করতে তিনি রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে একটি নতুন সৌর সন উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এটি নিয়ে আলাপ করেন তার সভাসদ আবুল ফজল এবং অর্থমন্ত্রী রাজা তোডর মলের সঙ্গে। তাদের পরামর্শে সম্রাট কঠিন এ কাজ সম্পাদনের দায়িত্ব দিলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদ আমির ফতেউল্লা সিরাজির ওপর।

পারস্যের সাফাবিদ ঘরানার সুফি সৈয়দ মীর ফতেউল্লা সিরাজি (? -১৫৮৯) ছিলেন একাধারে গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিদ, দার্শনিক, পদার্থবিদ, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও ইসলামী আইনবেত্তা। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত দার্শনিক এবং কোরআন-হাদিস বিদ্যাবিশারদ গিয়াস আল দীন মনসুরের (১৪৬১-১৫৪২) শিষ্য। তারা আগে থেকেই ছিলেন গান পাউডার সমরাস্ত্র নির্মাতা হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ। এ পরিচয়ে ফতেউল্লা সিরাজি সম্রাট আকবরের দরবারে কামান তৈরিতে বিদেশী কনসালট্যান্ট হিসেবে ১৫৫৬ সালে যোগদান করেন। প্রথম দিকে তিনি মুঘল সেনাবাহিনীর জন্য ভলি গান, হাত কামান, ছোট কামান এবং পরবর্তীকালে ষোল গোলাবিশিষ্ট কামান তৈরির পারদর্শিতা দেখান এবং গোলন্দাজ শাখায় সেরা সম্পদ হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। তিনি সম্রাট আকবরের ‘অযুদদুদদৌলা’ বা সম্রাটের হস্ত উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি প্রধান উজির পণ্ডিত আবুল ফজলের আরাম আয়েশের জন্য এমন একটা বাহন তৈরি করেন, যা ছিল বহুল ব্যবহারযোগ্য। একসময় তা দিয়ে ফসল মাড়াইয়ের কাজও করা যেত।

সম্রাট আকবরের দরবারে আমির ফতেউল্লা সিরাজি নতুন সাল উদ্ভাবন প্রস্তাব পেশ করেন।

সিরাজি ছিলেন প্রজ্ঞাসম্পন্ন মনীষী। তিনি খুবই সাধারণ জীবন যাপন করতেন। ঐতিহাসিক আবুল ফজল তার আকবরনামা গ্রন্থে সিরাজি সম্পর্কে এমন মন্তব্যও করেছেন, ভারতের সব প্রত্নতাত্তিক জিনিস যদি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে সিরাজি তা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন। তাই তার গ্রন্থে তাকে প্রত্নতাত্ত্বিক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সম্রাট আকবর ফতেউল্লা সিরাজির মৃত্যুতে গভীর শোকাহত হন। আইন-ই-আকবরিতে আবুল ফজল লিখেছেন:

মহামতী আকবর তার সভাসদদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করতেন। মীর ফতেউল্লাকে আকবর তার উকিল মনে করতেন। আকবরের মতে, ‘ভারতীয় ইতিহাসে মীরের সমতুল্য একাধারে দার্শনিক, পদার্থবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী কেউ ছিলেন না। মহামতী আকবর বলতেন, কোনো কারণে সিরাজি যদি শত্রুদের হাতে ধরা পড়ে এবং তার মুক্তির পণ হিসেবে আমার ট্রেজারির সমুদয় সম্পদও দাবি করা হয় আমি তা দিতে কুণ্ঠিত হব না, বরং আমি মনে করব এমন রত্ন আমি সহজ বিনিময়ে ফেরত পেলাম।’

১৫৮৪ সালে নতুন সাল উদ্ভাবনে নিয়োগ পেয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমির ফতেউল্লা সিরাজি ভারতের বিভিন্ন এলাকার সনকে চন্দ্র ও সৌর বৈশিষ্ট্যে সমন্বিত করেন। এখানে আমির সিরাজি তদানীন্তনকালে প্রচলিত সব বর্ষপঞ্জি পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হিজরতকে মূল ঘটনা ধরে হিজরি সনের বর্ষকে অক্ষুণ্ন রেখে, ১, ২, ৩ এভাবে হিসাব না করে মূল হিজরি সনের চলতি বছর থেকেই বাংলা সনের গণনা শুরু দেখিয়ে বাদশা আকবরের মসনদে অধিষ্ঠানের বছর ৯৬৩ হিজরিকে ৩৫৪ দিনে গণনার স্থলে ৩৬৫ দিনে এনে একটি প্রস্তাব বাদশার দরবারে পেশ করেন ১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দে। ৯৬৩ হিজরি ঠিকই থাকে, শুধু পরবর্তী বছর থেকে ৩৬৫ দিনে তা গণনায় আনায় ঋতুর সঙ্গে এর সম্পর্ক স্থিত হয়ে যায়। ১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দেই বাদশা আকবর হিজরি চান্দ্র সনের এ বিশেষ সৌর সনের গণনাকে অনুমোদন দান করেন এবং ২৯ বছর আগে তার সিংহাসনে আরোহণের বছর (হিজরি ৯৬৩, ১৫৫৬ সন) থেকে উদ্ভাবিত নতুন সৌর বর্ষপঞ্জিকার হিসাব শুরু করার নির্দেশ দেন। এই সন ইলাহি সন, ফসলি সন প্রভৃতি নামে শাহি দরবারে পরিচিত হলেও বাদশা কর্তৃক গঠিত সুবা বাঙ্গালা বা বাংলা প্রদেশে এসে এই সন বাংলা সন নামে ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়। সিরাজি উদ্ভাবিত বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী মুঘল রাজদরবার থেকে বৈশাখ মাসকে নববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে ফরমান জারি করা হয়; এবং এ মাসেই ভূমি রাজস্ব বা ওশর আদায়ের তাগিদ প্রদান করা হয়। এভাবে বৈশাখ মাস বাংলা বছরের প্রথম মাস হওয়ার মর্যাদা লাভ করে।

সন হিসেবে ‘বাংলা সন’ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কার্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত বলে বিবেচিত হয়। এর কারণ হলো এটি একই সঙ্গে চন্দ্র ও সৌর পদ্ধতির সার্থক উত্তরাধিকারী। এর প্রথমাংশ, অর্থাৎ ৯৬৩ বছর, সম্পূর্ণ হিজরি সনভিত্তিক তথা চান্দ্রসন। পরবর্তী অংশ অর্থাৎ ৯৬৩ হতে অদ্যাবধি সৌরভিত্তিক। ফলে বিশ্বে সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত ইংরেজি তথা গ্রেগরিয়ান ক্যালন্ডারের সঙ্গে ‘বাংলা সন’ সামঞ্জস্য রেখে চলে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে ৯৬৩ সালে পয়লা বৈশাখ হয়েছিল ১১ এপ্রিল, ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে আবার ১৪২৮ বাংলা সনে পয়লা বৈশাখ হয়েছে ১৪ এপ্রিল। অর্থাৎ ১৪২৮-৯৬৩=৪৬৫ বছরে পার্থক্য হয়েছে মাত্র তিনদিনের। আর ভবিষ্যতেও এর চেয়ে অধিক পার্থক্য হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এই ৫৯৩-এর সঙ্গে নতুন বাংলা সন যোগ করা হলে বর্তমান ইংরেজি সাল পাওয়া যাবে। আগত নতুন বাংলা সন ১৪২৮-এর সঙ্গে ৫৯৩ যোগ করলে দাঁড়ায় ১৪২৮+৫৯৩ = ২০২১ অর্থাৎ ইংরেজি ২০২১ সাল। বাংলাদেশসহ ভারত উপমহাদেশে ফতেউল্লা সিরাজি বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রবর্তিত হিজরিভিত্তিক ‘বাংলা সন’ আবিষ্কারের অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করে ইতিহাসে স্মরণীয় ব্যক্তিত্বের স্থান অধিকার করে আছেন।

পৃথিবীর দুটি বিখ্যাত ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মুসলমানদের আছে বিরাট ঐতিহ্য ও ইতিহাস। বাংলা ও হিজরি সন দুটোই সৃষ্টি করেছে মুসলমানরা। ‘সন’ ও ‘তারিখ’ দুটিই আরবি শব্দ। সন অর্থ হলো ‘বর্ষ’ বা ‘বর্ষপঞ্জি’ এবং তারিখ অর্থ ‘দিন’। আরবিতে ‘তারিখ’ দ্বারা ইতিহাসও বুঝিয়ে থাকে। ‘সাল’ হচ্ছে একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ হলো বছর। বাংলা সনের সূত্রপাত হয়েছে আরবি হিজরি সনের ওপর ভিত্তি করে।

আগেই উল্লেখিত হয়েছে বাংলাদেশের এ ক্যালেন্ডারেও মাসের হিসাব করতে কিঞ্চিৎ সমস্যা ছিল। ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে এক চান্দ্রমাস হয়। এ হিসেবে এক চান্দ্রবর্ষ হবে ৩৫৪ দিন ৯ ঘণ্টায়। আর সৌরবর্ষ হবে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিটে। প্রত্যেক সৌরবর্ষ এক চান্দ্রবর্ষ থেকে ১১ দিন বেশি। ফলে প্রতি সাড়ে ৩২ বছর পর এক চান্দ্রবর্ষ বৃদ্ধি পায়। এ পর্যন্ত হিজরি সন (চান্দ্রবর্ষ) বাংলা বা ফসলি সন (সৌরবর্ষ অপেক্ষা ১৩ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৬৩ সনে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর (১৮৮৫-১৯৬৯) নেতৃত্বে বাংলা সন সংস্কার কার্যক্রমে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই গবেষণা কমিটি ১৯৬৬ সনের ১৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করে। তারই আলোকে ১৯৮৮ সালে অধিবর্ষের ব্যবস্থাসহ দিন ও তারিখাদির অনিয়ম সংশোধন করে নিম্নবর্ণিত সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়:

১. মুঘল আমলে বাদশা আকবরের সময়ে হিজরি সনভিত্তিক যে বঙ্গাব্দ প্রবর্তন করা হয় তা থেকে বছর গণনা করতে হবে।

২. বাংলা মাস গণনার সুবিধার্থে বৈশাখ থেকে ভাদ্র পর্যন্ত প্রতি মাস ৩১ দিন হিসেবে এবং আশ্বিন থেকে চৈত্র পর্যন্ত ৩০ দিন পরিগণিত হবে।

এ সুপারিশমালায় আরো বলা হয় যে ৪ দ্বারা যে সাল বিভাজ্য হবে তা অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার বলে গণ্য হবে। সেই ভিত্তিতে বর্তমানে প্রচলিত বাংলা সন ১৯৮৮ সন থেকে কার্যকর হয়।

বাংলা সন মূলত ইসলামী হিজরি সনের ওপর নির্ভরশীল হলেও দিন ও মাসের নামকরণের ক্ষেত্রে শকাব্দের কাছেও সে কিঞ্চিৎ ঋণী। বাংলা সনে আমরা বর্তমান দিন ও মাসের যে নামগুলো ব্যবহার করি তা শকাঙ্গ থেকে গৃহীত। সপ্তাহের নামগুলো রবি, সোম, মঙ্গল ইত্যাদি গৃহীত হয়েছে গ্রহপুঞ্জ ও সূর্য থেকে। মাসের নামগুলো বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় ইত্যাদি পেয়েছি নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে। বর্তমান ভারতীয় জাতীয় সন শকাঙ্গ। রাজা চন্দ্রগুপ্ত খ্রিস্টপূর্ব ৩১৯ অব্দে ‘গুপ্তাব্দ’ প্রবর্তন করেন। এ সন পরে ‘বিক্রমাব্দ’ নামে অভিহিত হয়। এ অব্দ প্রথমে শুরু হতো চৈত্র মাস থেকে। পরবর্তী পর্যায়ে কার্তিক মাসকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে পরিচিহ্নিত করা হয়। খ্রিস্টপূর্ব ১৫ সালে ভারতে শক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। শক সনের স্মারক হিসেবে ৭৮ খ্রিস্টাব্দে শকাব্দ চালু করা হয়। সৌরভিত্তিক শকাব্দের রবিমার্গের দ্বাদশ রাশির প্রথম মেষ অন্তর্গত পূর্ণচন্দ্রিকাপ্রাপ্ত প্রথম নক্ষত্র বিশাখার নামানুসারে বছরের প্রথম মাসের নাম রাখা হয় বৈশাখ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে নাক্ষত্রিক নিয়মে বাংলা সনের মাসগুলোর নাম নক্ষত্রগুলোর নাম থেকে উদ্ভূত হয়েছে। যেমন বিশাখা নক্ষত্রের নাম অনুসারে বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠা থেকে জ্যৈষ্ঠ, শ্রাবণা থেকে শ্রাবণ, ভাদ্রপদা থেকে ভাদ্র, আশ্বিনী থেকে আশ্বিন, কার্তিকা থেকে কার্তিক, অগ্রহায়ণ থেকে অগ্রহায়ণ, পৌষা থেকে পৌষ, মঘা থেকে মাঘ, ফল্গুগুনী থেকে ফাল্গুন, চিত্রা থেকে চৈত্র। ‘ফসলি সন’ যখন প্রবর্তিত হয়, তখন ১২ মাসের নাম ছিল কারওয়াদিন, আরদিভিহিসু, খারদাদ, তীর, আমরার দাদ, শাহরিয়ার, মিহির, আবান, আহঢ়র, দার, বাহমান ও ইসকান্দর মিয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলা সনের প্রথম মাস কোনটি ছিল সে বিষয়ে কিঞ্চিৎ মতানৈক্য রয়েছে। অধিকাংশ ঐতিহাসিক অভিমত প্রকাশ করেন যে অগ্রহায়ণ হলো অগ্রাধিকার বিধায় অতীতে আমাদের নববর্ষের দিন ছিল পয়লা অগ্রহায়ণ। অর্থাৎ হায়ণ বা বছরের প্রথমে যার যে মাস তার প্রথম দিন ছিল আমাদের নববর্ষের দিন; কিন্তু ৯৬৩ হিজরিতে যখন ‘ফসলি সন’ বা ‘বাংলা সন’ শুরু করা হয়, তখন হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম বৈশাখ মাসের সঙ্গে মিশে যায়। ফলে এ দেশে পয়লা বৈশাখই ‘নওরোজ’ বা ‘নববর্ষ’ হিসেবে পরিচিহ্নিত হয়। উল্লেখ্য, ইংরেজি তথা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারেও প্রথম পয়লা মার্চ ছিল ‘নিউ ইয়ার্স ডে’, কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে পয়লা জানুয়ারি সে সম্মানজনক স্থান দখল করে নেয়। সম্রাট আকবরের সময় মাসের প্রতিটি দিনের জন্য পৃথক নাম ছিল। সম্রাট শাহজাহানের সময়কালে এ জটিল প্রথা পরিহার করে সপ্তাহের সাতটি দিনের জন্য সাতটি নাম নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে ব্যবহূত ওই সাতটি নামের সঙ্গে রোমান সাপ্তাহিক নামগুলোর সাদৃশ্য সহজেই পরিলক্ষিত হয়। অনুমিত হয় যে বাদশা শাহজাহানের দরবারে আগত কোনো ইউরোপীয় (পর্তুগিজ) মনীষীর পরামর্শক্রমে মূলত গ্রহপুঞ্জ থেকে উদ্ভূত নিম্নে বর্ণিত নামগুলোর প্রচলন করা হয়: রবি (সূর্য), সোম (চন্দ্র), মঙ্গল (মঙ্গল গ্রহ), বুধ (বুধ গ্রহ), বৃহস্পতি (বৃহস্পতি গ্রহ), শুক্র (ভেনাস) ও শনি (শনি গ্রহ) থেকে। পাশ্চাত্য জগতে রবিকে মূল করে সপ্তাহের শুরু করা হয়। বাংলা সপ্তাহও অনুরূপভাবে রবি থেকে শুরু হয়েছে। এক কথায় বিখ্যাত রাজজ্যোতিষী আমির ফতেউল্লা সিরাজি হিজরি সালকে সুকৌশলে বাংলা সনে রূপান্তরিত করেছেন। হিজরি চান্দ্র সালকে সৌর সালের হিসাবে গণনায় এনে বাংলা সালের উদ্ভব হলেও এর প্রত্যেক মাসের যে বিভিন্ন তিথির যোগসূত্র রয়েছে তা চাঁদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। চান্দ্রমাসের হিসাবে রয়েছে ৩০টি তিথি। এই তিথিগুলো দুই পক্ষে বিভক্ত আর তা হচ্ছে শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষ। এই পক্ষগুলোতে রয়েছে অমাবস্যা, প্রতিপদ, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, একাদশী, দ্বাদশী, ত্রয়োদশী, চতুর্দশী। পূর্ণিমা-অমাবস্যার গাঢ় অন্ধকার দূর করে দিয়ে পশ্চিম দিগন্তে সাঁঝের বেলায় চিকন চাঁদ উঠে নতুন আলোর আগমনের বারতা ঘোষণা করে। তা দিন দিন মোটা হতে হতে গোলাকার আলোর আগমনের থালার রূপ নেয়, আসে পূর্ণিমা। বাংলা সনের মাস গণনা সৌর হিসাবে হলেও তার অবয়বজুড়ে চাঁদের যে সম্পর্ক এবং মাসগুলোর নামকরণে যে নক্ষত্ররাজির সম্পর্ক তা লক্ষণীয়।

বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনা হয় মূলত আকবরের সময় থেকেই। সে সময় বাংলার কৃষকরা চৈত্র মাসের শেষদিন পর্যন্ত জমিদার, তালুকদার এবং অন্যান্য ভূস্বামীর খাজনা পরিশোধ করত। পরদিন নববর্ষে ভূস্বামীরা তাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। এ উপলক্ষে তখন মেলা এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। ক্রমান্বয়ে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে পয়লা বৈশাখ আনন্দময় উৎসবমুখী হয়ে ওঠে এবং বাংলা নববর্ষ শুভদিন হিসেবে পালিত হতে থাকে।

অতীতে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। এটি পুরোপুরিই একটি অর্থনৈতিক ব্যাপার। গ্রামে-গঞ্জে-নগরে ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রারম্ভে তাদের পুরনো হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে হিসাবের নতুন খাতা খুলতেন। এ উপলক্ষে তারা নতুন-পুরনো খদ্দেরদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ করতেন এবং নতুনভাবে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগসূত্র স্থাপন করতেন। চিরাচরিত এ অনুষ্ঠানটি আজও পালিত হয়।

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ: সরকারের সাবেক সচিব ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান
0 Share Comment
National/International News Group
16 April 2021, 00:26

বঙ্গাব্দের উৎপত্তি—মিশ্র সংস্কৃতির প্রভাব

বঙ্গাব্দের উৎপত্তি—মিশ্র সংস্কৃতির প্রভাব
বঙ্গাব্দের উদ্ভব ঠিক কবে থেকে, এ নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কিছু বলা যায় না। ঐতিহাসিকদের ভেতরে বঙ্গাব্দের প্রচলন ঘিরে সাধারণভাবে দুটি মত আছে। একাংশের ইতিহাসবিদরা মনে করেন; শশাঙ্কের রাজত্বকালে বঙ্গাব্দের প্রথম প্রচলন হন। ইতিহাসবিদরা আনুমানিকভাবে ৫৯০ থেকে ৬২৫ খ্রিস্টাব্দ সময়কালে শশাঙ্ক রাজত্ব করেছিলেন বলে মনে করেন। সপ্তম শতাব্দীতে শশাঙ্কের এ শাসনকাল বাংলার ইতিহাসে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সময়। ভারতে এখন ভৌগোলিক এবং রাজনৈতিকভাবে বিহার অঞ্চলটি শশাঙ্কের সাম্রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। জুলীয় বর্ষপঞ্জির ১৮ মার্চ ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দে এই ‘বঙ্গাব্দে’র সূচনা বলে একাংশের ইতিহাসবিদদের ধারণা। এ দিনটি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ।

অনেকের অনুমান মুসলমান শাসকদের সময় যে হিজরি পঞ্জিকার প্রচলন ছিল, তার ফলে নিত্যনৈমিত্তিক কাজের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হতো। কারণ, চান্দ্র মাসকে ভিত্তি করে এ হিজরি পঞ্জিকা পরিচালিত হয় (এখানে বলা দরকার, ভারতের উতাতর প্রদেশ, বিহারের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিন্দিভাষী যে হিন্দুরা আছেন, তাদের ভেতরেও এ চান্দ্রমাস অনুসরণে পঞ্জিকা ব্যবহারের রীতি আছে)। সৌর বছরের তুলনায় চান্দ্র বছর সাধারণত এগারো থেকে বারো দিন কম হয়। সৌরবছর হলো ৩৬৫ দিনের। আর চান্দ্র বছর হলো ৩৫৪ দিনের। তাই চান্দ্র বছরকে নির্ভর করলে ঋতু পরিবর্তনের সময়কাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটা সমস্যা তৈরি হয়। আর বাংলা তথা ভারতের অর্থনীতি সেই সময়ে ছিল পুরোপুরিই কৃষিনির্ভর।

মোগল সম্রাট আকবরের সময়ে যে হিজরি পঞ্জিকার প্রচলন ছিল, সেটিকে অর্থাৎ, চান্দ্র পঞ্জিকাকে রূপান্তরিত করা হয় সৌর পঞ্জিকাতে। সম্রাট আকবর সেই সময়ের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমির ফতুল্লাহ শিরাজিকে চান্দ্র বর্ষপঞ্জিকে সৌর বর্ষপঞ্জিতে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। শিরাজি সুদূর ইরান থেকে সম্রাট আকবরের রাজসভা অলংকৃত করতে এসেছিলেন। শিরাজি সুপারিশ করেন; পারস্য দেশে যে ফার্সি বর্ষপঞ্জির প্রচলন রয়েছে, সেই বর্ষপঞ্জির অনুসরণে হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জিকে সৌর বর্ষপঞ্জির প্রচলন করতে। সম্রাট আকবর শিরাজির সুপারিশ কিছুটা পরিবর্তিত আকারে মেনে নেন। সম্রাট সেই সময় থেকে ঊনত্রিশ বছর আগে, যখন তিনি সিংহাসনে বসেছিলেন, সেই সময়কালটিকেই সেই ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দটিকে হিজরি সৌর বর্ষপঞ্জি হিসেবে প্রচলন করেন। এ কারণ থেকেই হিজরি ৯৬৩ থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হয়। সেই বছর পবিত্র মহররমের মাস ছিল বৈশাখ। এখান থেকেই বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস হিসেবে বৈশাখকে ধরা হয়। আর নববর্ষ হিসেবে ধরা হয় পহেলা বৈশাখকে। তবে বঙ্গাব্দ ঘিরে ইসলামীয় প্রভাবের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই বৌদ্ধ প্রভাবের একটা ভাবনার কথাও বলে থাকেন। মধ্যকালীন ভারতে বহুত্ববাদী ভাবধারার চর্চার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে এ বঙ্গাব্দের সূচনাকাল, বাংলা নববর্ষ ঘিরে অনুপুঙ্খ আলোচনা বাঙালির চিরকালীন ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক চরিত্রচিত্রণের একটি দিকদর্শী ধারা হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

এই যে সন বা সাল শব্দটি আমরা ব্যবহার করি, এই শব্দযুগলের ব্যবহার ও হিন্দু-মুসলমানের যৌথ সাধনার একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য অঙ্গ। সন শব্দটি এসেছে আরবি থেকে আর সাল শব্দটির উৎপত্তি ফারসি থেকে। হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সংস্কৃতি বাংলার সামাজিক পরিবেশকে যুগ যুগ ধরে কীভাবে ঋদ্ধ করেছে এ শব্দ দুটির উৎপত্তি এবং বহুল প্রচলনের ভেতর দিয়েই তা পরিষ্কার হয়ে যায়। সন এবং সাল—এ শব্দ দুটি যেভাবে বঙ্গাব্দের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আছে, বাংলা নববর্ষ, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে, সেভাবে কিন্তু এ শব্দ দুটির উৎপত্তি ঘিরে দুই বাংলাতেই আলাপ-আলোচনা হয় না। পবিত্র ইসলাম বাংলার সংস্কৃতিকে কীভাবে সমৃদ্ধ করেছে, বাংলা নববর্ষের, বঙ্গাব্দের আলোচনা প্রসঙ্গে এ বিষয়গুলো খানিকটা অনালোচিতই থেকে যায়। রাজা শশাঙ্ককে ঘিরে আবেগ তৈরি করতে গিয়ে বঙ্গাব্দ ঘিরে বহুল প্রচলিত সন, সাল শব্দ দুটির প্রতি সমাজতাত্ত্বিকরা সেভাবে নজরই দেননি। ফলে হিন্দু-মুসলমানের প্রভাবহীন মিশ্র সংস্কৃতি বাংলার সাংস্কৃতিক চেতনাকে মধ্যকালীন সময়কালে এ বঙ্গাব্দের সূচনাকে কেন্দ্র করে কতখানি উচ্চসুরে বেঁধেছিল, তার সম্যক চর্চা প্রায় হয়ইনি।

আকবরের সময়কালে এ বঙ্গাব্দকে তারিখ ই ইলাহি বলার প্রচলন ছিল বলেও অনেকের অভিমত। সেখান থেকে সম্রাট শাহজাহানের সময়কালে রোববারকে কেন্দ্র করে সপ্তাহের সাতটি দিন নির্ধারিত হতে শুরু করে—এমনটাও একাংশের ইতিহাসবিদদের অভিমত। মোগল শাসনকালে যে চান্দ্র বর্ষপঞ্জিকে কেন্দ্র করে প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করা হতো, সেই চান্দ্রমাসের হিসাব থেকে বেশকিছু জটিলতা দেখা দিত। চান্দ্রমাসকে কেন্দ্র করে ঋতুজনিত যে ফারাকটা তৈরি হতো, সেই ফারাকের কারণে ফসল তোলার সময়ের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়েই সামঞ্জস্য থাকত না। আর এ সামঞ্জস্য না থাকার কারণে খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতো। সেই সমস্যার নিরসনের বাস্তব প্রয়োজন থেকে এ সৌর বর্ষপঞ্জির প্রচলন, বঙ্গাব্দ, বাংলা নববর্ষের রেওয়াজ চালুর একটা বড় রকমের আর্থসামাজিক তাৎপর্যও রয়েছে। এই সৌর বর্যপঞ্জি বা বাংলা সালকে ধরে বঙ্গাব্দ শব্দটির প্রচলনের সঙ্গেই খাজনা প্রদানের উৎসবের আয়োজন ও সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকেই শুরু হয়।

খাজনা প্রদানকে কেন্দ্র করে যে উৎসবের প্রচলন সম্রাট আকবরের আমলে শুরু হয়েছিল, সেটিই কোনো রকম ধর্মীয় দ্যোতনা ব্যতিরেকে, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালির কাছে একটি অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব হিসেবে ক্রমে পরিগণিত হতে শুরু করে। ইরানীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতুল্লাহ সিরাজি চান্দ্র ইসলামীয় বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সৌর বর্ষপঞ্জির অভূতপূর্ব সেতুবন্ধন করে যে বর্ষপঞ্জি তৈরি করেছিলেন তা বাঙালি সংস্কৃতিকে ধর্মীয় নিগড়ের বাইরে একটা সাংস্কৃতিক, সামাজিক পটভূমিকার ওপর স্থাপিত করতে বিশেষভাবে সাহায্য করেছিল। ’৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন, ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ যে সাংস্কৃতিক ভিত্তির ওপর বাঙালি জাতিসত্তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, সেই জাতিসত্তার অঙ্কুর স্থাপিত হয়েছিল সম্রাট আকবরের শাসনকাল, মধ্যকালীন ভারতে এ বঙ্গাব্দের প্রচলনের ভেতর দিয়ে।

মোগল প্রতিনিধি হিসেবে মুর্শিদকুলী খাঁ পুণ্যাহের রীতির যে প্রচলন করেছিলেন, সেই রীতি সময়ের নিরিখে সামন্ততান্ত্রিক শোষণের একটি ধারাতে পরিণত হলেও নতুন বছরের শুরুকে কেন্দ্র করে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম ব্যতিরেকে একটা সামাজিক প্রথার প্রচলন সেখান থেকেই শুরু হয়। এখন হিন্দু সমাজের ভেতরে নববর্ষ আর হালখাতাকে কেন্দ্র করে নতুন খাতার পূজার্চনার সঙ্গে যে দেব-দেবীদের সম্পৃক্ত করে ফেলা হয়েছে, সেটি পরবর্তী সময়ের সংযোজন। নববর্ষের সূচনায় যে খাজনা প্রদানের রীতি বা পুণ্যাহের রীতি অভিভক্ত বাংলায় জমিদারি প্রথার সঙ্গে যুক্ত ছিল, সেগুলোর সঙ্গে দেব-দেবীর পূজার্চনার কোনো সম্পর্ক ভারতভাগের আগে পর্যন্ত সচরাচর দেখা যায়নি। প্রবন্ধকারের পিতা ১৯৪৪ সালে তাঁদের এস্টেট অবিভক্ত পাবনার সাফল্লাতে নিয়মিত পুণ্যাহে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময়ের প্রচলিত পুণ্যাহের সঙ্গে এতটুকু ধর্মীয় অনুষঙ্গের যোগ ছিল না। ছিল সামাজিক বন্ধনরি যোগ। খাওয়া-দাওয়া, কুশল বিনিময় ইত্যাদি। নববর্ষের সঙ্গে হালখাতাকে সংযুক্ত করে তার ধর্মীয় অনুষঙ্গ দানের বিষয়টি নির্মিত হয়েছে মূলত বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীদের ভেতর থেকে। তত্কালীন পূর্ববঙ্গের গন্ধবণিক, স্বর্ণবণিক ইত্যাদি যে ব্যবসায়ীরা ছিলেন, তারা গন্ধেশ্বরী দেবীর পূজার্চনাকে কেন্দ্র করে তাদের ব্যবসায়ের নতুন খাতা শুরু করতেন। এ প্রথা তারা ভারতভাগের পর পশ্চিমবঙ্গে এসেও বজায় রেখেছেন। কলকাতাকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা এ হালখাতা বিষয়টির সঙ্গে বিশেষ বিশেষ মন্দিরে পুজো দেয়া, নিজেদের দোকানে পুজো করা ইত্যাদির ভেতর দিয়ে এটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের নিগড়ে পরিবর্তিত করেছেন।

গৌতম রায়: লেখক ও ইতিহাস বিশ্লেষক
0 Share Comment
National/International News Group
16 April 2021, 00:25

চৈত্র-বৈশাখে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোক-উৎসব

চৈত্র-বৈশাখে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোক-উৎসব
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা কীভাবে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়? চৈত্র-বৈশাখে তাদের উৎসবগুলো কেমন? সেসব জানতে ঘুরে বেড়িয়েছি সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গ্রামগুলোতে। খুব কাছ থেকে দেখেছি তাদের উৎসবকেন্দ্রিক আচারগুলোও। তা জানাতেই এ লেখার অবতারণা।

সমতলের পাহান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের দিয়েই শুরু করছি। গবেষকরা মনে করেন মুণ্ডা জাতির পুরোহিতরাই ‘পাহান’ নামে পরিচিত। কিন্তু বাংলাদেশে বসবাসরত পাহানরা নিজেদের আলাদা জাতি হিসেবেই পরিচয় দেয়। এদের পূর্বপুরুষরা এসেছে ভারতের ছোট নাগপুর ও রাঁচি থেকে। অধিকাংশের বসবাস উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর, বগুড়া ও নওগাঁয়।

বৈশাখের আদি রীতি অনুসারে এ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা নতুন বছরের প্রথম সকালে পান্তা ভাত খায়। কেন? এমন প্রশ্নের উত্তর মেলে সত্তর বছর বয়সী শ্যামল পাহানের মুখে। তার বাড়ি দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের শালবনের ভেতরে, পাহান গ্রামে। গানের সুরে তার উত্তরটি ছিল এমন—

‘হামে লাগে প্রথমে আদি বাসীই

পনতা ভাত ভালোবাসি...’

ওই দিন দুপুরে ভাতের সঙ্গে এরা ১২ ভাজা অর্থাৎ ১২ পদের তরকারি রান্না করে। সন্ধ্যায় ঠাকুরকে ভক্তি দিয়ে নাচগানের আয়োজনও করে এরা।

বৈশাখের মতো চৈত্রের শেষদিনেও পাহানরা পালন করে নানা আচার। ওইদিন বাড়িঘর পরিষ্কার করে একে অন্যের গায়ে কাদা আর রং ছিটায় এরা। পূর্বপুরুষদের রীতি অনুসারে যার গায়ে কাদা বা রং দেয়া হয় তাকেই খেতে দিতে হয় প্রিয় পানীয় হাঁড়িয়া। পাহানরা বিশ্বাস করে এতে তাদের বন্ধুত্ব আরো সুদৃঢ় হয়। চৈত্রের শেষদিন এবং বৈশাখের প্রথম দিনের এ উৎসবকে পাহানরা বলে সিরুয়া-বিসুয়া।

এছাড়া তারা চৈত্র মাসেই চৈতালিপূজার আয়োজন করে। রোগ থেকে মুক্তি পেতে ঠাকুরের কৃপালাভই এ পূজার উদ্দেশ্য। আগের রাতে উপোস থেকে পরেরদিন দুপুরে পূজার প্রসাদ দিয়ে উপোস ভাঙাই এর নিয়ম। মঈনকাটা বা বেলগাছের নিচে মাটির উঁচু ডিবি তৈরি করে, লাল নিশান আর ধূপ কাঠি টাঙ্গিয়ে, পান, সুপারি, দুধ, কলা, দূর্বাঘাস, বাতাসা, কদমফুল, সিঁদুর, হাঁড়িয়া দিয়ে ধূপ জ্বালিয়ে ঠাকুরকে পূজা দেয়া হয় চৈতালিপূজায়। একই সঙ্গে বলি দেয়া হয় মানতের কবুতর, হাঁস কিংবা পাঁঠা। পূজা শেষে চলে খিচুড়ি খাওয়া। রাতভর চলে হাঁড়িয়া খাওয়া আর নাচ-গান।

পাহানদের মতো সাঁওতালদের আদি উৎসবগুলোও আবর্তিত হয় নানা ঋতুকে ঘিরে। আদি আচার পালনের মাধ্যমে এরা যেমন নতুন বছরকে বরণ করে, তেমনি চৈত্রের শেষে বাহাপরব উৎসব পালন করে ধুমধামের সঙ্গে। দিনাজপুরের মহেশপুর গ্রামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বাহাপরব ও বৈশাখ উদযাপন প্রত্যক্ষ করেছি খুব কাছ থেকে।

সাঁওতালদের ভাষায় ‘বাহা’ মানে ‘ফুল’ আর ‘পরব’ মানে ‘অনুষ্ঠান’ বা ‘উৎসব’। শালফুলকে সাঁওতালরা বলে ‘সারজম বাহার’। বাহাপরবের অনুষ্ঠানে এরা শালফুলকে বরণ করে নেয় কিছু আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে। এর আগে সাঁওতাল নারীরা ফুল ব্যবহার থেকে বিরত থাকে।

এ উৎসবে গোত্রপ্রধান উপোস অবস্থায় পুজো দেন বোঙ্গার (দেবতা) সন্তুষ্টি লাভের জন্য। একটু উঁচু জায়গায় তিনটি ধনুক গেড়ে দেয়া হয়। কুলার মধ্যে রাখা হয় চাল, সিঁদুর, ধান, দূর্বা ঘাস আর বেশকিছু শালফুল। উৎসবের প্রথমদিন পুজোর মাধ্যমে প্রথমে মুরগি বলি দেয় এরা। অতঃপর সাঁওতাল নারীরা শালফুল গ্রহণ করেন নানা আনুষ্ঠানিকতায়। একই সঙ্গে ওই দিনই বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিলি করা হয় শালফুল। যে ফুল বিলি করে তাকে পা ধুয়ে বাড়ির ভেতরে নেয়া হয়। সাঁওতালদের বিশ্বাস এভাবে ফুল রূপে দেবতা বা বোঙ্গাই তার ঘরে প্রবেশ করে।

দ্বিতীয় দিনে সাঁওতালরা একে অন্যের গায়ে পানি ছিটানো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এদের বিশ্বাস পানি ছিটানোর মধ্য দিয়ে পুরনো যত হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা আছে তা দূর হয়ে যায়। বাহাপরবের তৃতীয় দিনটিতে চলে শুধুই নানা আনন্দ আয়োজন। খোঁপায় শালসহ নানা রঙের ফুল ঝুলিয়ে, হাত ধরাধরি করে নাচেন নারীরা। কণ্ঠ আকাশে তুলে তারা গায়:

‘তোকয় কোকে চিয়ে লেদা বীর দিসাম দঃ,

তোকয় কোকে টান্ডি লেদা বীর দিসাম দঃ..’

বৈশাখের প্রথম প্রহরে সাঁওতালরা পুরনো বছরের পান্তা খেয়ে নতুন বছরের শুভ সূচনা করে। অতঃপর তাদের একদল তীর-ধনুক নিয়ে বেরিয়ে পড়ে শিকারে। অন্যরা দলবেঁধে নদীতে ছোটে মাছ মারতে। মাছ মারাকে সাঁওতালরা বলে ‘হাকু গোজ চালাও’। নারীরা বাড়ি বাড়ি তেলের ও চিতল পিঠা তৈরি করতে থাকে। দুপুরে নানা পদ দিয়ে ভোজ সেরে নেয় এরা। এক সময় সাঁওতালরা বৈশাখে বিশ পদের রান্না দিয়ে ভোজ সারত। বিকাল থেকে সাঁওতাল গ্রামগুলোতে আয়োজন চলে ঝুমুর নাচের। সাঁওতাল নারীরা দলবেঁধে হাত ধরাধরি করে নেচেগেয়ে বরণ করে নেয় নতুন বছরকে। রাতভর চলে প্রিয় পানীয় হাঁড়িয়া খাওয়া।

তুরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের উৎসব দেখতে একবার আমাদের পায়ের ছাপ পড়ে দিনাজপুরের লোহাডাঙ্গা গ্রামে। দারিদ্র্যের মধ্যেও এরা আঁকড়ে রেখেছে পূর্বপুরুষদের জাতধর্ম আর সংস্কৃতিটাকে। পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে এরা বরণ করে নেয় আদি রীতিতে।

তুরিরা চৈত্র মাসের শেষ পাঁচদিন চৈতাবলি অনুষ্ঠান পালন করে। শুরুর দিন থেকেই এরা ছাতুগুড় খেয়ে নাচগান করে। চৈত্রের শেষদিন এরা বাড়িতে রান্না করে সাত পদের তরকারি। চৈত্রকে বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে চলে নাচ-গান পর্ব।

চৈত্রের পরের দিনই বৈশাখ। কিন্তু বৈশাখ শুরু হলেই তুরিরা বন্ধ করে দেয় মাছ-মাংস খাওয়া। পুরো এক মাস এরা খায় শুধুই নিরামিষ। বৈশাখের প্রতি রাতে তুরি পাড়াতে চলে কীর্তন। কীর্তন করতে হয় শুধুই পুরুষদের। সৃষ্টিতত্ত্ববিষয়ক কীর্তনই অধিক গাওয়া হয়। এ সময় দূর-দূরান্ত থেকে নানা বিশ্বাসের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা ভিড় জমায় তুরি পাড়ায়। বৈশাখের শেষের দিকে এরা প্রতি বাড়ি থেকে চাল তুলে একত্রে খিচড়ি রান্না করে খায়। ওইদিন আয়োজন হয় গান আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নৃত্যের। এভাবেই বছরের প্রথম দিন থেকেই সৃষ্টিকর্তার কৃপালাভের আশায় চলে তুরিদের আদি আচারগুলো।

অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মতো ভুনজারদের জীবনপ্রবাহও নানা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে আবর্তিত হয়। চৈত্র মাসের শেষদিন আর বৈশাখ মাসের প্রথম দিনটি এরা পালন করে বিশেষ আচারের মাধ্যমে। তাদের ভাষায় এটি চৈত-বিসিমা উৎসব। এ উৎসবের অংশ হিসেবে চৈত্র মাসের শেষ সন্ধ্যায় বাসন্তী পূজা হয়। কেন এমন আচার? এর উত্তর মেলে দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী বহবলদীঘির ভুনজার গ্রামের প্রধান বাতাসু ভুনজারের মুখে।

একসময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গ্রামগুলোতে চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না। তখন ডায়রিয়া আর বসন্তে মারা যেত শত শত লোক। রোগ থেকে মুক্তি পেতেই ভুনজাররা মাটির ঘটিতে আমপাতা, কলা, নারকেল, ধূপ আর চার ফোঁটা সিঁদুর দিয়ে ঠাকুরের পূজা করে। বসন্ত রোগ থেকে মুক্তির পূজা বলেই এর নামকরণ হয়েছে বাসন্তী পূজা। কেউ কেউ এদিনেই বলি দেয় মানতের হাঁস, মুরগি কিংবা পাঁঠা। এর আগে চৈত্রের শেষ শুক্রবার এরা উপোস থাকে। উদ্দেশ্য ঠাকুরের সন্তুষ্টি ও রুজি বৃদ্ধি। উপোস অবস্থায় খাওয়া যায় শুধুই ফলমূল আর দুধ। বাসন্তী পূজা শেষে ভুনজাররা কালাইসহ নানা ধরনের ছাতু-গুড় খেয়ে আনন্দ ফূর্তিতে মেতে ওঠে। রাতভর চলে নাচের আসর।

বৈশাখের প্রথম দিন খুব ভোরে ভুনজাররা দলবেঁধে বেরিয়ে পড়ে শিকারের উদ্দেশ্যে। তবে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে এরা কাঁচামরিচ আর পেঁয়াজ দিয়ে সেরে নেয় পান্তা খাওয়া। এদের বিশ্বাস পান্তা খেলে সারা বছর গায়ে রোদ লাগলেও তারা কষ্ট পাবে না। পান্তার পানি বছরজুড়ে তাদের শরীরকে ঠাণ্ডা রাখবে। শিকার থেকে ফিরে ওই দিন বিকালেই শিকারগুলো দিয়ে এরা সম্মিলিতভাবে খিচুড়ি রান্না করে। রাতভর চলে নাচ-গান আর প্রিয় পানীয় হাঁড়িয়া খাওয়া। এভাবেই নতুন বছরকে বরণ করে নেয় ভুনজাররা।

আবার ওরাওঁ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা আদি থেকেই কৃষি পেশার সঙ্গে যুক্ত। তাই এদের উৎসবগুলোও আবর্তিত হয় ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে। বৈশাখের প্রথম প্রহরেই এরা দলবেঁধে শিকারে বের হয় তীর-ধনুক নিয়ে। কিন্তু তার আগেই এরা পুজো দেয় বাঘমন্ত্রীকে। এদের বিশ্বাস এটা না করলে শিকার তো মিলবেই না বরং জীবন হারানোর মতো বিপদ ঘটবে। ওইদিন রাতে চলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নাচ-গান আর প্রিয় পানীয় হাঁড়িয়া খাওয়া। এভাবে বছরের প্রথম দিনটিকে এরা দলবদ্ধতা ও বীরত্বের প্রতীক হিসেবে নানা আচার পালনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করে।

এদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের রয়েছে হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত নিজস্ব আচার, উৎসব ও সংস্কৃতি। দারিদ্র্য ও সংখ্যাগরিষ্ঠের আগ্রাসী সংস্কৃতির চাপে আজ তা প্রায় বিপন্ন। তবুও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা ধরে রেখেছেন নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উৎসবগুলোকে। যুগে যুগে যা সমৃদ্ধ করেছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাহিত্যকে।



সালেক খোকন: লেখক ও গবেষক
0 Share Comment
National/International News Group
16 April 2021, 00:20

শকাব্দ থেকে বঙ্গাব্দের জন্মকথা

শকাব্দ থেকে বঙ্গাব্দের জন্মকথা


বঙ্গাব্দের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শকাব্দ। এটি ভারতবর্ষে প্রচলিত একটা প্রাচীন অব্দ। শকাব্দের উৎপত্তি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে যেমন মতভেদ আছে, তেমনি এর উৎস সম্পর্কে বিশদ জানাও যায় না। তবে বলা হয়ে থাকে শক-ক্ষত্রপদের (১৩০-৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ) উদ্ভবের সঙ্গে এ শকাব্দের জন্মের যোগসূত্র রয়েছে। তাদের নিজস্ব দলিলপত্রে রাজ্যাভিষেকভিত্তিক সনের উল্লেখ রয়েছে, কিন্তু সরাসরি শকাব্দ নেই। তবে তাদের বর্ষই যে পরবর্তী সময়ে শকাব্দে পরিণত হয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই।

শকাব্দের প্রারম্ভ বছর নিয়েও বিতর্ক আছে। কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, এটি ৮৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। আবার কারো মতে এর শুরু ১২০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে। কেউবা মনে করেন, এটি ১২৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। তবে প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আলবেরুনী উল্লেখ করেছেন যে বিক্রমাব্দ ও শকাব্দের মধ্যে পার্থক্য ১৩৫ বছর এবং শকাব্দের যাত্রা পরে। সুতরাং বিক্রমাব্দের শুরু ৫৭ খ্রিস্টপূর্ব হলে শকাব্দের শুরু ৭৮ খ্রিস্টাব্দে। পরবর্তী বেশির ভাগ ঐতিহাসিকই আলবেরুনীর তথ্যকেই সঠিক মনে করেন। মূলত প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ ‘সূর্য সিদ্ধান্তের’ সৌরবর্ষ গণনার বিধি মেনেই শকাব্দের মাস ও দিন গণনা করা হতো। অর্থাৎ রবিসংক্রান্তি অনুসারে এ অব্দে ক্ষণগণনার রীতি।

ভারতবর্ষে যে কয়টি অঞ্চলে শকাব্দের প্রচলন বেশি ছিল তার মধ্যে রয়েছে পাঞ্জাব, দাক্ষিণাত্য, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, রাজস্থান, দিল্লি ও তামিলনাড়ু। এ তালিকায় বাংলা অঞ্চলের নামও ছিল। এমনকি তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খিলজির বঙ্গবিজয়ের পরও এখানে শকাব্দের প্রচলনের প্রমাণ মেলে। পরে তিনি শকাব্দের পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে হিজরি সনের ব্যবহার শুরু করেন। এ হিজরি সন অনুযায়ী চাষিরা জমির খাজনা দিতেন ফসল ওঠার অব্যবহিত পর। হিজরি সন চান্দ্রমাস অনুযায়ী হওয়ার ফলে ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে রাজস্ব ব্যবস্থার সংগতি আনা কিছুতেই সম্ভব হচ্ছিল না। এদিকে অসময়ে খাজনা দিতে গিয়ে চাষিরা পড়ছিলেন চরম বিপাকে। সম্রাট আকবরের শাসনকালের ২৯ বছর পর এ সমস্যা সমাধানের পন্থা নিয়ে কথা ওঠে।

আকবরের রাজদরবারের খ্যাতিমান ঐতিহাসিক আবুল ফজল (নবরত্নের একজন) রীতিমতো হিসাব করে বুঝিয়ে দেন যে ৩২টি সৌরবর্ষ ৩৩টি চান্দ্রবর্ষের সমান হওয়ায় চাষিরা অতিরিক্ত এক বছরের খাজনা দিতে বাধ্য হবেন। খাজনা আদায় যাতে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে হয় এবং চাষিদের যাতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত খাজনা না দিতে হয়, সে কথা মাথায় রেখে সম্রাটের নির্দেশ অনুযায়ী রাজজ্যোতিষী ফতেহউল্লাহ শিরাজি চান্দ্রমাস ও সৌরমাসভিত্তিক এক নতুন পঞ্জিকা তৈরি করেন। এর পেছনে শুধু খাজনা আদায়ে সুবিধা নয়, আকবরের ধর্মীয় চেতনা ও রাজনৈতিক অভিলাষও কাজ করেছিল। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সব জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি সর্বভারতীয় জাতি গড়তে চেয়েছিলেন তিনি। সেজন্য তিনি একটি অভিনব সমন্বয়বাদী ধর্ম প্রচার করেন। নাম দেন দীন-ই-ইলাহী। প্রচলন করেন ইলাহী মুদ্রাও। মুদ্রা ও শিলালিপিতে আরবির পরিবর্তে ফারসি ভাষা চালু করেন। একই উদ্দেশ্যে নতুন সনও প্রবর্তন করেন, যার নাম দেয়া হয় তারিখ-ই-ইলাহী।

আকবর সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন ১৫৫৬ সালে বা ৯৬৩ হিজরিতে আর নতুন পঞ্জিকা চালু হয় ১৫৮৪ সালে। পরে চালু হলেও সম্রাটের সিংহাসনে আরোহণের স্মৃতিকে চিরভাস্বর করে রাখতে ফতেহউল্লাহ ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ বা ৯৬৩ হিজরি সনকে মূল ধরে তারিখ-ই-ইলাহী বিন্যাস করেন। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার, ফতেহউল্লাহ শিরাজি কিন্তু নতুন পঞ্জিকাটি চালু করার সময় চান্দ্রমাসের আরবীয় মডেল ব্যবহার করেননি, করেছিলেন পারস্য মডেল, যা শকাব্দের মতোই সৌরমাসভিত্তিক ছিল। ১৫৮৫ সাল থেকে ফতেহউল্লাহ শিরাজি উদ্ভাবিত এ নতুন সাল ‘ফসলি সন’ নামে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপকভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করে।

পরবর্তী সময়ে এ ফসলি সনই বাংলা সাল বা ‘বঙ্গাব্দ’ নাম ধারণ করে। প্রথমদিকে তারিখ-ই-ইলাহির মাসগুলো ছিল যথাক্রমে ফারওয়ারদীন, আর্দিবিহিশত, খুরদাদ, তীর, মুরদাদ, শাহরীয়ার, মিহির, আবান, আজার, দে, বাহমান ও ইসপন্দর। যদিও পরবর্তী ঠিক কোন সময়ে মাসগুলোর নাম বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ইত্যাদিতে বিবর্তিত হয়, সে ব্যাপারে ঐতিহাসিকরা নির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারেননি। তবে এটা নিশ্চিত, নাক্ষত্রিক নিয়মে বাংলা সনের মাসগুলোর নামকরণ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এ নামগুলো নেয়া হয়েছে ৭৮ খ্রিস্টাব্দে সাকা জাতির রাজত্বের সময় প্রচলিত শকাব্দ থেকে: ১. বিশাখা থেকে বৈশাখ। ২. জাইষ্ঠা থেকে জ্যৈষ্ঠ। ৩. আষাঢ়া থেকে আষাঢ়। ৪. শ্রাবণা থেকে শ্রাবণ। ৫. ভাদ্রপাদা থেকে ভাদ্র। ৬. আশ্বিনী থেকে আশ্বিন। ৭. কৃতিকা থেকে কার্তিক। ৮. পূস্যা থেকে পৌষ। ৯. আগ্রৈহনী থেকে অগ্রহায়ণ। ১০. মাঘা থেকে মাঘ। ১১. ফাল্গুণী থেকে ফালগুণ। ১২. চিত্রা থেকে চৈত্র।

বাংলা সনের প্রথম বছর ছিল ৯৬৩ হিজরি। এর আগে কোনো বাংলা সন নেই। সঠিক হিসাবের জন্য পরিবর্তিত বাংলা সালের দৈর্ঘ্য হয় ৩৬৫ দিন। কিন্তু সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড লাগে। এ বাড়তি সময়টা সমন্বয়ে গ্রেগরীয় বর্ষে প্রতি চার বছর পরপর ফেব্রুয়ারি মাসের সঙ্গে একদিন যোগ করা হয়। শুরুর দিকে বাংলা সনে এ অতিরিক্ত সময়কে গণনায় নেয়া হয়নি। পরে এ ঘাটতি দূর করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

বাংলা সনের প্রথম মাস হিসেবে বৈশাখ হওয়ার গল্পটিও মজার। ‘তারিখ-এ-ইলাহি’র আগে বাঙালিরা প্রচলিত শকাব্দ অনুযায়ী চৈত্র মাসকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে ব্যবহার করত। পরে যখন ৯৬৩ হিজরিতে হিজরি পঞ্জিকার প্রথম মাস ‘মহররম’ বৈশাখ মাসে শুরু হয়, তার সঙ্গে মিল রেখে চৈত্রের বদলে বৈশাখকেই ধরা হয় ‘তারিখ-এ-ইলাহির’ প্রথম মাস। এরপর ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে ও ড. মুহাম্মুদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে প্রচলিত বাংলা পঞ্জিকার সংস্কার করা হয়। ড. শহীদুল্লাহ বৈশাখ থেকে ভাদ্র মাস ৩১ দিনে এবং আশ্বিন থেকে চৈত্র ৩০ দিনে গণনার সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে তিনি কেবল লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষের অতিরিক্ত দিনটি ফাল্পুন মাসে জুড়ে দেয়ার কথা বলেন এবং লিপ ইয়ার গ্রেগরীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী বিবেচনা করতে বলেন। সরকার শহীদুল্লাহর প্রস্তাবগুলো মেনে নিয়ে ১৯৮৭ থকে তা সরকারিভাবে চালু করে। তারপর থেকেই বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল নববর্ষ পালন করা হয়।

মোটা দাগে এ হলো শকাব্দ থেকে বঙ্গাব্দের জন্মবৃত্তান্ত। শুধু শকাব্দ নয়, বঙ্গাব্দের সঙ্গে ইসলামী হিজরি ও খ্রিস্টান গ্রেগরীয় পঞ্জিকাও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এটা অস্বীকার করার জো নেই। অথচ দুঃখজনক বিষয় হলো, আমরা এ নিজস্ব ঐতিহ্য সম্পর্কে ব্যাপকভাবে উদাসীন এবং বংলা পঞ্জিকাকে নিছকই ব্যবসায়ীদের হালখাতার একটা অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করি। অন্য ক্ষেত্রে অনেকটা একে অবহেলা করি। এ ধরনের মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা জরুরি।

মনে রাখা চাই, আমাদের আর্থসামাজিক বাস্তব জীবনযাত্রা ও বিশাল গ্রামীণ জনপদের প্রায় প্রতিটি কর্মকাণ্ড ও উৎসব-অনুষ্ঠানে বাংলা সনের ব্যবহার ব্যাপক ও অপরিহার্য। সেই বিবেচনায় এ সন আমাদের জাতীয় জীবনে বেশ গুরুত্ববহ; সামাজিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ। এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত ও আলোচিত তথ্যগুলো আকবরের আমলে চান্দ্র হিজরি অব্দের সংস্কারের মধ্যেই বঙ্গাব্দের সূচনার ইঙ্গিত দেয়। এর বিপরীত কোনো ঘটনা নির্দেশক বিশ্বাসযোগ্য তথসূত্র আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এ মতই গ্রহণযোগ্য। বাংলা সন আমাদের প্রাত্যহিক জীবন ও কৃষিব্যবস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এটি নিয়ে উন্মোচনমূলক, বিস্তৃত গবেষণার অবকাশ রয়েছে। নতুন প্রজন্মের গবেষকরা এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে সচেষ্ট হবে বলে ধারণা।

হুমায়ুন কবির: সাংবাদিক

0 Share Comment
National/International News Group
16 April 2021, 00:15

বঙ্গাব্দের উৎপত্তি—মিশ্র সংস্কৃতির প্রভাব

বঙ্গাব্দের উৎপত্তি—মিশ্র সংস্কৃতির প্রভাব
বঙ্গাব্দের উদ্ভব ঠিক কবে থেকে, এ নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কিছু বলা যায় না। ঐতিহাসিকদের ভেতরে বঙ্গাব্দের প্রচলন ঘিরে সাধারণভাবে দুটি মত আছে। একাংশের ইতিহাসবিদরা মনে করেন; শশাঙ্কের রাজত্বকালে বঙ্গাব্দের প্রথম প্রচলন হন। ইতিহাসবিদরা আনুমানিকভাবে ৫৯০ থেকে ৬২৫ খ্রিস্টাব্দ সময়কালে শশাঙ্ক রাজত্ব করেছিলেন বলে মনে করেন। সপ্তম শতাব্দীতে শশাঙ্কের এ শাসনকাল বাংলার ইতিহাসে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সময়। ভারতে এখন ভৌগোলিক এবং রাজনৈতিকভাবে বিহার অঞ্চলটি শশাঙ্কের সাম্রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। জুলীয় বর্ষপঞ্জির ১৮ মার্চ ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দে এই ‘বঙ্গাব্দে’র সূচনা বলে একাংশের ইতিহাসবিদদের ধারণা। এ দিনটি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ।

অনেকের অনুমান মুসলমান শাসকদের সময় যে হিজরি পঞ্জিকার প্রচলন ছিল, তার ফলে নিত্যনৈমিত্তিক কাজের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হতো। কারণ, চান্দ্র মাসকে ভিত্তি করে এ হিজরি পঞ্জিকা পরিচালিত হয় (এখানে বলা দরকার, ভারতের উতাতর প্রদেশ, বিহারের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিন্দিভাষী যে হিন্দুরা আছেন, তাদের ভেতরেও এ চান্দ্রমাস অনুসরণে পঞ্জিকা ব্যবহারের রীতি আছে)। সৌর বছরের তুলনায় চান্দ্র বছর সাধারণত এগারো থেকে বারো দিন কম হয়। সৌরবছর হলো ৩৬৫ দিনের। আর চান্দ্র বছর হলো ৩৫৪ দিনের। তাই চান্দ্র বছরকে নির্ভর করলে ঋতু পরিবর্তনের সময়কাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটা সমস্যা তৈরি হয়। আর বাংলা তথা ভারতের অর্থনীতি সেই সময়ে ছিল পুরোপুরিই কৃষিনির্ভর।

মোগল সম্রাট আকবরের সময়ে যে হিজরি পঞ্জিকার প্রচলন ছিল, সেটিকে অর্থাৎ, চান্দ্র পঞ্জিকাকে রূপান্তরিত করা হয় সৌর পঞ্জিকাতে। সম্রাট আকবর সেই সময়ের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমির ফতুল্লাহ শিরাজিকে চান্দ্র বর্ষপঞ্জিকে সৌর বর্ষপঞ্জিতে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। শিরাজি সুদূর ইরান থেকে সম্রাট আকবরের রাজসভা অলংকৃত করতে এসেছিলেন। শিরাজি সুপারিশ করেন; পারস্য দেশে যে ফার্সি বর্ষপঞ্জির প্রচলন রয়েছে, সেই বর্ষপঞ্জির অনুসরণে হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জিকে সৌর বর্ষপঞ্জির প্রচলন করতে। সম্রাট আকবর শিরাজির সুপারিশ কিছুটা পরিবর্তিত আকারে মেনে নেন। সম্রাট সেই সময় থেকে ঊনত্রিশ বছর আগে, যখন তিনি সিংহাসনে বসেছিলেন, সেই সময়কালটিকেই সেই ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দটিকে হিজরি সৌর বর্ষপঞ্জি হিসেবে প্রচলন করেন। এ কারণ থেকেই হিজরি ৯৬৩ থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হয়। সেই বছর পবিত্র মহররমের মাস ছিল বৈশাখ। এখান থেকেই বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস হিসেবে বৈশাখকে ধরা হয়। আর নববর্ষ হিসেবে ধরা হয় পহেলা বৈশাখকে। তবে বঙ্গাব্দ ঘিরে ইসলামীয় প্রভাবের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই বৌদ্ধ প্রভাবের একটা ভাবনার কথাও বলে থাকেন। মধ্যকালীন ভারতে বহুত্ববাদী ভাবধারার চর্চার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে এ বঙ্গাব্দের সূচনাকাল, বাংলা নববর্ষ ঘিরে অনুপুঙ্খ আলোচনা বাঙালির চিরকালীন ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক চরিত্রচিত্রণের একটি দিকদর্শী ধারা হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

এই যে সন বা সাল শব্দটি আমরা ব্যবহার করি, এই শব্দযুগলের ব্যবহার ও হিন্দু-মুসলমানের যৌথ সাধনার একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য অঙ্গ। সন শব্দটি এসেছে আরবি থেকে আর সাল শব্দটির উৎপত্তি ফারসি থেকে। হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সংস্কৃতি বাংলার সামাজিক পরিবেশকে যুগ যুগ ধরে কীভাবে ঋদ্ধ করেছে এ শব্দ দুটির উৎপত্তি এবং বহুল প্রচলনের ভেতর দিয়েই তা পরিষ্কার হয়ে যায়। সন এবং সাল—এ শব্দ দুটি যেভাবে বঙ্গাব্দের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আছে, বাংলা নববর্ষ, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে, সেভাবে কিন্তু এ শব্দ দুটির উৎপত্তি ঘিরে দুই বাংলাতেই আলাপ-আলোচনা হয় না। পবিত্র ইসলাম বাংলার সংস্কৃতিকে কীভাবে সমৃদ্ধ করেছে, বাংলা নববর্ষের, বঙ্গাব্দের আলোচনা প্রসঙ্গে এ বিষয়গুলো খানিকটা অনালোচিতই থেকে যায়। রাজা শশাঙ্ককে ঘিরে আবেগ তৈরি করতে গিয়ে বঙ্গাব্দ ঘিরে বহুল প্রচলিত সন, সাল শব্দ দুটির প্রতি সমাজতাত্ত্বিকরা সেভাবে নজরই দেননি। ফলে হিন্দু-মুসলমানের প্রভাবহীন মিশ্র সংস্কৃতি বাংলার সাংস্কৃতিক চেতনাকে মধ্যকালীন সময়কালে এ বঙ্গাব্দের সূচনাকে কেন্দ্র করে কতখানি উচ্চসুরে বেঁধেছিল, তার সম্যক চর্চা প্রায় হয়ইনি।

আকবরের সময়কালে এ বঙ্গাব্দকে তারিখ ই ইলাহি বলার প্রচলন ছিল বলেও অনেকের অভিমত। সেখান থেকে সম্রাট শাহজাহানের সময়কালে রোববারকে কেন্দ্র করে সপ্তাহের সাতটি দিন নির্ধারিত হতে শুরু করে—এমনটাও একাংশের ইতিহাসবিদদের অভিমত। মোগল শাসনকালে যে চান্দ্র বর্ষপঞ্জিকে কেন্দ্র করে প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করা হতো, সেই চান্দ্রমাসের হিসাব থেকে বেশকিছু জটিলতা দেখা দিত। চান্দ্রমাসকে কেন্দ্র করে ঋতুজনিত যে ফারাকটা তৈরি হতো, সেই ফারাকের কারণে ফসল তোলার সময়ের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়েই সামঞ্জস্য থাকত না। আর এ সামঞ্জস্য না থাকার কারণে খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতো। সেই সমস্যার নিরসনের বাস্তব প্রয়োজন থেকে এ সৌর বর্ষপঞ্জির প্রচলন, বঙ্গাব্দ, বাংলা নববর্ষের রেওয়াজ চালুর একটা বড় রকমের আর্থসামাজিক তাৎপর্যও রয়েছে। এই সৌর বর্যপঞ্জি বা বাংলা সালকে ধরে বঙ্গাব্দ শব্দটির প্রচলনের সঙ্গেই খাজনা প্রদানের উৎসবের আয়োজন ও সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকেই শুরু হয়।

খাজনা প্রদানকে কেন্দ্র করে যে উৎসবের প্রচলন সম্রাট আকবরের আমলে শুরু হয়েছিল, সেটিই কোনো রকম ধর্মীয় দ্যোতনা ব্যতিরেকে, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালির কাছে একটি অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব হিসেবে ক্রমে পরিগণিত হতে শুরু করে। ইরানীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতুল্লাহ সিরাজি চান্দ্র ইসলামীয় বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সৌর বর্ষপঞ্জির অভূতপূর্ব সেতুবন্ধন করে যে বর্ষপঞ্জি তৈরি করেছিলেন তা বাঙালি সংস্কৃতিকে ধর্মীয় নিগড়ের বাইরে একটা সাংস্কৃতিক, সামাজিক পটভূমিকার ওপর স্থাপিত করতে বিশেষভাবে সাহায্য করেছিল। ’৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন, ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ যে সাংস্কৃতিক ভিত্তির ওপর বাঙালি জাতিসত্তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, সেই জাতিসত্তার অঙ্কুর স্থাপিত হয়েছিল সম্রাট আকবরের শাসনকাল, মধ্যকালীন ভারতে এ বঙ্গাব্দের প্রচলনের ভেতর দিয়ে।

মোগল প্রতিনিধি হিসেবে মুর্শিদকুলী খাঁ পুণ্যাহের রীতির যে প্রচলন করেছিলেন, সেই রীতি সময়ের নিরিখে সামন্ততান্ত্রিক শোষণের একটি ধারাতে পরিণত হলেও নতুন বছরের শুরুকে কেন্দ্র করে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম ব্যতিরেকে একটা সামাজিক প্রথার প্রচলন সেখান থেকেই শুরু হয়। এখন হিন্দু সমাজের ভেতরে নববর্ষ আর হালখাতাকে কেন্দ্র করে নতুন খাতার পূজার্চনার সঙ্গে যে দেব-দেবীদের সম্পৃক্ত করে ফেলা হয়েছে, সেটি পরবর্তী সময়ের সংযোজন। নববর্ষের সূচনায় যে খাজনা প্রদানের রীতি বা পুণ্যাহের রীতি অভিভক্ত বাংলায় জমিদারি প্রথার সঙ্গে যুক্ত ছিল, সেগুলোর সঙ্গে দেব-দেবীর পূজার্চনার কোনো সম্পর্ক ভারতভাগের আগে পর্যন্ত সচরাচর দেখা যায়নি। প্রবন্ধকারের পিতা ১৯৪৪ সালে তাঁদের এস্টেট অবিভক্ত পাবনার সাফল্লাতে নিয়মিত পুণ্যাহে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময়ের প্রচলিত পুণ্যাহের সঙ্গে এতটুকু ধর্মীয় অনুষঙ্গের যোগ ছিল না। ছিল সামাজিক বন্ধনরি যোগ। খাওয়া-দাওয়া, কুশল বিনিময় ইত্যাদি। নববর্ষের সঙ্গে হালখাতাকে সংযুক্ত করে তার ধর্মীয় অনুষঙ্গ দানের বিষয়টি নির্মিত হয়েছে মূলত বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীদের ভেতর থেকে। তত্কালীন পূর্ববঙ্গের গন্ধবণিক, স্বর্ণবণিক ইত্যাদি যে ব্যবসায়ীরা ছিলেন, তারা গন্ধেশ্বরী দেবীর পূজার্চনাকে কেন্দ্র করে তাদের ব্যবসায়ের নতুন খাতা শুরু করতেন। এ প্রথা তারা ভারতভাগের পর পশ্চিমবঙ্গে এসেও বজায় রেখেছেন। কলকাতাকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা এ হালখাতা বিষয়টির সঙ্গে বিশেষ বিশেষ মন্দিরে পুজো দেয়া, নিজেদের দোকানে পুজো করা ইত্যাদির ভেতর দিয়ে এটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের নিগড়ে পরিবর্তিত করেছেন।

গৌতম রায়: লেখক ও ইতিহাস বিশ্লেষক
0 Share Comment
National/International News Group
16 April 2021, 00:14

ফসলি সনের প্রবর্তন

ফসলি সনের প্রবর্তন


বাংলা পঞ্জিকার বয়স ১৪২৭ বছর শেষ হচ্ছে। কিন্তু অনেকে বলেন, মোগল সম্রাট আকবরের সময় তার সভাসদ আমির ফতেউল্লা সিরাজি ১৫৫৬ ইংরেজি সালে এ পঞ্জিকার প্রচলন করেছিলেন। তারা বলেন, ফতেউল্লা সিরাজি হিজরি সাল অনুযায়ী খাজনা আদায়ের অসুবিধা দূর করার জন্য চান্দ্র হিজরি বছরকে সৌরবছরে রূপান্তর করে বাংলা সনের জন্ম দেন। কিন্তু কথাটি সত্য নয়। কারণ বাংলা সন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে প্রচলিত একই সময়ে শুরু হওয়া পঞ্জিকাগুলোরই অন্যতম একটি ঐতিহ্যপূর্ণ পঞ্জিকা। মোগল সম্রাট আকবরের সভাসদ ফতেউল্লা সিরাজি বাংলা সন নতুন করে উদ্ভাবন করেননি, বরং তিনি বাংলার সমতলে চলতি বাংলা পঞ্জিকাকে খাজনা আদায়ের বছর হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

বর্তমান বাংলা পঞ্জিকা একটি ফসল পঞ্জিকা। এর প্রথম দিনটি থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সময়ে রয়েছে বাংলার তিনটি ফসল মৌসুম। এ মৌসুমগুলো যথা আউশ, আমন ও রবি অনুযায়ী বাংলা বছরকে চার মাস ধরে সহজেই ভাগ করা যায়। এ পঞ্জিকার প্রথম দিন নববর্ষ হিসেবে ও শেষ দিন হালখাতা হিসেবে যথেষ্ট গুরুত্ব ও ধুমধামের সাথে পালন করা হয়। বাংলা পঞ্জিকার ব্যাপারে একটি বিষয় বেশ গুরুত্বপূর্ণ এই যে কেবল বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গ নয়, বাংলা নতুন বছর আগমনের সন্ধিক্ষণের কয়েকটি দিন সারা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একই সময়ে (১৪-১৫ এপ্রিল) বিশেষ ধুমধামের সাথে পালন করা হয়। এসব হচ্ছে, কাম্বোডিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, চীন, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশ, শ্রীলংকা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্র, কেরালা, ওড়িশা, বিহার, আসামসহ সমগ্র উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারত, ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও কাশ্মীর।

বাংলাদেশ ও ভারতের বেশকিছু গবেষক বাংলা পঞ্জিকার উৎপত্তি নিয়ে বই লিখেছেন। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত (১৯৯৩) ‘বাংলা সনের জন্মকথা’ শীর্ষক একটি বইতে মো. আবু তালিব নানামতের কথা বলে ‘আইন-ই-আকবরী’র বর্ণনা দিয়ে দেখাতে চেয়েছেন যে আকবরের সময়ই বাংলা সনের উৎপত্তি হয়। কিন্তু ‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থে বাংলা সনের উৎপত্তি বিষয়ে লেখা হয়নি, বরং এতে লেখা হয়েছে হিজরি সাল অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে সমস্যার কথা এবং ‘এলাহী সন’ প্রবর্তনের কথা। মোগলরা তাদের সাম্রাজ্যে খাজনা আদায়ের জন্য হিজরি সাল ব্যবহার করছিল। হিজরি সাল চান্দ্র বছর হওয়ায় সৌরবছরের তুলনায় প্রতি বছর গড়ে ১১ দিন এগিয়ে যায়। দিল্লির মোগল শাসকেরা ১৫৭৬ সালে আফগানদের হাত থেকে বাংলা জয় করে নেয়। বাংলা অঞ্চলে শস্য চাষ এ এলাকায় মৌসুমি বায়ুর আগমনের ওপর নির্ভরশীল বিধায় হিজরি সাল অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে গিয়ে সমস্যা দেখা দিল। সম্রাট আকবর তার সভাসদ জ্যোতির্বিদ আমির ফতেউল্লা সিরাজির পরামর্শে ১০ মার্চ ১৫৮৫ এক ফরমানের মাধ্যমে বাংলা অঞ্চলের রাজস্ব আদায় পদ্ধতি স্থানীয় শস্য পঞ্জিকার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেন।

‘বাংলা সনের জন্মকথা’ বইটিতে আইন-ই-আকবরীর কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আকবরের সভার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে সৌরবছর প্রয়োগ করার পক্ষপাতী ছিলেন। আকবর এটা জেনে ভারতে প্রচলিত সৌরবছরগুলোর অনুরূপ খাজনা আদায় পঞ্জিকা প্রণয়নের জন্য ১০ মার্চ ১৫৮৫ এক হুকুম জারি করেন। আকবরের এ হুকুমনামা অনুযায়ী যে নতুন সালের প্রবর্তন করা হয় তার নাম ‘এলাহী সন’। আমির ফতেউল্লা সিরাজি একই সময়ে খাজনা আদায়ের জন্য এলাকাভিত্তিক কয়েকটি ফসলি পঞ্জিকা চালু করেন। সেগুলো হলো বাংলা, আমলি (ওড়িশা), বিলায়েতি (মধ্য ভারত), ফসলি (উত্তর ভারত) ও সুরসেনি (মহারাষ্ট্র)। আকবরের সিংহাসনে আরোহণের বছর ধরে এলাহী সালের বছর শুরুর দিন হলো ১১ মার্চ ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ/২৮ রবিউস সানি ৯৬৩ হিজরি। যদিও তার সিংহাসনে আরোহণের প্রকৃত দিন ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৫৫৬।

আমির ফতেউল্লা সিরাজি এলাহী সন প্রবর্তনের সময় আকবরের সিংহাসনে আরোহণের বছরটি ঠিক রাখেন, কিন্তু বছর শুরু করেন ওই সময়ে হিজরি সালের বছর শুরুর দিন দিয়ে। আজকের বাংলা পঞ্জিকার ১৪২২ বছর শেষ হচ্ছে, হিজরির চলছে ১৪৩৭ সাল। বাংলা যেহেতু সৌরবছর এবং হিজরি যেহেতু চান্দ্রবছর আমরা পেছনের দিকে গেলে এমন এক সময়ে পৌঁছব যখন বাংলা ও হিজরির বয়স একই ছিল। আকবরের সিংহাসনে আরোহণের বছর ছিল ১৫৫৬ ইংরেজি সাল যখন বাংলা ও হিজরির উভয়েরই বয়স ছিল ৯৬৩ বছর। আমাদের কাছে লক্ষণীয় যে খলিফা ওমর ৬৩৮ সালে হিজরি পঞ্জিকা গণনার আদেশ দেন হিজরতের প্রকৃত বছর ৬২২ সাল থেকে। এমনকি হিজরতের প্রকৃত দিন অনুযায়ী বছর গণনার শুরু না করে চলতি আরবি মাসের প্রথম দিন ১ মহররম থেকে ওই হিজরি সালের প্রারম্ভ ধরা হয়েছিল।

প্রতীয়মান হয়, কোনো রাজার রাজ্যাভিষেকের বছর ধরে যেসব সন গণনা শুরু করা হয় সেসব বছরে যেদিনই রাজার অভিষেক হোক না কেন, ঐতিহ্যের খাতিরে পঞ্জিকার শুরুর দিন অপরিবর্তিত রাখা হয়। আরো প্রতীয়মান হয়, আকবরের সভাসদ ফতেউল্লা সিরাজি ‘এলাহী সন’ প্রবর্তনের সময় (কার্যকর ১১ মার্চ ১৫৫৬) হিজরি সালের শুরুর দিনটি গ্রহণ করেন। কিন্তু সিরাজি বাংলা অঞ্চলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে আগে আরোপিত হিজরি সালের পরিবর্তে বাংলা অঞ্চলে ঐতিহাসিকভাবে প্রচলিত বাংলা পঞ্জিকা গ্রহণ করেন। সিরাজির এ ব্যবস্থার ফলে বাংলা পঞ্জিকার শুরুর দিন বা সৌরবছর গণনার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

দেখা যাবে, পৃথিবীর সব দেশের মানুষই ঐতিহাসিকভাবে কোনো সৌর অথবা চান্দ্র পঞ্জিকার সাথে অভ্যস্ত থেকেছে। এ পঞ্জিকাগুলো ভিন্ন দেশের জলবায়ুর কারণে মাস ও ঋতুতে ভিন্ন ছিল। যেসব দেশে চান্দ্র পঞ্জিকা প্রচলিত ছিল, যেমন আরব দেশগুলোতে, তিন বছর অন্তর একটি মাস দুবার প্রয়োগ করে (মলমাস বা intercalary months) সৌরবছরের সাথে সামঞ্জস্য আনা হতো (‘আল বেরুণী’ লেখক এম. আকবর আলী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ঢাকা ১৯৮০)। দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মীয় আচার পালন ও ফসল উৎপাদনের সময় হিসাবের জন্য চান্দ্র-সৌর পঞ্জিকা ব্যবহার করা হতো। মোগল আমলে রাজস্ব আদায়ের গুরুত্ব কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজন যা-ই ছিল না কেন আমাদের আজকের জাতীয় জীবনে বাংলা পঞ্জিকার গুরুত্ব অপরিসীম। এ পঞ্জিকা হিজরি থেকে ভিন্ন জাতের, শকাব্দ থেকে ভিন্ন ঐতিহ্যের ও খ্রিস্টাব্দ থেকে ভিন্ন ঋতুবৈচিত্র্যের। তাছাড়া বর্তমান বাংলা পঞ্জিকার গোড়ার বছর এমন এক সময় (৫৯৩ খ্রিস্টাব্দ) নির্দেশ করে যখন বাংলার সমতলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে গেছে।

বাংলাদেশে যে অর্থবছরটি চালু আছে তা ইংরেজি (গ্রেগরিয়ান) পঞ্জিকাভিত্তিক। এর শুরু হয় ১ জুলাই থেকে অর্থাৎ বর্ষা ঋতুর আগমনের পর। বছরটি শেষ হয় ৩০ জুন, সেটাও বর্ষা ঋতুর আগমনের পর। অতএব আমরা একই অর্থবছরে পাই দুটি বর্ষা ঋতু এবং অন্যান্য পাঁচটি যথা শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত ও গ্রীষ্ম ঋতু। তবে জমির খাজনা আদায়ের জন্য তহশিলদাররা যে বছর পালন করেন তা বাংলা পঞ্জিকার ভিত্তিতেই হয়, বিগত বাংলা বছর বাবদ। অর্থাৎ একটি বাংলা বছরে যেসব ঋতু আছে সেসব ঋতুতে যেসব ফসল হয় তার ভিত্তিতেই এ খাজনা ধরার নিয়ম। বাংলা পঞ্জিকায় ছয়টি ঋতু। গ্রীষ্ম দিয়ে এ পঞ্জিকার শুরু এরপর বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। বাংলার ফসল পঞ্জিকাও ছয়টি ঋতুনির্ভর। গ্রীষ্ম ও বর্ষা আউশ ধানের, শরৎ ও হেমন্ত আমন ধানের এবং শীত ও বসন্ত রবিশস্যের। চৈত্রের দাবদাহের শেষে যখন বছর শেষ তখন মাঠের ফসলও শেষ। জমির খাজনা ছাড়াও বাংলা পঞ্জিকা চলে ব্যবসাক্ষেত্রে, বার্ষিক হিসাব পরিচালনার জন্যে। চাষী বছর শেষে ফসল তুলবেন, ব্যবসাদার বিগত বছরের পাওনা-দেনা মিটিয়ে নতুন বছরের হালখাতা করবেন। এভাবে চৈত্রের শেষ দিন চৈত্রসংক্রান্তি হিসেবে এবং নতুন বছরের প্রথম দিন হালখাতা প্রস্তুতের দিন হিসেবে পালন বাংলার ঐতিহ্য। বাংলা পঞ্জিকার এসব ঐতিহ্য হাজার হাজার বছরের পুরনো।

দেখা যায়, বাংলাদেশে তিনটি বছর চালু আছে। প্রথমটি ঘরের, গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, যা প্রতি জানুয়ারিতে শুরু হয়ে ডিসেম্বরে শেষ হয়। দ্বিতীয়টি দেশের গ্রামাঞ্চলে ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে, বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, যা বৈশাখে শুরু হয়ে চৈত্রে শেষ হয়। তৃতীয়টি সরকারি অর্থ ব্যবস্থায়, গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, যা জুলাইয়ে শুরু হয়ে জুনে শেষ হয়। আপাতদৃষ্টিতে এতে কোনো সমস্যা না থাকলেও সমস্যা আছে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এবং এর সাথে জড়িত অর্থ ব্যবস্থায়, যেখানে রয়েছে চরম অব্যবস্থা। ১৭ মার্চ ১৯৯৩ বাংলাদেশ অবজারভারে প্রকাশিত একটি পত্রে আমি প্রথম বাংলাদেশের বাংলা পঞ্জিকার ভিত্তিতে অর্থবছর চালু করার প্রস্তাব করেছিলাম। ১ বৈশাখ ১৪১২ (ইংরেজি ১৯৯৫) দৈনিক জনকণ্ঠে এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত লিখেছি। ৬ জুন ১৯৯৭ এ বিষয়ে বাংলাদেশ অবজারভারের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনে বাংলা পঞ্জিকার ওপর আমার কভার স্টোরি প্রকাশিত হয়। এরপর দুই বঙ্গের অনেক পত্রিকায় আমার লেখা মুদ্রিত ও পুনর্মুদ্রিত হয়েছে।

সরকার পরিচালনায় বছরব্যাপী উন্নয়নকাজ ও ব্যয় নির্বাহ হয় প্রধানত দুভাবে, যথা আপত্কালীন কাজ ও ব্যয় এবং পরিকল্পিত কাজ ও ব্যয়। চলতি অর্থবছরের শেষের দিকে অর্থাৎ মে-জুনে আগাম বন্যা হলে শুরু হয় আপত্কালীন কাজ। এ কাজ ও ব্যয় ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা থাকার কথা ছিল না, কিন্তু সমস্যা হলো আপত্কালীন বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা অবশ্যই ব্যয় করতে হয়, অন্যথায় বছর শেষে বরাদ্দপ্রাপ্ত দপ্তরকে ব্যর্থতার দায়ভার গ্রহণ করতে হয়। এখানেই রয়েছে সব অব্যবস্থার মূল এবং পুকুর চুরির মতো দুর্নীতির সুযোগ। আর্থিক অব্যবস্থাই অপচয়, দুর্নীতি ও লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি করে। এ অব্যবস্থার কাগুজে রূপ অনিয়ম ও গোঁজামিল। আমরা জানি ব্যাংকের ঋণ আদায় হয় না। ব্যাংকের ঋণগ্রহীতার হদিস পাওয়া যায় না। জনগণ প্রকল্পের সুবিধা না পেতেই প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণা করে দেয়া হয়। প্রকল্পের মালপত্র পড়ে থাকে, প্যাকিং খোলা হয় না।

আগাম বন্যার কারণে সরকারের আপত্কালীন ব্যয় আগের অর্থবছরের শেষে এবং পরবর্তী অর্থবছরের বর্ষা ও শরত্কালে চলতে থাকে। একটু খতিয়ে দেখলে স্পষ্ট হবে, সমগ্র অর্থবছরব্যাপী সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে একটি দুষ্টচক্র কাজ করে যায়। এদেরই যোগসাজশে সরকারের পরিকল্পিত ও আপত্কালীন ব্যয় অব্যবস্থায় ভোগে। এরাই আগাম বর্ষার অজুহাতে বিশৃঙ্খলভাবে প্রকল্পের কাজ করতে থাকে। অথচ জুনের ভেতরেই প্রকল্প শেষ করার তাগিদ থাকে। তাই বর্ষার শুরুতে তড়িঘড়ি করে প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণা করতে হয়। সরকারের অর্থ পরিকল্পনা এমন যে তাতে শেষ কোয়ার্টারের দুর্যোগের জন্য কোনো বিশেষ বিবেচনা থাকে না। দুষ্ট লোকেরা এটারই সুযোগ নেয়। তারা সামান্য কিছুতেই খারাপ আবহাওয়ার অজুহাত দিয়ে কাজ খারাপ করে। এ অজুহাতে তারা প্রকল্পটি ত্রুটিপূর্ণভাবে বুঝিয়ে দেয় অথবা সরকারকে বেকায়দায় ফেলে সময় ও ব্যয়বৃদ্ধি করে ছাড়ে। এভাবে অনেক প্রকল্প চরম অব্যবস্থা বা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। সুবিধাভোগীরা সবসময় ঘোলা জল সৃষ্টি করে তাদের ব্যর্থতার দায়ভার সরকারের ঘাড়ে চাপাতে চায়। আমি মনে করি, বর্তমান চলতি কায়দার জুলাই থেকে জুনের অর্থবছর এসবের জন্য অনেকখানি দায়ী।

সরকারের বাজেট ও অর্থছাড় প্রক্রিয়া সারা বছর চারটি কোয়ার্টারে বিভক্ত। জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বরের প্রথম কোয়ার্টার, যা সাংবার্ষিক বন্যায় বিপর্যস্ত থাকে। অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর দ্বিতীয় কোয়ার্টারে হয় শীতের আগমন। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ তৃতীয় কোয়ার্টার শেষে শীতের বিদায়। এপ্রিল, মে, জুন চতুর্থ কোয়ার্টারে দেখা দেয় আগাম বন্যার বিপর্যয়। অক্টোবর-নভেম্বর সাইক্লোনের মাস, এপ্রিল-মে আগাম বন্যার মাস। অতএব উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রকৃত কাজের সময় পাওয়া যায় ডিসেম্বর থেকে মার্চ, দেড় কোয়ার্টার সময় মাত্র। এ বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা ফসলি পঞ্জিকা অর্থবছর গ্রহণ একটি অতিপ্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে আমি মনে করি। বাস্তবতার নিরিখে আমি দেখাব ফসলি পঞ্জিকা অনুযায়ী বাংলা অর্থবছর চালু হলে আমাদের কী কী সুবিধা হতে পারে। তবে এর আগে আমাদের বর্তমান অর্থবছর ও অন্যান্য কয়েকটি দেশের অর্থবছরের একটু তুলনা করে দেখি। নিচের এ তালিকায় পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের কয়েকটি দেশের অর্থবছর দেখানো হলো। দেখা যায় যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান ইত্যাদি দেশ তাদের বাস্তব চাহিদামতো বসন্তের শেষ থেকেই অর্থবছর গণনা করছে।

পাকিস্তানে বর্ষা শুরু হয় জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে (শ্রাবণ ও ভাদ্র মাস তাদের বর্ষাকাল)। অতএব ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন অর্থবছর হওয়া তাদের জন্য বেশ সুবিধাজনক। ব্রিটিশরাজ থেকে একই সময়ে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত ভারত তাদের বাজেট ও ব্যয় ব্যবস্থায় ঋতু অনুযায়ী ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর পালন করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের বাজেট ও ব্যয় যে চারটি কোয়ার্টারে হিসাব ও সমাপ্ত করা হয়, তার শেষ কোয়ার্টারে আসে বৃষ্টি ও বন্যা। আর বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এ শেষ কোয়ার্টারেই সবচেয়ে বেশি দেখানো হয়। বাংলাদেশের এ চলতি অর্থ ব্যবস্থা আমাদের দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হাওর অঞ্চলের ফসল উৎপাদন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায়ও বিরূপ প্রভাব ফেলে চলেছে। আমরা পাকিস্তানি ঐতিহ্য ত্যাগ করে বাংলা ফসলি পঞ্জিকা অনুযায়ী অর্থবছর গ্রহণ করে নিলে সহজেই এসবের সমাধান পেতে পারি।

আমাদের অর্থবছরটি যদি চৈত্র মাসে শেষ হয় তাহলে মে-জুনে এলোপাতাড়ি বা তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করার কোনো প্রয়োজন থাকবে না। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের কাজ যেহেতু পরবর্তী অর্থবছরের, তাই সময়-সুযোগ বুঝে করা যাবে। এতে সরকার বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়বে না, প্রকল্পগুলোও সুচারুভাবে সমাপ্ত করা যাবে। বাংলাদেশ সরকারের বার্ষিক বাজেট প্রক্রিয়ায় মে মাস নাগাদ এটি তৈরি হয়ে পার্লামেন্টে উত্থাপিত হয়। জুনের পার্লামেন্ট সেশনে এটি অনুমোদন পায়। অর্থবছর যখন শুরু হয় তখন চলে পুরোদমে বর্ষা। তাই এ সময়ে চলতি কাজগুলো শ্ল­থ হয়ে যায়। বর্ষা ও শরৎ শেষে অর্থবছরের নতুন কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক সময় টেন্ডার ইত্যাদির জন্য পিছিয়ে যায়। তাই বাজেটের অন্তর্ভুক্ত নতুন কাজ শুরু হতে হতে হেমন্ত পেরিয়ে যায়। বাংলা অর্থবছর গ্রহণ করলে বাজেট যেটা জুনে পাস হয় তা হবে ফাল্গুন বা মার্চে। ফলে অনুমোদিত বাজেটের প্রস্তুতিমূলক কাজ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে বা মে-জুনে শুরু করা যাবে। এরপর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ হেমন্ত আসামাত্রই শুরু করার কোনো বাধা থাকবে না। সরকারি বাজেটের বর্ষাজনিত অব্যবস্থা দূর করতে পারলে সব ক্ষেত্রেই পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব হবে। আমরা বাংলা ফসলি পঞ্জিকা অনুযায়ী একটি হাওর পঞ্জিকা প্রণয়ন করেছি, যা পালন করলে ফসলহানি হবে না।

সারা বাংলায় প্রচলিত বর্তমান বাংলা পঞ্জিকা ‘সূর্যসিদ্ধান্ত’ মোতাবেক সবচেয়ে প্রাচীন, ‘বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত’ কিছুটা ভিন্ন; তবে বাংলাদেশের সরকারি পঞ্জিকাটি বহু সংশোধনের পর বর্তমানে একটি চমত্কার রূপ নিয়েছে। বর্তমানে এর বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন মাস ৩১ দিনের এবং কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ ও চৈত্র মাস ৩০ দিনের করে গোনা হয়। ফাল্গুন ২৯ দিনের। তবে যে বছর ইংরেজি (গ্রেগরিয়ান) ক্যালেন্ডারে অধিবর্ষ (লিপ ইয়ার) হয় সে বছর ফাল্গুন মাস হয় ৩০ দিনের। ফলে ইংরেজি অধিবর্ষের বছর বাংলা ফাল্গুনের দ্বিতীয়ার্ধ বাদে বাংলা পঞ্জিকার দিনগুলো প্রতি বছরই ইংরেজি পঞ্জিকার নির্দিষ্ট তারিখে পড়ে। বাংলাদেশের ভূমি রাজস্ব আদায় এবং দেশব্যাপী ব্যবসাপাতি বাংলা ফসলি পঞ্জিকা অনুযায়ী সম্পাদিত হয়। সরকারি অর্থ ব্যবস্থায় বাংলা ফসলি পঞ্জিকা অনুসরণ করলে এটি একটি সামগ্রিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে। চলতি ব্যয় ব্যবস্থার হিসাব ইংরেজি মাসওয়ারি হয় বিধায় অর্থবছরটি ভারতের মতো ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ করা যেতে পারে। তবে অর্থবছর শেষে সমাপ্ত কাজের আর্থিক হিসাব চূড়ান্ত করার জন্য ১৩ এপ্রিল বা ৩০ চৈত্র পর্যন্ত সময় দেয়া যেতে পারে।

ম. ইনামুল হক: সাবেক মহাপরিচালক, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা; চেয়ারম্যান, জল পরিবেশ ইনস্টিটিউট

0 Share Comment
National/International News Group
14 April 2021, 17:18

Banglalink Job Circular 2021

0 Share Comment
National/International News Group
14 April 2021, 17:16

POPI Job Circular 2021

0 Share Comment
National/International News Group
14 April 2021, 17:15

brac Job Circular 2021

0 Share Comment
National/International News Group
14 April 2021, 17:14

Eastern Bank Limited Job Circular 2021

0 Share Comment
National/International News Group
14 April 2021, 17:13

Bangladesh Municipal Development Fund (BMDF) Job Circular 2021

0 Share Comment
National/International News Group
14 April 2021, 17:11

Bangladesh Bank Job Circular 2021

Bangladesh Bank Job Circular 2021
Source: Bangladesh Observer, 14 April 2021
Application Deadline: 06 May 2021
Bangladesh Bank Job Circular 2021
Source: Ittefaq, 14 April 2021
Application Deadline: 06 May 2021
0 Share Comment
National/International News Group
14 April 2021, 17:09

উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট সাপোর্ট লোন’ দিচ্ছে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট সাপোর্ট লোন’ দিচ্ছে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট সাপোর্ট লোন’ (এসএসএল) দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। অনার্স ও মাস্টার্স প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে এনইউবি ও ব্যাংক এশিয়া। যেসব শিক্ষার্থী অর্থ সংকটের কারণে পড়ালেখা চালিয়ে নিতে পারছেনা বা টিউশন ফি এর কারণে সেমিস্টার ড্রপ দিচ্ছে তাদের জন্য ব্যাতিক্রমী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান নর্দান ইউনিভার্সিটি। তারা ব্যাংক এশিয়া থেকে সহজ শর্তে ‘স্টুডেন্ট সাপোর্ট লোন’ নিতে পারবেন। পড়ালেখার সময় বা কর্মজীবনে গিয়ে এই শিক্ষা ঋণ পরিশোধ করবে তারা।

এ উপলক্ষ্যে দু’পক্ষের মধ্যে ১৩ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার, নর্দান ইউনিভার্সিটির বোর্ড রুমে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন নর্দান ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজ এর চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানম, ব্যাংকএশিয়া লিঃ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চেয়ারম্যান জনাব আরফান আলী ও উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম (ডি)।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন নর্দান ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইকরামুল ইসলাম, আইটি ডিরেক্টর জনাব সাদ আব্দুল্লাহ জাবির, ফাইন্যান্স ডিরেক্টর মিস লাবিবা আব্দুল্লাহ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. আনোয়ারুল করিম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোসাম্মত হাবিবুন নাহার ও ব্যাংক এশিয়া লিঃ এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান মোল্লা। নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ জানান, “আমরাই প্রথম কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় এভাবে ঋণ সহায়তা দিচ্ছি। ছাত্রত্ব শেষ করে কর্মজীবনে গিয়ে তারা এই ঋণ পরিশোধ করবে। যদিও উন্নত বিশ্বের প্রায় সব দেশেই শিক্ষা বিষয়ক লোনের ব্যবস্থা রয়েছে।”

এই ঋণ সুবিধার ফলে বৈশ্বিক সঙ্কট কালেও নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দৃঢ়তার সঙ্গে অগ্রসর হতে পারবে বলে আশা করছে নর্দান কর্তৃপক্ষ।
0 Share Comment
National/International News Group
14 April 2021, 17:00

কনকর্ড গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ম্যানেজার–মেকানিক্যাল পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী
যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে সহজেই আবেদন করতে পারবেন।


শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা


স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারেন।
প্রার্থীর সাত বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সঙ্গে মাইক্রোসফট অফিস,
অটোক্যাডে দক্ষতা থাকতে হবে। ন্যূনতম ৩৫ থেকে অনূর্ধ্ব ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত
আবেদন করা যাবে। চাপের মধ্যে কাজের মানসিকতা থাকতে হবে। শুধু পুরুষ
প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন।


কর্মস্থল : চট্টগ্রাম। বেতন : আলোচনা সাপেক্ষে।


আবেদনের প্রক্রিয়া : আগ্রহী প্রার্থীরা বিডিজবস অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।


আবেদনের শেষ তারিখ : ১৩ মে, ২০২১।


0 Share Comment
National/International News Group
14 April 2021, 16:59

‘ডিরেক্ট সেলস অফিসার’ পদে নিয়োগ দিতে নিয়োগ
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড। আগ্রহী
প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন।


প্রতিষ্ঠানের নাম: বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড


পদের নাম: ডিরেক্ট সেলস অফিসার (কন্ট্রাকচুয়াল), রিটেইল লায়াবিলিটি/ অ্যাসেট মার্কেটিং টিম।


শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস। শিক্ষাজীবনে তৃতীয় বিভাগ থাকা যাবে না।


অভিজ্ঞতা: প্রার্থীর এক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।


বেতন: ১২,০০০-২৪,০০০ টাকা। এর সঙ্গে ব্যাংকের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাওয়া যাবে।


কর্মস্থল: ঢাকায়। তবে প্রয়োজনে দেশের অন্য এলাকার ব্র্যাঞ্চেও হতে পারে।


আবেদনের শেষ সময়: ৩০ এপ্রিল ২০২১।

0 Share Comment
National/International News Group
14 April 2021, 16:51

আবারও শুরু হচ্ছে করোনা বুলেটিন

আবারও শুরু হচ্ছে করোনা বুলেটিন
জনগণের মধ্যে সঠিক তথ্য তুলে দিতে সরকারের নির্দেশনায় দেশবাসীর কাছে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে ফের চালু হচ্ছে স্বাস্থ্য বুলেটিন। সপ্তাহে দু’দিন সরাসরি প্রচার হবে।

এ দু’দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজের (এনসিডিসি) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন এবং অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

বুধবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, করোনা মহামারি শুরু থেকেই আমরা সাংবাদিকদের সহযোদ্ধা হিসেবে দেখেছি। তারাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে কিছু কিছু মিডিয়া সমালোচনার মাধ্যমে আমাদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। কেউ যদি না জেনে, না বুঝে, বিস্তারিত খোঁজ না নিয়ে সমালোচনার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তাদের বললো গঠনমূলক সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, আমাদের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। এ অবস্থায় মানুষকে বিভ্রান্ত না করে, আমাদের মনোবল না ভেঙে পাশে দাঁড়ান। মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, আমাদের ভুল হতেই পারে। সেটা ধরিয়ে দিলে শুধরে নিতে পারবো। কিন্তু সমালোচনা না করে আমাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, নন-কমিউনিকেবল ডিজিজের (এনসিডিসি) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন, অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক (এমআইএস) অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান, অধিদপ্তরের মাতৃ, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক শামসুল হকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
0 Share Comment
Deshi Group
14 April 2021, 09:12

SUST Job Circular 2021

SUST Job Circular 2021
Source: Dainik Amadershomoy, 12 April 2021
Application Deadline: 28 April 2021
0 Share Comment
Deshi Group
14 April 2021, 09:01

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের
অনলাইনে কলেজ টিসির আবেদনের সময় বাড়িয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক
শিক্ষা বোর্ড। আগামী ২০ মে পর্যন্ত কলেজ টিসির অনলাইন কার্যক্রমের সময়
বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আবেদনের
প্রেক্ষিতে টিসি কার্যক্রমের সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।


মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকা বোর্ড থেকে বিষয়টি জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। 


বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো.
হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আবেদনের প্রেক্ষিতে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে
অধ্যয়নরত নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অনলাইন টিসি কার্যক্রমের সময় আগামী ২০ মে
পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো।


২০ মের পর অনলাইনে কলেজ টিসি কার্যক্রমের সময় আর বাড়ানো হবেনা বলেও জানিয়েছে ঢাকা বোর্ড।


এর আগে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের বোর্ড ও কলেজ টিসির আবেদনগ্রহণ শুরু হয়।

0 Share Comment
Deshi Group
14 April 2021, 09:00

আট দিনের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বিশেষ
প্রয়োজনে ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩
এপ্রিল) পাঠানো ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ প্রয়োজনে ব্যাংকিং কার্যক্রম
পরিচালনার জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে।


 


এ নির্দেশনার আলোকে মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল)
সন্ধ্যায় সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে
জারি করা সার্কুলার দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বরাবর
এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।


 


এতে বলা হয়, ‘সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির
দিন ব্যতীত পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ব্যাংক লেনদেন চলবে সকাল
১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তবে অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যাবলি সম্পন্ন
করার জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। গত ৪ এপ্রিল ডিওএস-এর
জারিকৃত সার্কুলারের ১১-এর নির্দেশ অপরিবর্তিত থাকবে।’


 


অন্যদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায়
বলা হয়, ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার
লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির জন্য আদেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


 


সোমবার (১২ এপ্রিল) আট দিনের কঠোর
বিধিনিষেধ ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই
সময়ে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।


 


এতে বলা হয়, সকল সরকারি, আধা-সরকারি,
স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে এবং সকল
কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে শিল্প-কারখানা
খোলা থাকছে।


0 Share Comment
Deshi Group
14 April 2021, 09:00

স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে ভার্চুয়ালি
সীমিত পরিসরে বিচারিক কাজ পরিচালনা করা হবে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট
বিভাগে। পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে হবে বলে
জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতির আদেশে এমন তথ্য জানায়
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।


আদেশে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১২ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুসারে সব সরকারি,
আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস আর্থিক প্রতিষ্ঠান আগামী ১৪
এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখাসহ সার্বিক কার্যাবলিতে বিধি-নিষেধ
আরোপ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতে হাইকোর্ট বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ
রেখে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার্থে ভার্চুয়ালি সীমিত পরিসরে বিচার
কাজ পরিচালনা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।


এতে আরও বলা হয়, ১১ এপ্রিলে হাইকোর্ট
বিভাগের জারি করা বিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় ৫ এপ্রিল হতে এফিডেভিট করা অতীব
জরুরি বিষয়ে রিট, দেওয়ানি ও ফৌজদারি এবং কোম্পানি ও অ্যাডমিরালিটি
সংক্রান্তে প্রধান বিচারপতির গঠন করা বেঞ্চসমূহ ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানি
করবেন। সংশ্লিষ্ট আদালত মামলার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করবেন।

0 Share Comment
Deshi Group
14 April 2021, 08:57

সেহরি ও ইফতারের সূচি

0 Share Comment
Deshi Group
13 April 2021, 02:11

নওগাঁর ‘গরিবের হোটেল’

নওগাঁর ‘গরিবের হোটেল’
শৈশব থেকেই চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করে বড় হয়েছেন। তৃতীয় শ্রেণিতে ইতি পড়াশোনার। এরপর ছোটবেলা থেকেই হোটেলে হোটেলে বয়ের কাজ করেছেন। সইতে হয়েছে মানুষের লাঞ্ছনা-গঞ্জনা। কিন্তু এখন নিজের একান্ত চেষ্টায় বদলে গেছে সেই অভাবী মানুষের দিন। তিনি এখন নওগাঁ শহরে দুটি হোটেলের মালিক। তাঁর হোটেলে কাজ করেন আরও ৩৫ জন মানুষ।

এই উদ্যোক্তার নাম আলী আজগর হোসেন (৫২)। নওগাঁ শহরের কোর্ট চত্বরের সামনে ‘হাজীর নজিপুর হোটেল অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউস-১ এবং হাজীর নজিপুর হোটেল অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউস-২’ নামের খাবার হোটেল দুটির মালিক তিনি। পাশাপাশি থাকা হোটেল দুটি নওগাঁবাসীর কাছে নজিপুর হোটেল নামে বেশি পরিচিত। প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুর হলেই নানা জায়গা থেকে এ হোটেলে এসে বসে পড়েন ছিন্নমূল মানুষেরা। বিনা পয়সায় এক বেলা ভালো পরিবেশে ভালো খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন তাঁরা। গরিব-দুঃখী মানুষকে বিনা পয়সায় খাবার খাওয়ানোর জন্য এরই মধ্যে আজগর হোসেনের হোটেল দুটি ‘গরিবের হোটেল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে মানুষের কাছে।
নওগাঁর ‘গরিবের হোটেল’
প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুরে শতাধিক দরিদ্র, অসহায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ চেয়ার–টেবিলে বসে অতিথিদের মতো এক বেলা বিনা মূল্যে খাবার খান এ হোটেলে। খাবার মেনুতে ভাতের সঙ্গে থাকে ডিম, মাছ, মাংস, ডাল ও সবজি। দেখে মনে হবে কোনো আনন্দঘন অনুষ্ঠান। খাবারের জন্য নেই কোনো হুড়োহুড়ি বা কাড়াকাড়ি। যে যখন আসছেন, বসে পড়ছেন চেয়ারে। এভাবেই প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলে বিনা পয়সায় মানুষকে খাওয়ানোর আয়োজন।

কিছুদিন আগে এক বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে আজগর আলীর নজিপুর হোটেল অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউসে গিয়ে দেখা যায়, হোটেলের ভেতরে ও বাইরে রাস্তার পাশে চেয়ার-টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছেন ৭০-৮০ জন নারী-পুরুষ। সবাইকে গরুর মাংস ও সবজি তরকারি দিয়ে ভাত খেতে দেওয়া হয়েছে।

খাবার খেতে আসা সত্তরোর্ধ্ব সামসুন্নাহার বলেন, ‘হামার ছলেরা হামাক দেখে না। স্বামী মারা যাওয়ার পর ১০-১২ বছর ধরে ম্যানষের বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করি খাই। ভিক্ষা করে তিন বেলা ঠিকমতো খাবার জোটে না। মাছ, গোশত বছরে একবারও কেনার সামর্থ্য হয় না। আগে তো কুরবানির ঈদে খালি গোশত খাইতাম। কিন্তু প্রতি সপ্তাহ বিশতবার (বৃহস্পতিবার) দিন অ্যালে হামার কাছত ঈদের দিন মনে হয়। বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করে দুপুরে নজিপুর হোটেলে অ্যাসে কোনো দিন গোশত ও কোনো দিন মাছ দিয়ে পেট ভরে ভাত খাই।’

খাবার খেতে আসা প্রতিবন্ধী আব্বাস আলী বলেন, ‘জন্মত থ্যাকেই হামার দুই পা অচল। কোর্ট এলাকায় বুক, হাঁটুর ওপর ভর করে ভিক্ষা করে চলি। সপ্তাহে এক দিন এখানে আসি একটু ভালো খাবারের আশায়। হাজী সাহেব (আলহাজ আলী আজগর হোসেন) আমাদের খাওয়ান। এর জন্য কোনো টাকা নেন না।’

কোনো প্রচার-প্রচারণার উদ্দেশ্য নিয়ে নয়; নিজের অতীত কষ্টের কথা ভেবে আর সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের আশায় এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান আলী আজগর হোসেন। তিনি বলেন, ‘এক যুগের বেশি সময় ধরে অভাবী–দুঃখী মানুষের মুখে এভাবে এক বেলা খাবার দিয়ে আসছি। যত দিন বেঁচে থাকব, তত দিনই এ কাজ করে যেতে চাই আমি।’

হোটেল বয় থেকে হোটেলমালিক হওয়ার গল্প শোনা হলো আলী আজগর হোসেনের কাছে। নাটোরের সিংড়া উপজেলার চক তাতার গ্রামে জন্ম তাঁর। বাবা মানুষের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। সন্তানের মুখে ঠিকমতো খাবার জোগান দিতে না পারায় চতুর্থ শ্রেণিতে ওঠার পর সাত-আট বছর বয়সে আজগরকে অন্যের বাড়িতে রাখালের কাজ করতে পাঠান তাঁর মা–বাবা। আরও কয়েক বছর পরে নওগাঁর আত্রাই উপজেলা সদরে একটি খাবার হোটেলে বয় হিসেবে কাজ শুরু করেন আজগর।
0 Share Comment
Deshi Group
13 April 2021, 02:03

সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেলেন মমতাজ

সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেলেন মমতাজ
তিন দিন আগে বিমানবন্দরে বসে লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘খারাপ নিউজ দেখতে দেখতে চোখ, মন এখন ক্লান্ত। দুঃখ সইতে সইতে নাকি সুখ আসে, তেমনি খারাপ খবর দেখতে দেখতে একটা ভালো খবর পেয়ে আর ঘরে থাকতে পারলাম না। সাহস করে বের হয়েছি।’ সেদিন বের হয়ে কোথায় যাচ্ছিলেন না জানা গেলেও আজ সোমবার সন্ধ্যায় তা জানালেন। ভারতের তামিলনাড়ুর একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি নিতে সেদিন বিমানে ভারতের পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন। এমন একটি প্রাপ্তিতে ভীষণ খুশি এই শিল্পী ও সাংসদ।

শনিবার ১০ এপ্রিল ভারতের তামিলনাড়ুর গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটি এ সম্মাননা দিয়েছে বাংলাদেশের লোকগানের শিল্পী ও সাংসদ মমতাজকে। একটি বার্তায় তারা উল্লেখ করে, শিল্পী হিসেবে ৭০০টির বেশি একক অ্যালবামের রেকর্ড, সুদীর্ঘ ৩০ বছর বাংলা গানকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা ও সমাজসেবা ছাড়াও নানামুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রেখে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মমতাজ। যে কারণে তারা বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শনিবার তাঁকে ‘ডক্টর অব মিউজিক’ পদক প্রদান করে। মমতাজের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান পি ম্যানুয়েল। একই সময়ে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন চেন্নাইয়ের সাবেক জেলা জজ থিরু এজে মুরুগানানথাম, তামিলনাড়ুর আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু খলিফা মাস্তান সাহেব ক্বাদিরি, কেরালা ডক্টর এ পি জে আবদুল কালাম ইনস্টিটিউট অব বিজনেস ম্যানেজমেন্ট পরিচালক উইলাত কোরাইয়া।

সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করতে ১০ এপ্রিল সকালের ফ্লাইটে ভারতে রওনা হন মমতাজ। যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ ১২ এপ্রিল তিনি দেশে ফিরেছেন। ঢাকার বাড়িতে বসে তিনি কথা বলেন প্রথম আলোর সঙ্গে। এমন একটি সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে মমতাজ বলেন, ‘৩০ বছর ধরে গানের সঙ্গে আছি। মানুষের ভালোবাসা পেয়ে চলছি। চেষ্টা করেছি, মানুষের পাশে থাকার। জনপ্রতিনিধি হয়েও সব সময় মানুষের কাছাকাছি আছি। এই সময়ে আমি অনেক সম্মাননা অর্জন করেছি। কিন্তু এবার যা ঘটেছে, তা আমার জীবনের অন্যতম একটি বড় ঘটনা। আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। দেশের বাইরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমন প্রাপ্তি আমার আগামী দিনের পথচলায় অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করবে।’


মমতাজ তিন দশকের বেশি সময় ধরে পেশাদার শিল্পী হিসেবে কাজ করছেন। সংগীতজীবনে সাত শতাধিক একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে তাঁর। ২০০০ সালে হানিফ সংকেতের আমন্ত্রণে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে গান করেন তিনি। মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের কথায় ও সোহেল আজিজের সুরে ‘রিটার্ন টিকিট’ গানটি গেয়েছিলেন সে সময়। এরপরই রাতারাতি সারা দেশের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যান তিনি। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন মমতাজ। ২০১৮ সালে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন এই শিল্পী। তার আগে ২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংসদ সদস্য মনোনীত হন।


গান ও রাজনীতির বাইরেও নানা ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন মমতাজ। দায়বদ্ধতা থেকে ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন মমতাজ চক্ষু হাসপাতাল। ২০০৮ সালে সিঙ্গাইরে তাঁর গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘মমতাজ শিশু ও চক্ষু হাসপাতাল’। বাংলাদেশ বধির ক্রীড়া ফেডারেশনের সভাপতি তিনি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন ২০১০ সাল থেকে। মমতাজ বেগম আন্তর্জাতিক চক্ষু চিকিৎসা সংস্থা অরবিসের দৃষ্টিদূত ও অস্ট্রেলিয়ার একটি শিক্ষাবিষয়ক সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।

0 Share Comment
National/International News Group
12 April 2021, 20:47

Jhalokati DC office job Circular 2021

Jhalokati DC office job Circular 2021
Source: Jugantor, 08 April 2021
Application Deadline: 30 April 2021
0 Share Comment
National/International News Group
12 April 2021, 20:44

Munshiganj DC office job Circular 2021


Munshiganj DC office job Circular 2021
Source: Ittefaq, 11 April 2021
Application Deadline: 05 May 2021
0 Share Comment
National/International News Group
12 April 2021, 20:43

BRAC Bank Job Circular 2021

0 Share Comment
National/International News Group
12 April 2021, 20:41

Square Group Job Circular 2021

0 Share Comment
National/International News Group
12 April 2021, 20:38

Bashundhara Group Job circular 2021

Bashundhara Group Job circular 2021
Source: Bangladesh Pratidin, 11 April 2021
Application Deadline: 20 April 2021
0 Share Comment
National/International News Group
12 April 2021, 20:38

icddr,b job Circular 2021

0 Share Comment
National/International News Group
11 April 2021, 16:22

বরের উচ্চতা ৪০ ইঞ্চি কনের ৪২

বরের উচ্চতা ৪০ ইঞ্চি কনের ৪২
বর আব্বাস মন্ডলের বয়স ৩০ হলেও উচ্চতা ৪০ ইঞ্চি এবং কনের বয়স ১৮ হলেও উচ্চতা ৪২ ইঞ্চি। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) রাতে তাদের বিয়ে হয়েছে। বরের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আউশিয়া গ্রামে। কনের বাড়ি একই উপজেলার লক্ষ্মণদিয়া গ্রামে।

শারিরীক প্রতিবন্ধী এ নব দম্পতিকে দেখতে গ্রামের মানুষ ভিড় করছে। কেউ কেউ শুভকামনা জানিয়ে উপঢৌকন দিচ্ছেন। সারাদিনই বরের বাড়িতে গ্রামের মানুষের আসা যাওয়া চলে।
সম্পর্কিত খবর

ভারত যাওয়ার সময় নারীসহ আটক ৮
ঝিনাইদহে ২৫০ শয্যা হাসপাতালের উদ্বোধন
ঝিনাইদহে মাতব্বরদের লঙ্কাকাণ্ড

বরের বাবা আজিবর মন্ডল খর্বকায় ছেলের জন্য পাত্রী পাচ্ছিলেন না। আবার কনের বাবা ইউনুস আলীও খর্বকায় মেয়ে মিম খাতুনের জন্য পাত্র খোঁজ করছিলেন। অবশেষে পাত্রের খোঁজ পান। তারপর দু’পক্ষ বসে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করেন।

বরের মা সালেহা বেগম ছেলের বউকে পেয়ে খুশি। তিনি সকলের কাছে নব দম্পতির জন্য দোয়া কামনা করেন।

আব্বাস মন্ডলের বাবা আজিবর মণ্ডল জানান, আমরা কৃষক পরিবার অনেকদিন ধরে ছেলের জন্য মেয়ে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অবশেষে শৈলকুপার লক্ষনদিয়া গ্রামে একটি মেয়ে খুঁজে পাওয়া যায়। আমরা জানতে পারি গ্রামের ইউনুস আলীর একটি মেয়ের আছে। পরে বিয়ের পয়গাম পাঠানোর পর রাজি হয় কনের পরিবার। এরপর আসে সেই মাহেদ্রক্ষণ। শুক্রবার রাতে ছেলে আব্বাস উদ্দীনের সঙ্গে মিমের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এই বিয়েতে ১৫ জন বরযাত্রী যায়।

শনিবার বিয়ে বাড়ি গিয়ে দেখা যায় বর-কনে পাশাপাশি বসে খোশ মেজাজে গল্প করছেন। তাদের সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চান আব্বাস মন্ডল ও মিম খাতুন।
0 Share Comment
National/International News Group
11 April 2021, 16:20

১৭ কেজি ওজনের পাঙ্গাস ২২ হাজার টাকায় বিক্রি

১৭ কেজি ওজনের পাঙ্গাস ২২ হাজার টাকায় বিক্রি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে ১৬ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি পাঙ্গাস মাছ ধরা পড়েছে। মাছটি স্থানীয় আড়তে তোলা হলে ব্যবসায়ী মো. চান্দু ১ হাজার ২৬৫ টাকা কেজি দরে কিনে নেন।

জেলে জয়নাল সরদার বলেন, রবিবার দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ভোর রাতে জাল পেতেছিলেন তিনি। আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে মাছটি ধরা পড়ে। মাছটির ওজন ১৬ কেজি ৭০০ গ্রাম। দৌলতদিয়া ঘাটের বাজারে দুলাল মন্ডল আড়তে নিয়ে গেলে মো. চান্দু কিনে নেন।

মাছ ব্যবসায়ী চান্দু বলেন, দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে যাতায়াতকারী অনেক মানুষকে তিনি মাছ দেন। এক ক্রেতা মাছটির খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে আবু তাহের (প্রবাসী) তার বাড়ির জন্য মাছটি ফোনে যোগাযোগ করে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে প্রায় ২২ হাজার টাকায় কিনে নেন। তার বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দায়। বিশাল আকৃতির এই মাছটি দেখার জন্য সকাল সকাল আড়তে মানুষের ভিড়ও লক্ষ্য করা গেছে।
0 Share Comment
National/International News Group
11 April 2021, 16:18

অ্যামাজনের ডেটা সেন্টার উড়িয়ে দেয়ার হুমকি

অ্যামাজনের ডেটা সেন্টার উড়িয়ে দেয়ার হুমকি
অ্যামাজনের ওয়েব সার্ভিসের ডেটা সেন্টার উড়িয়ে দেয়ার হুমকি পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই। ইতিমধ্যে টেক্সাস থেকে একজনকে গ্রেপ্তারের খবর জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।

প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট সিনেট জানিয়েছে, ওই ‍ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেঠ অ্যারন পেন্ডলি নামের ওই ব্যক্তি এফবিআই এজেন্টের থেকে সি-৪ প্ল্যাস্টিক বিস্ফোরক কেনার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি জঙ্গিদের একটি ওয়েবসাইটে এর আগে বলেন, ৭০ শতাংশ ইন্টারনেট গুঁড়িয়ে দিতে চান।

এফবিআই জানিয়েছে, সচেতন এক নাগরিকের শেয়ার করা তথ্য থেকে তারা হুমকির বিষয়ে জানতে পারেন।

অ্যামাজনের এক মুখপাত্র এফবিআইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করছি। হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এফবিআইকে ধন্যবাদ।’

যুক্তরাষ্ট্রে জানুয়ারির ৬ তারিখের দাঙ্গার পর থেকেই অ্যামাজন ডানপন্থীদের রোষানলে আছে। ওই সময় কোম্পানিটি তাদের ক্লাউড সার্ভিস সেবা বন্ধ করে দেয়।

এই ধরনের ডেটা সেন্টারে শত শত কম্পিউটার থাকে। ব্যবহারকারীর ব্যবহৃত তথ্য সেখানেই প্রস্তুত করা হয়। একই সঙ্গে সেগুলো আবার সেখানেই সংরক্ষিত থাকে। যেমন আপনি ইন্টারনেটে যখন গুগলের সেবা জিমেইল বা ইউটিউব চালান, তখন কার্যক্রম শুরু হয় এই ডেটা সেন্টার থেকেই। জিমেইল ওপেন করলেই আপনি গুগলের একটি সেন্টারে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে সুপার কম্পিউটারের পাওয়ার চলে যায় আপনার কিবোর্ডে।

স্পর্শকাতর এই সেন্টারগুলোকে ইন্টারনেটের ‘প্রাণকেন্দ্র’ বলা হয়। নিজস্ব নিরাপত্তা দল এখানে বিভিন্ন শিফটে কাজ করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা।

আলাদা আলাদা লোকেশনে একাধিক কম্পিউটারে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর ডেটা সেভ থাকে বলে এটি নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। কার্যক্রমের সব তথ্য সংরক্ষণ করতে কোম্পানিগুলো একাধিক পদ্ধতিতে নজর রাখে।
0 Share Comment
National/International News Group
11 April 2021, 16:16

মুহূর্তেই ভাইরাল গেইলের গান ‘জ্যামাইকা টু ইন্ডিয়া’

মুহূর্তেই ভাইরাল গেইলের গান ‘জ্যামাইকা টু ইন্ডিয়া’
কয়দিন আগে ভাইরাল হয়েছিল হোটেল রুমে ক্রিস গেইলের নাচ। এবার মুহূর্তেই ভাইরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানের নতুন গান।

ভারতের জনপ্রিয় হিপ-হপ গায়ক এমিওয়ে বান্তাইয়ের সঙ্গে গাওয়া ‘ইউনিভার্স বস’ খ্যাত গেইলের গানটি রোববার প্রকাশ পেয়েছে ইউটিউবে। ইতিমধ্যে ভক্তদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে তার ‘জ্যামাইকা টু ইন্ডিয়া’ শীর্ষক গানটি।

গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি নাচের প্রতিভাও দেখিয়েছেন এবারের আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে মাঠে নামতে যাওয়া গেইল। মুহূর্তেই ভাইরাল হওয়া গানটির মিউজিক ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন কয়েকজন নারী অভিনেত্রীও।
EMIWAY BANTAI X CHRIS GAYLE (UNIVERSEBOSS) - JAMAICA TO INDIA (PROD BY TONY JAMES) (OFFICIAL VIDEO)
Artist - Emiway Bantai and Chris Gayle aka Universeboss Lyrics - EmiwayMusic - Tony JamesChris Gayle Team Lyrics - Camar Doyles , Georvin Briscoe, Christoph...
0 Share Comment
National/International News Group
11 April 2021, 16:15

বৃহত্তর স্বার্থে লকডাউনে সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান কাদেরের

বৃহত্তর স্বার্থে লকডাউনে সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান কাদেরের-Pic:Collected
আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনে জরুরি সেবা ছাড়া সবাইকে বৃহত্তর স্বার্থে ঘরে থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রবিবার নিজের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ধারাবাহিকতায় সরকার লকডাউন ঘোষণা করে।

তিনি বলেন, ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন। এ সময় জরুরি সেবা ছাড়া সবাইকে ঘরে অবস্থান করতে হবে আমাদের বৃহত্তর স্বার্থে।

১২ ও ১৩ এপ্রিল তাহলে কী হবে- জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রথম ধাপের বা চলমান লকডাউনের ধারাবাহিকতা চলবে ১২ ও ১৩ এপ্রিল।

তিনি বলেন, আগামীকাল সোমবার এবং পরশু মঙ্গলবার যথারীতি শুধুমাত্র দেশের সিটি করপোরেশন এলাকায় শর্তসাপেক্ষে সমন্বিত ভাড়ার অর্ধেক আসন খালি রেখে গণপরিবহন চলবে। দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত।

এই সংকটকালে দেশের মানুষকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বাস্থ্যবিধির প্রতি সামান্য অবহেলা আমাদের চিরচেনা জীবন থেকে ছিটকে দিতে পারে। হয়ে যেতে পারে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজনের এই মায়াময় পৃথিবী অচেনা।

তিনি বলেন, জীবনের পাশাপাশি জীবিকার চাকা সচল রাখতে আমাদের আস্থার ঠিকানা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখুন, ভরসা রাখুন স্রষ্টার প্রতি।
0 Share Comment
National/International News Group
11 April 2021, 16:13

তাপপ্রবাহ আরও বিস্তার লাভ করবে

তাপপ্রবাহ আরও বিস্তার লাভ করবে
কুষ্টিয়া অঞ্চলসহ রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ খবর জানানো হয়।

এতে বলা হয়, কুষ্টিয়া অঞ্চলসহ রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটি অব্যাহত থাকতে পারে এবং আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।

সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহী ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রবিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ১৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শনিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রবিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার (তিন দিন) আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়, এই সময়ে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।
0 Share Comment
National/International News Group
11 April 2021, 16:10


১২ ও ১৩ এপ্রিল দূরপাল্লার পরিবহনও বন্ধ ঘোষণা

১২ ও ১৩ এপ্রিল দূরপাল্লার পরিবহনও বন্ধ ঘোষণা
১২ ও ১৩ এপ্রিল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রোববার (১১ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন।

১২ ও ১৩ এপ্রিল তাহলে কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের স্পষ্ট করে বলেন, প্রথম ধাপের চলমান লকডাউনের ধারাবাহিকতা চলবে ১২ ও ১৩ এপ্রিল। দেশে চলছে প্রথম দফার সাত দিনের শিথিল ‘লকডাউন’। আজ শেষ হচ্ছে সেই লকডাউন। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে অপেক্ষাকৃত কঠোর ও সর্বাত্মক লকডাউন।
0 Share Comment
National/International News Group
11 April 2021, 16:08

১৪ এপ্রিল থেকে বন্ধ হতে পারে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও

১৪ এপ্রিল থেকে বন্ধ হতে পারে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও
আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে কঠোর লকডাউন। এই লকডাউন চলাকালে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও বন্ধ হতে পারে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
রোববার (১১ এপ্রিল) কঠোর লকডাউনের বিষয়ে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করবে। প্রজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বেবিচক।
0 Share Comment
National/International News Group
11 April 2021, 16:05

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে
করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার বুথ বসানো হয়েছে। প্রতিজনের নমুনা পরীক্ষায়
ফি ধরা হয়েছে ১৫০০ টাকা।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী,
কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এবং এঁদের পরিবারের সদস্যরা বুথটিতে নমুনা দিয়ে
করোনা পরীক্ষা করাতে পারবেন। সাধারণত নমুনা দেওয়ার পরের দিনই মিলছে
রিপোর্ট।


শুক্রবার বাদে সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা নমুনা নেওয়া হচ্ছে। 


গত রোববার (৪ মার্চ) থেকে করোনার নমুনা
পরীক্ষা শুরু হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা.
সারওয়ার জাহান মুক্তাফী। ডা. মুক্তাফী বলেন, প্রতিদিন গড়ে নয় থেকে ১০ জন
এখান থেকে সেবা নিচ্ছেন।


পুরো কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অফ
এক্সেলেন্সের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানান ডা. মুক্তাফী। এর আগেও
করোনার নমুনা বুথ চালু ছিল। সেটিই মোকাররম ভবন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের
চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।


তবে করোনার নমুনা পরীক্ষা ফি বেশি রাখা
হয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও চলচিত্র
অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এজেডএম শফিউল আলম ভূইয়া এ সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার
করে তাঁর ফেসবুকে পোস্ট দিলে সেখানে উদ্যোগের প্রশংসার পাশাপাশি বহু
শিক্ষার্থীকে ফি অনেক বেশি রাখা হয়েছে বলে মত দেন।


এ ছাড়া সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছে। সরকারের
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স টিকাদান
কার্যক্রম বাস্তবায়নের কাজ করছে। তবে এই টিকাদান এখনও শুরু হয়নি।


0 Share Comment
National/International News Group
11 April 2021, 15:58

বাবা তোফাজ্জল হোসেন ছেলে মো. তাইবুর রহমান। সদর উপজেলার ছিলিমপুর ইউনিয়নের চরপাকুল্যা গ্রামে তাদের বাড়ি।


গ্রামের বাজারে একটি ওষুধের দোকান (তোফাজ্জল
মেডিকেল হল) দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবা ও ছেলে নিজেদের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে
সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন।


তোফাজ্জল হোসেন একজন পল্লী চিকিৎসক এবং ছেলে
তাইবুর রহমান ফার্মাসিস্ট। কিন্তু তারা রোগীদের পরিচয় দিয়ে থাকেন বাবা ও
ছেলে দুইজনেই ডিগ্রিধারী ডাক্তার। এজন্য তারা দুজনেই তাদের নামের আগে
ডাক্তার ব্যবহার করে থাকেন। এমনকি রোগীদের ব্যবস্থাপত্রও লিখে থাকেন তারা।


শনিবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে পাকুল্যা বাজারে
সরেজমিন তোফাজ্জল হোসেনের ফার্মেসিতে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়।  সেখানে
কথা হয় জোয়াহের আলী নামে একজনের সঙ্গে।  


তিনি জানান, তার স্ত্রীর শরীর খুব দুর্বল।
তাই এখানে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন। কিন্তু ডাক্তার তার স্ত্রীকে দেখে
স্যালাইন দিয়ে রেখেছেন। তবে স্যালাইন পুশ করার আগে তার স্ত্রীকে কোনো
পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়নি। পাশেই রাখা দুটি প্রেসক্রিপশনের দিকে নজর পরলে
দেখা যায় রুনা ও লিমা নামে দুই নারীকে চিকিৎসাপত্র লিখে দিয়েছেন তার ছেলে
মো. তাইবুর রহমান। রোগীর সমস্যা লেখা না হলেও রুনাকে ১ মাসের ৫টি ওষুধ ও
লিমাকে এন্টিবায়োটিকসহ সাত দিনের ৪টি ওষুধ লিখে দেওয়া হয়েছে।


মো. তোফাজ্জল হোসেনের প্যাডে লেখা ডা. মো.
তোফাজ্জল হোসেন, অভিজ্ঞ পল্লী চিকিৎসক এল এম এ এফ—ঢাকা, পাকুল্যা বাজার,
টাঙ্গাইল ও মো. তাইবুর রহমানের প্যাডে লেখা ডা. মো. তাইবুর রহমান,
ফার্মাসিস্ট, সিএইচডাব্লিউ টাঙ্গাইল, ডায়াবেটিক রোগ নিরাময়ে অভিজ্ঞ,
পাকুল্যা বাজার টাঙ্গাইল।


কোনো প্রকার ডিগ্রি ছাড়াই নামের আগে তারা
বাবা ও ছেলে দুজনেই ডাক্তার লিখেন। শুধু তাই নয়, নিজস্ব প্যাডে
চিকিৎসাপত্র এবং জটিল রোগের জন্য এন্টিবায়োটিক ওষুধ লিখে দেন।  


এছাড়া তাদের ফার্মেসিতেই পরীক্ষা নিরীক্ষা
ছাড়াই ফোড়া, গ্যাজ অপারেশন ও কাটা ছেড়ার চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে। এতে করে
ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা গ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় এলাকাবাসী।


এলাকাবাসী জানান, পল্লী চিকিৎসকের সনদ নিয়ে
মো. তোফাজ্জল হোসেন পাকুল্যা বাজারে তোফাজ্জল মেডিকেল হল নামের একটি
ওষুধের দোকান শুরু করেন দীর্ঘ ১০/১১ বছর আগে। নিজের নামের আগে ডাক্তার লিখে
ও পদবি ব্যবহার করে চিকিৎসাপত্রও ছাপিয়েছেন। সেখানে রোগীর নামসহ প্রকৃত
ডাক্তারের মতো ৭দিন, ১৫ দিন ও ১ মাসের এন্টিবায়োটিকসহ নানা ওষুধ লিখে দেন।
আবার তাদের দোকান থেকেই ওষুধগুলো বেশি দামে কিনে নিতে হয়।


সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে তার দোকানের
বাইরে তোফাজ্জল মেডিকেল হল নামে কোনো সাইনবোর্ড নেই। তবে ব্যবস্থাপত্রে তার
দোকানের নাম লেখা রয়েছে। তাদের দোকানে এক কক্ষের ভেতর দুটি ভাগ করা। এক
পাশে তারা দুজনেই রোগী দেখেন ও সেলফে বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ আরেক পাশে
হাসপাতালের মতো বিছানা।


হাসান মিয়া নামে এক ব্যক্তি জানান, তাকে
কয়েকদিন আগে তোফাজ্জল ডাক্তার সাড়ে ৫০০ টাকার ওষুধ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে
সেই ওষুধ অন্য দোকান থেকে সাড়ে তিনশ টাকায় এনেছিলাম। তারা বাবা ও ছেলে
দীর্ঘদিন ধরে প্রেসক্রিপশন করে ওষুধ বিক্রি করে থাকেন।


রফিকুল ইসলাম স্বপন নামে এক পল্লী চিকিৎসক
জানান, তাদের নামের আগে ডাক্তার লেখা, চিকিৎসাপত্র দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
এছাড়া অপারেশন ও অধিক দামে ওষুধ বিক্রি করাও ঠিক হয়নি। কেউ যদি করে থাকে
তাহলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. তাইবুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


এদিকে তোফাজ্জল হোসেন জানান, ২১ বছর ধরে
এখানে তিনি ডাক্তারি করছেন। এতোদিন কেউ কিছুই বলেনি। প্রেসক্রিপশন ছাড়া
এন্টিবায়োটিক ওষুধ বিক্রির নিয়ম নেই। এ জন্য নিজেরাই প্রেসক্রিপশন করে
থাকেন। নামের আগে ডাক্তার লেখা ও প্রেসক্রিপশন করার অনুমতি তাকে জেলা পল্লী
চিকিৎসক কল্যাণ সমিতির সভাপতি দিয়েছেন বলেও জানান।


টাঙ্গাইল জেলা পল্লী চিকিৎসক কল্যাণ সমিতির
সভাপতি আব্দুল খালেক জানান, নামের আগে ডাক্তার লেখা ও চিকিৎসাপত্র দেওয়ার
অনুমতি কোনো পল্লী চিকিৎসককে দেওয়া হয়নি। তোফাজ্জল হোসেন ও তার ছেলে
তাইবুর রহমান যা করছেন তা অপরাধ। তারা ঠিক করছেন না।


এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল
ফজল মো. সাহাব উদ্দিন খান জানান, যারা এল এম এ এফ ডিগ্রি নিয়েছেন তারা
হাইকোর্টে রিট করে রেখেছেন। তাদের মামলা চলমান রয়েছেন। আর যারা
ফার্মাসিস্ট তারা কোনোভাবেই নামের আগে বা পরে ডাক্তার লিখতে পারেন না। খোঁজ
নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


0 Share Comment
National/International News Group
11 April 2021, 15:56

ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে সিনিয়র ম্যানেজার–রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স
রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।


শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা:


স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম
স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীর
ন্যূনতম ১০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।


কর্মস্থল: ঢাকা। বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে।


আবেদনের প্রক্রিয়া


আগ্রহী প্রার্থীরা বিডিজবস অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।


আবেদনের শেষ তারিখ


৩০ এপ্রিল, ২০২১।


0 Share Comment
National/International News Group
11 April 2021, 15:46

ফাঁস হলো অর্ধ কোটি লিংকড ইন প্রোফাইলের তথ্য

ফাঁস হলো অর্ধ কোটি লিংকড ইন প্রোফাইলের তথ্য

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ফেসবুকের ৫৩ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের ঘটনা। সেই খবরের রেশ শেষ হতে না হতেই জানা গেছে, ৫০ কোটি লিঙ্কড ইন একাউন্ট এর তথ্য ফাঁসের খবর।

সাইবার নিউজ এর তথ্যানুযায়ী একটি জনপ্রিয় হ্যাকার ফোরামে বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে ৫০ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য। এ ছাড়াও নমুনা হিসেবে মোট ৪টি ফোল্ডারে এ রাখা হয়েছে আরও ২ কোটি প্রোফাইল।

ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারীর লিংকড ইন আইডি, ব্যবহারকারীর পুরো নাম, ইমেইল এড্রেস, জেন্ডার, লিংকড ইন প্রোফাইলের লিংক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের লিংক।

তথ্য ফাঁসের পাশাপাশি প্রফেশনাল টাইটেল এবং অন্যান্য কাজ সম্পর্কিত তথ্যও ফাঁস হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, আজ থেকে ১৭ বছর আগে অর্থাৎ ৫ মে ২০০৩ সালে লঞ্চ করা হয়েছিল প্রোফেশনাল নেটওয়ার্কিং এর জন্য বহুল ব্যবহৃত প্লাটফর্ম লিংকড ইন। এটি এখন বেশ জনপ্রিয়।
0 Share Comment
National/International News Group
11 April 2021, 15:41

সরকারি ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ
বিধি মোতাবেক খোশবাজার ছালেহিয়া দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদরাসায় একজন
উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হবে। 


প্রার্থীদেরকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ১ হাজার
টাকার অফেরতযোগ্য ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডারসহ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের
মধ্যে সভাপতি বরাবর আবেদন করতে হবে। অগ্রণী ব্যাংক লিঃ, মুন্সিরহাট শাখা,
ঠাকুরগাঁওয়ের অনুকূলে ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার করতে হবে। 


যোগাযোগঃ- সভাপতি, খোশবাজার ছালেহিয়া দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদরাসা, খলিশাকুড়ি, ঠাকুরগাও। 


সূত্রঃ ১১ এপ্রিল-2021, দৈনিক জনকণ্ঠ।


0 Share Comment
Bakar
10 April 2021, 19:51

Drug International Limited job circular 2021

Drug International Limited job circular 2021
Source: Prothom Alo, 09 April 2021
Application Deadline: 23 April 2021
0 Share Comment
Bakar
10 April 2021, 19:48

SK+F Job Circular 2021

SK+F Job Circular 2021
Source: Prothom Alo, 09 April 2021
Application Deadline: 17 April 2021
0 Share Comment
Bakar
10 April 2021, 19:44

Jamuna Group Job Circular 2021

Jamuna Group Job Circular 2021
Source: Prothom Alo, 09 April 2021
Application Deadline: 12 April 2021
0 Share Comment
Bakar
10 April 2021, 19:21

৩০ বছর পর নখ কাটলেন আয়ানা

৩০ বছর পর নখ কাটলেন আয়ানা
সবচেয়ে দীর্ঘতম নখের জন্য ২০১৭ সালে প্রথমবারে মতো গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বাসিন্দা আয়ানা উইলিয়ামসের। ধীরে ধীরে সেই নখের দৈর্ঘ্য আরও বেড়েছে। ত্রিশ বছর পর তিনি সেই নখ কাটার সিদ্ধান্ত নেন। তবে নখ কাটতে গিয়ে রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন আয়ানা।

সম্প্রতি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষ নখ কাটার আগে আয়ানার নখের যে দৈর্ঘ্য ছিল তা প্রকাশ করেছে। এতে জানা গেছে, আয়ানার ডান হাতের নখের দৈর্ঘ ছিল ১১ ফুটের কিছু বেশি আর ডান হাতে নখের দৈর্ঘ্য ছিল ১২ ফুটের বেশি। সব মিলিয়ে তার নখের মোট দৈর্ঘ্য ছিল ২৪ ফুট সাত ইঞ্চি।

আয়ানা জানান, ১৯৯০ সাল থেকে নখ রাখছেন তিনি। তার নখ রঙ করতে একবারে অন্তত দুই বোতলের বেশি নেইল পালিস লাগত। আর মেনিকিউর করতে হলে কমপক্ষে ২০ ঘণ্টা সময় লাগত।

জানা গেছে, আয়ানার নখ কাটতে এক ধরনের বিশেষ ইলেকট্রিক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। নখ কাটার পর আয়ানা বলেন, নখ থাকুক বা না থাকুক, আমি রানিই থাকব। তার নখ কাটার ভিডিওটি ইতিমধ্যে ভাইরালও হয়েছে।

জানা গেছে, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর রিপলির বিলিভ ইট বা নট জাদুঘরে আয়ানার কাটা সেই নখের প্রদর্শনী শুরু হয়েছে শুক্রবার থেকে। আয়ানার ভাষায়, এটা তার জন্য দারুণ খবর। তার সন্তান এবং নাতি নাতনিদের জন্যও এটা ইতিহাস হয়ে থাকবে।
0 Share Comment
National/International News Group
09 April 2021, 21:11

Bangladesh Export Processing Zone Authority BEPZA Job Circular 2021

Bangladesh Export Processing Zone Authority BEPZA Job Circular 2021
Source: Daily Ittefaq, 08 April 2021
Application Deadline: 20 May 2021
0 Share Comment
National/International News Group
09 April 2021, 21:07

Cantonment Public School & College Job Circular 2021

0 Share Comment
National/International News Group
09 April 2021, 21:03

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তীব্র
প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং এসডিজি অর্জনে অবদান
রাখতে সক্ষম যথোপযুক্ত দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
গ্র্যাজুয়েটদের ভাষা দক্ষতা অর্জন ও তাদেরকে নিয়োগযোগ্য করে গড়ে তোলার
উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ জন্য ‘গ্র্যাজুয়েট প্রমোশন এন্ড
স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। 


গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) উপাচার্য
অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ
সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ডিনস্ কমিটির সুপারিশ এবং একাডেমিক পরিষদের অনুমোদন
অনুযায়ী সিন্ডিকেট এ কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গ্র্যাজুয়েট প্রমোশন এন্ড স্কিল
ডেভেলপমেন্ট’ কর্মসূচির আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন
বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান, বিভাগ, শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে আন্তঃসম্পর্ক ও
আন্তঃসহযোগিতার জন্য সমঝোতা চুক্তি-বিনিময় চুক্তি সম্পাদন করবে।
শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজিসহ অন্য যে কোনো একটি আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার
জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে। জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক সরকারি, বেসরকারি
সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে
প্রায়োগিক জ্ঞান শেখানোর বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।


একই কর্মসূচির আওতায় অনুষদগুলোর ডিনরা নিজ
নিজ অনুষদভুক্ত বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ইনস্টিটিউটের পরিচালকরা সংশ্লিষ্ট
শিক্ষকদের নিয়ে চালচলন, সৌজন্যবোধ, কর্পোরেট শিষ্টাচার, উপস্থাপনা,
প্রযুক্তির ব্যবহার, ভাষার দক্ষতা ইত্যাদি বিষয়ে মৌলিক নীতিমালা প্রণয়ন
করবে এবং সেই আলোকে গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে এক বা দুই সপ্তাহ
প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেবেন।


এছাড়া, সিন্ডিকেট সভায় একাডেমিক পরিষদের
সুপারিশ অনুযায়ী ২৫জন গবেষককে পিএইচডি, ১জন গবেষককে ডিবিএ এবং ২২জন গবেষককে
এমফিল ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


0 Share Comment
National/International News Group
09 April 2021, 21:02

মুজিবনগর দিবস কাল

মুজিবনগর দিবস কাল
আগামীকাল ১০এপ্রিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে এদিনে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলায় এই সরকার শপথ গ্রহণ করে। মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করেন ‘মুজিব নগর’। সেই থেকে কলকাতায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার ‘মুজিবনগর’ সরকার নামে পরিচিত হয়। এই সরকারের নেতৃত্বে পুরো মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়।

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার আগে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরে একই বছরের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়। একই সাথে প্রবাসী সরকারের এক অধ্যাদেশে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়।

সদ্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের নির্বাচিত জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি গোপন স্থানে মিলিত হয়ে প্রবাসী সরকার গঠন করেন। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) নির্বাচিত করা হয়। সৈয়দ নজরুল ইসলাম পরে তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেন।

মন্ত্রী সভার অন্য সদস্যরা হলেন, এম মনসুর আলী (অর্থ বাণিজ্য ও শিল্প) এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান (স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি)। পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রীসভার সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি খন্দকার মোশতাক আহমদও (পররাষ্ট্র , আইন ও সংসদ) মন্ত্রী সভার সদস্য ছিলেন।

১০ এপ্রিল সরকার গঠনের পর ১১ এপ্রিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তাজউদ্দিন আহমদ একটি বেতার ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি দেশব্যাপী পরিচালিত প্রতিরোধ যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। এছাড়াও ১৭ এপ্রিল মন্ত্রী সভার শপথ গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয়।

মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী গ্রাম বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। শপথ গ্রহণের পরই তাজউদ্দিন আহমদ এ স্থানের নাম দেন ‘মুজিবনগর’। পরবর্তী সময়ে প্রবাসী সরকার মুজিবনগর সরকার হিসেবেই পরিচিতি লাভ করে।

এদিকে ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর সরকারের মন্ত্রীরা শপথ নিলেও ১৮ এপ্রিল মন্ত্রী পরিষদের প্রথম সভায় মন্ত্রীদের দপ্তর বন্টন করা হয়। মুজিবনগর সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। শুধু তাই নয়, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের এই প্রথম সরকারের কুটনৈতিক প্রচেষ্টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ এর ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। এর আগে ভারত এবং ভুটান এ সরকারকে স্বীকৃতি দেয়।
0 Share Comment
National/International News Group
09 April 2021, 21:00

হিমছড়ি সৈকতে বিশালাকার তিমি

হিমছড়ি সৈকতে বিশালাকার তিমি-ছবি : সংগৃহিত


বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার রামু এলাকায় সমুদ্র সৈকতে পড়ে আছে বিশালাকৃতির একটি মৃত তিমি। বেলা সাড়ে বারটার দিকে জোয়ারের পানি নামতে শুরু করলে তিমিটি স্থানীয় লোকজনের চোখে পড়ে। হিমছড়ি ও দরিয়ানগর নামক এলাকার মাঝামাঝি একটি জায়গায় তিমিটিকে পাওয়া গেছে বলে বলছেন স্থানীয় সাংবাদিক তারিকুর রহমান।

মিস্টার রহমান বলছেন ঠিক কখন কিভাবে ভেসে এসেছে তিমিটি তা বোঝা যাচ্ছে না, তবে কয়েকদিন আগেই যে মারা গেছে তা নিশ্চিত - কারণ তিমিটি থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিন আল পারভেজও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মিস্টার পারভেজ বলেন, "প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তারা তিমিটির মৃত্যুর কারণসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। এর পর তাদের পরামর্শ নিয়ে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব"।

তিনি বলেন সাধারণভাবে মনে হচ্ছে বেশ কয়েকদিন আগেই মারা গেছে এটি এবং সে কারণে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় খুব দ্রুতই এটিকে অপসারণ করতে হবে।
0 Share Comment
Deshi Group
09 April 2021, 09:00

বয়স ৭৪ তাতে কী?

বয়স ৭৪ তাতে কী?
কথায় আছে— ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়! এবার সেটি প্রমাণ করলেন জোয়ান ম্যাকডোনাল্ড। বয়স যে শুধুই একটি সংখ্যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন তিনি। জোয়ান ম্যাকডোনাল্ডের বয়স ৭৪। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন। এই বয়সেও নিজের শারীরিক গড়নের অবিশ্বাস্য পরিবর্তন এনেছেন তিনি। তাকে দেখে নেটিজেনদের চোখ কপালে!

কিন্তু এক সময় জোয়ানের শরীর এতটাই মোটা ছিল ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারতেন না। এছাড়া বিভিন্ন রোগে ভুগতেন তিনি। উচ্চ রক্তচাপ, আর্থ্রাইটিস, উচ্চ কোলেস্টেরলসহ নানা রোগ শরীরে বাসা বেঁধেছিল। হাঁটুতে করাতে হয়েছে অস্ত্রোপচার। এক কথায় অনেক দুর্বিষহ সময় কাটিয়েছেন তিনি। কিন্তু সবকিছু জয় করে তিনি এখন পুরো ফিট। এক কিংবা দুই নয়, শারীরিক কসরত করে ২৯ কেজি ওজন কমিয়েছেন জোয়ান।

তবে জোয়ানের এমন পরিবর্তন নিয়েও অনেকে বিতর্কও হচ্ছে। কারো কারো মতে, হরমোন রিপ্লেস থেরাপি নিয়েছেন তিনি। তবে নিন্দুকের কথায় কান দিতে রাজি নন জোয়ান। প্রতিদিন সকাল ৭ টায় ঘুম থেকে ওঠেন। এরপর নিয়ম করে ওয়ার্কআউট করেন। ধারাবাহিকতা, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায় তাকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ফটো ও ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইনস্টাগ্রামে তার ওয়ার্কআউটের নানা ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন জোয়ান। এতে বিভিন্নভাবে ওয়ার্কআউটের পদ্ধতি দেখান তিনি। অনেকেই তাকে দেখে অনুপ্রেরণা খুঁজে পেয়েছেন। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা সাত লাখের বেশি।
0 Share Comment
Deshi Group
09 April 2021, 08:57

কাচ্চি বিরিয়ানি, খাসির রেজালা, জাফরানি মুরগি পোলাও’র উদ্ভাবক মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের

কাচ্চি বিরিয়ানি, খাসির রেজালা, জাফরানি মুরগি পোলাও’র উদ্ভাবক মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের
একটি সত্য ঘটনা… যখন সুস্বাদু কাচ্চি বিরিয়ানি খাই তখনই মনে পড়ে মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের কথা। মনে মনে ধন্যবাদ দিই মুঘল সম্রাজ্ঞীকে। এত মজাদার খাবারটা আবিস্কার করার জন্য। অনেকে হয়ত জানেন না তিনিই কাচ্চি বিরিয়ানি, খাসির রেজালা, জাফরানি মুরগি পোলাও’র উদ্ভাবক। নূরজাহান ছিলেন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ২০ তম স্ত্রী। আগে তাঁর নাম ছিল মেহেরুন্নেসা। তিনি রাজদরবারের নৃত্যশিল্পী ছিলেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের আরেক নাম হল শাহজাদা সেলিম। সেলিম আনারকলির মর্মস্পর্শী প্রেমের কাহিনী আমরা সবাই জানি। ১৯৬০ সালে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘মুঘল-ই-আজম’-এ সে কাহিনী করুণভাবে চিত্রিত হয়েছে।

শুনলে রূপকথার মত লাগে মুঘল সম্রাট শাহজাদা শাহাজাদী এবং হেরেমের বাঈজিদের জীবন কাহিনী। সম্রাট আকবরের পুত্র শাহজাদা সেলিম ওরফে জাহাঙ্গীর বহু নারীতে আসক্ত ছিলেন। তিনি হেরেমের সবচেয়ে সুন্দরী বাঈজী আনারকলিকে ভালোবেসে ফেলেন। যা সম্রাট আকবর মেনে নিতে পারেননি।

রাজনর্তকী আনারকলি ছিলেন সম্রাট আকবরের হেরেমের রক্ষিতা। বয়সে আনারকলি সেলিমের চেয়ে ১০ বছরের বড় ছিলেন। নিজের রক্ষিতার সাথে ছেলের প্রেমের সম্পর্ক হওয়ায় নাখোশ হন সম্রাট আকবর। তাঁর নির্দেশে আনারকলিকে জীবন্ত দাফন করা হয় ইটের অন্ধকূপে। মুঘল হেরেমের হতভাগী আনারকলির মর্মান্তিক অধ্যায়ের ইতি ঘটে। শুরু হয় নূরজাহানের কাহিনী।
সম্রাজ্ঞী নূরজাহান কেবল ভারতবর্ষ বা মুঘল ইতিহাসেই নন, তিনি বিশ্ব ইতিহাসের এক বিস্ময়কর নারী ব্যক্তিত্ব। তিনি আজীবন ঐশ্বর্যময় জীবন কাটিয়েছেন। মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকাই মসলিনের প্রচলন হয়। এই সম্রাজ্ঞী সবচেয়ে ফ্যাশনেবল ছিলেন। সেই সাথে ছিলেন বিলাসিতার প্রতীকও। তাঁর সময় ভোজের সময় দস্তরখানের ব্যবহার, চোলি বা আধুনিক ব্লাউজের প্রচলন, পোশাকে বোতাম, বাদলা, কিঙ্গারি, ওড়না, অন্তর্বাস, নৈশবেশ, কুর্তা, সালওয়ার, কামিজ এবং জরির লেসের প্রচলন হয়। সোজা কথায় সম্রাজ্ঞী নূরজাহানই গোটা ভারতবর্ষে এইসব অভূতপূর্ব ফ্যাশনের জননী ছিলেন। ভারতবর্ষের সবচেয়ে দামী “গোলাপের আতর” তিনিই আবিস্কার করেন। মুঘল ইতিহাসে যার পোশাকী নাম ‘’আতরে জাহাঙ্গীরী!”
সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের বিলাসবহুল গোসলখানার টবে গোলাপ মিশ্রিত পানিতে ত্বকের সৌন্দর্যের জন্য উপকারী বহু সুগন্ধি জিনিস মিশিয়ে রাখা দেয়া হত।

নূরজাহানের স্নানের গোলাপ পানিতে আতর, চন্দন, রূপটান ও অন্যান্য প্রসাধনী সামগ্রী মিশ্রিত থাকতো। তাঁর প্রতিদিনের ব্যবহৃত সুগন্ধি গোলাপ আতরের দৈনিক খরচ পড়তো তৎকালীন তিন হাজার টাকা। তিনি বিধবা ছিলেন। তাঁর রূপ লাবণ্য ও আকর্ষণীয় দেহবল্লরী দেখে মুগ্ধ হয়ে পড়েন সম্রাট জাহাঙ্গীর। নূরজাহানের প্রথম স্বামী নিহত হয়েছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীরের সাথে শত্রুতার জেরে।

একদিন নূরজাহান একটি বাঘ শিকার করেন। স্ত্রীর বীরত্ব দেখে সম্রাট জাহাঙ্গীর অভিভূত হয়ে স্ত্রীকে একলক্ষ মুদ্রার হীরার চূড় উপহার দেন। ১৬২৭ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর ১৮টি বছর বন্দীদশায় কাটাতে হয়েছিল নূরজাহানকে। ১৬৪৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। পাকিস্তানের লাহোরের শাহদারাবাগে মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানকে সমাধিস্থ করা হয়।
সূত্র- Internet
0 Share Comment
Deshi Group
09 April 2021, 08:52

৮০ কিলোমিটার গতির কালবৈশাখীর শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

৮০ কিলোমিটার গতির কালবৈশাখীর শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা
দেশের একাধিক স্থানে আজ শুক্রবার ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতিতে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানতে পারে। ঝড়ের শঙ্কায় বিভিন্ন নদীবন্দরে দুই নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত নয়টার দিকে কালবৈশাখী ঝড়ের এ পূর্বাভাস জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়া অফিস জানায়, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে দুই নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কুমিল্লা, কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। গত ১২ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ঈশ্বরদীতে ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর একটি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
0 Share Comment
Deshi Group
09 April 2021, 08:33

আজ আইপিএলের নতুন আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি মুম্বাই-বেঙ্গালুরু। 


ক্রিকেট


ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ


মুম্বাই-বেঙ্গালুরু


রাত ৮:০০টা, সরাসরি


স্টার স্পোর্টস ১,


জলসা মুভিজ ও গাজী টিভি


ফুটবল


ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ


ফুলহাম-উলভারহাম্পটন


রাত ১:০০টা, সরাসরি


স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২


স্প্যানিশ লা লিগা


হুয়েস্কা-এলচে


রাত ১:০০টা, সরাসরি


ফেসবুক ওয়াচ


গলফ


অগাস্টা মাস্টার্স


রাত ১:০০টা, সরাসরি


স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১


রেসলিং


ডব্লিউডব্লিউই স্পেশাল


এনএক্সটি টেকওভার:


স্ট্যান্ড অ্যান্ড ডেলিভার


সকাল ৬:০০টা, সরাসরি


সনি টেন ১

0 Share Comment
National/International News Group
08 April 2021, 22:53

আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রার বাড়ার আভাস

আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রার বাড়ার আভাস
কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টির পর আগামী সপ্তাহের আবারও তাপমাত্রা বাড়ার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) রাতে এক পূর্বাভাসে আবহাওয়া এ আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর একটি বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে উত্তর বঙ্গোপসাগরে।

এই অবস্থায় শুক্রবার (৯ এপ্রিল) কুমিল্লা, কুষ্টিয়া ও যশাের অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানতঃ শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় ঢাকায় দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে বাতাসের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার।

শনিবার (১০ এপ্রিল) নাগাদ আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। বর্ধিত ৫ দিনে তাপমাত্রা বাড়বে।
কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা কম থাকলেও বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশি। ফলে গরম অনুভূত হচ্ছে বেশ।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৫১ শতাংশ। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে, ৩৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ঈশ্বরদীতে, ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যথাক্রমে ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
0 Share Comment
National/International News Group
08 April 2021, 22:51

ভিভো’র তিন স্মার্টফোনের দাম কমলো

ভিভো’র তিন স্মার্টফোনের দাম কমলো


ভিভো ভি২০, ওয়াই২০ ও ওয়াই১২এস স্মার্টফোনে ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে বহুজাতিক স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিভো। প্রথমে ভিভো ভি২০ এর মূল্যহ্রাস করে ভিভো । পরে সাম্প্রতিক সময়ে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাবার পর ভিভো ওয়াই২০ এবং ওয়াই১২এস এর মূল্যহ্রাসের ঘোষণা দেয় ভিভো।

আগে ভিভো ভি২০, ওয়াই২০ ও ওয়াই১২এস এর মূল্য ছিলো যথাক্রমে- ৩২,৯৯০ টাকা, ১৪,৯৯০ টাকা এবং ১২,৯৯০ টাকা। মূল্যহ্রাসের পর স্মার্টফোনগুলো যথাক্রমে ২৯,৯৯০ টাকা, ১৩,৯৯০ টাকা এবং ১১,৯৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ভিভো বাংলাদেশের এমডি মি. ডিউক বলেন, ’গত বছর করোনা প্রকোপের শুরুতে আমরা দেখেছি মানুষের জন্য স্মার্টফোন কত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলো। তাই এবার আবারো প্রকোপ বেড়ে যাবার পর; স্মার্টফোন সবার কাছে সহজলোভ্য করে তুলে, গ্রাহকদের পাশে থাকতে চায় ভিভো।

ভিভো ওয়াই২০ ও ওয়াই১২এস-এ ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারির সঙ্গে রয়েছে সাইড মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি। ভিভো ওয়াই২০’তে রয়েছে ৪ গিগাবাইট (জিবি) র্যাম এবং ৬৪ জিবি’র রম । স্মার্টফোনটির সামনে ৮ এমপির একটি ও পেছনে ১৩, ২ ও ২ এমপির তিনটি রিয়ার ক্যামেরা আছে।

অন্যদিকে ভিভো ওয়াই১২এস’এ রয়েছে ৩ জিবি’র র্যাম ও ৩২ জিবি’র রম। এই স্মার্টফোনে ৮ এমপির ফ্রন্ট ক্যামেরার সাথে দু’টি রিয়ার ক্যামেরা আছে।

এদিকে, ভিভো ভি২০ ছিলো ২০২০ সালে বাংলাদেশে সাড়া জাগানো স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি স্মার্টফোন। এটি ভিভো’র ফ্ল্যাগশিপ সিরিজের একটি স্মার্টফোন। বিশেষ করে এর ডুয়েল ভিডিও ক্যামেরা সব ধরণের গ্রাহকদের মন জয় করেছিলো। এতে আছে ৮জিবি’র র্যাম ও ১২৮ জিবি’র রম। ৪০০০ এমএএইচ ব্যাটারি’র সাথে ভিভো ভি২০-তে আছে ৩৩ ওয়াটের ফ্ল্যাশ চার্জ। যা এই বাজেটে পাওয়া খুবই মুশকিল।

ভিভো ভি২০ এর সামনে ৪৪ মেগাপিক্সেলের একটি ক্যামেরা আছে। রিয়ার ক্যামেরা আছে তিনটি। ফ্রন্ট ক্যামেরায় ৪৪ মেগাপিক্সেলের মতো বিশাল ক্যামেরা বাংলাদেশে ভিভো’ই প্রথম যোগ করে।
0 Share Comment
National/International News Group
08 April 2021, 22:50

পকেটে ‘সিম্ফনি’ ফোন বিস্ফোরণ, যুবক দগ্ধ

পকেটে ‘সিম্ফনি’ ফোন বিস্ফোরণ, যুবক দগ্ধ-ছবি : সংগৃহীত


ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্যান্টের পকেটে থাকা মোবাইল ফোন বিস্ফোরিত হয়ে সুজন হোসেন (২৬) নামের এক যুবক দগ্ধ হয়েছেন। এতে তার প্যান্ট ও ডান পায়ে হাটুর উপরের কিছু অংশ পুড়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার চাপালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সুজন হোসেন ওই গ্রামের কলম আলীর পুত্র। তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সুজনের বন্ধু মোবারেক জানায়, বন্ধুরা মিলে দুপুরে চাপালী স্কুল মাঠে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময়ে সুজনের পকেটে থাকা সিম্ফনির বাটন মোবাইল ফোনটি হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে বন্ধুরা মাঠের পাশের একটি দোকান থেকে পানি এনে আগুন নেভায়। এরপর সুজনকে নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. পিয়াঙ্কা বিশ্বাস জানান, ওই যুবকের হাঁটুর উপরের কিছু অংশ পুড়ে দগ্ধ হয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
0 Share Comment
Deshi Group
08 April 2021, 16:02

Ministry of Science & Technology  Job Circular 2021

Ministry of Science & Technology Job Circular 2021
Source: Ittafaq, 03 April 2021
Application Deadline: 26 April 2021
Ministry of Science & Technology Job Circular 2021
Source: Ittafaq, 03 April 2021
Application Deadline: 26 April 2021
0 Share Comment
Deshi Group
08 April 2021, 15:59

Ministry Of Information And Communication Technology Job Circular 2021

Ministry Of Information And Communication Technology Job Circular 2021
Source: Bangladesh Pratidin, 07 April 2021
Application Deadline: 06 May 2021
0 Share Comment
Deshi Group
08 April 2021, 15:58

SUST Job Circular 2021

SUST Job Circular 2021
Source: Dainik Amadershomoy, 07 April 2021
Application Deadline: 26 April 2021
SUST Job Circular 2021
Source: Financial Express, 07 April 2021
Application Deadline: 26 April 2021
0 Share Comment
Deshi Group
08 April 2021, 15:56

Bangladesh Navy Civilian Job Circular 2021

Bangladesh Navy Civilian Job Circular 2021
Source: Prothom Alo, 07 March 2021
Application Deadline: 27 April 2021
0 Share Comment
Deshi Group
08 April 2021, 15:55

Department of Women Affairs Job Circular 2021

Department of Women Affairs Job Circular 2021
Source: Dainik Kalerkantha, 07 April 2021
Application Deadline: 27 April 2021
0 Share Comment
Deshi Group
08 April 2021, 15:54

Ministry Of Land Job Circular 2021

Ministry Of Land Job Circular 2021
Source: Daily Ittefaq, 07 April 2021
Application Deadline: 30 April 2021
0 Share Comment
Deshi Group
08 April 2021, 15:53

Labaid Pharmaceuticals Limited Job Circular 2021

0 Share Comment
Deshi Group
08 April 2021, 15:51

Ministry of Science & Technology  Job Circular 2021

Ministry of Science & Technology Job Circular 2021
Source: Bangladesh Pratidin, 07 April 2021
Application Deadline: 07 May 2021
0 Share Comment
Deshi Group
08 April 2021, 15:47

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সবাইকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।করোনায় নানা বাধা থাকলেও সরকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রেখেছে জানিয়ে উন্নত দেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ এর সালের মধ্যে দেশ হবে উন্নত, জাতি হবে আরও সমৃদ্ধ। আর এর দায়িত্ব নিতে হবে নতুন প্রজন্মকেই।

আজ বৃহস্পতিবার বিসিএস কর্মকর্তাদের ৭১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন সরকার প্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার থাবায় সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের উন্নয়নেও এসেছে স্থবিরতা। তবুও সব বাধা মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাও এখন বিশ্বের বুকে উদাহরণ।

করোনা সংক্রমণ বিষয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, মানুষকে বাঁচানোর জন্য। আপনারাও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলবেন। সবাইকে উৎসাহিত করবেন। মাস্ক পরবেন। ঘরে ফিরে গরম পানির ভাপ নেবেন। গড়গড়া করবেন। দেশের উন্নয়নের জন্য বিসিএস কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষের পাশে থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করা আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
0 Share Comment
Deshi Group
08 April 2021, 15:46

প্রতিবারের মতো এবারো গ্রন্থমেলায় বিশিষ্ট
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও লেখক হানিফ সংকেতের বই প্রকাশ হয়েছে। বইটির নাম
‘সংগত প্রসঙ্গত অসংগত’। গভীর পর্যবেক্ষণ, রমণীয় বর্ণনা, ক্ষুরধার
বুদ্ধিবৃত্তি তার উপস্থাপিত বিষয়গুলোকে করে তোলে জীবন্ত। বিভিন্ন অসঙ্গতি
তুলে ধরে সমাজকে পরিশুদ্ধ করতে তিনি যেমন নিরন্তন কাজ করে যাচ্ছেন তেমনি
আমাদের নাগরিক সচেতনতা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেও ভূমিকা
রাখছেন আন্তরিকতার সঙ্গে। তার এবারের গ্রন্থে সেই বিষয়গুলোকে প্রাধান্য
দেয়া হয়েছে। হানিফ সংকেত বলেন, মিডিয়াতে আমার শুরুটা লেখালেখি দিয়ে। সেটা
সত্তর দশকের শুরুতে। দর্শকদের ভালোবাসার কারণে ‘ইত্যাদি’ নিয়ে বেশির ভাগ
সময় ব্যস্ত থাকতে হয়, তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সবসময় লিখতে পারি না।


কারণ গত ৩৩ বছর ধরেই আমাকে একটা শিডিউল মেনে
চলতে হচ্ছে। তবে যত ব্যস্ত থাকি না কেন মনের ক্ষুধার তাড়নায় চেষ্টা করি
সংখ্যায় বেশি না হলেও বছরে অন্তত একটি  বই প্রকাশ করতে। ‘সংগত প্রসঙ্গত
অসংগত’ বইটি সম্পর্কে হানিফ সংকেত বলেন, আমাদের সমাজ জীবনে বিভিন্ন সময়
বিভিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে। যার কিছু সংগত, কিছু প্রসঙ্গত, কিছু অসংগত।


যা মানুষকে হাসায়-কাঁদায়-ভাবায়, কখনো
মানুষের দুশ্চিন্তা বাড়ায়, ক্ষোভ জন্মায়। এ থেকে সংগতভাবে মুক্তি চায়
মানুষ। তাই সময় থাকতেই এসব বিষয়ে সঙ্গত কারণে দৃষ্টি দেয়া সঙ্গত। আর আমাদের
বহমান জীবনে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানান প্রসঙ্গ আবির্ভূত হয়। তার মধ্যে
গুরুত্বের বিচারে সমসাময়িক প্রসঙ্গকে প্রসঙ্গতই গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
কিন্তু নানা জটিলতা, কুটিলতার কারণে অসঙ্গতির প্রভাবে আমরা সময়ের কাজ সময়ে
করি না। মৌসুমী ফলের মতো কিছু মৌসুমী চরিত্র বিভিন্ন মৌসুমে কর্মকাণ্ড নিয়ে
হাজির হয় মানুষের কাছে।


ধরা পড়া আর না পড়াতে দুর্নীতির গতি ও নীতির
দুর্গতি অতিশয় ক্ষতির প্রভাব ফেলে সমাজের সর্বত্র। এই সংগত প্রসঙ্গত অসংগত
বিষয়গুলো নিয়েই ২০২০ সালে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত লেখার সংকলন
নিয়েই আমার এই বইটি প্রকাশ করেছে প্রিয় বাংলা প্রকাশন। উল্লেখ্য,
ইতিপূর্বে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে উপন্যাসসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর হানিফ
সংকেতের প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে।


0 Share Comment
Deshi Group
08 April 2021, 15:45

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরে লোকবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘কিশোর কিশোরী ক্লাব স্থাপন’ প্রকল্পে লোকবল নিয়োগ
দেবে। কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্পে ২টি পদে নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে পদগুলোয় যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে যোগ
দিতে পারবেন যে কেউ। অনলাইনে পদগুলোর জন্য আবেদন শুরু হয়েছে।


পদের নাম- হিসাবরক্ষক

পদের সংখ্যা -১টি

আবেদন যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস হতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমপক্ষে ১ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

বেতন স্কেল-১০২০০-২৪৬৮০ টাকা


পদের নাম- অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর


পদের সংখ্যা- ১টি

আবেদন যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস হতে হবে।
কম্পিউটার চালনা ও অফিস অ্যাপ্লিকেশনে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।


বেতন স্কেল- ৯৩০০-২২৪৯০ টাকা

আবেদনের বয়স: প্রার্থীর বয়স এ বছরের ১ এপ্রিল ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে
মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স ৩২ বছর।  


আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা (http://erecruitment.bcc.gov.bd/) ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র পূরণ করে ২৭ এপ্রিল-2021 পর্যন্ত জমা দিতে পারবেন।
আবেদনের বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন 

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি.pdf - Google Drive
https://drive.google.com/file/d/1SWBJvs2JDwUPGtrrNLnZ3MeAfv4pnwZ-/view
0 Share Comment
Deshi Group
08 April 2021, 15:43

মেঘনায় ফেরিতে আগুন

মেঘনায় ফেরিতে আগুন
ভোলার মেঘনা নদীতে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর ঘাট থেকে ভোররাতে ভোলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ফেরি 'কলমীলতায়’ আগুন লেগে মালবাহী অন্তত ১০টি ট্রাক পুড়ে গেছে। এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরে

ভোলা নৌ-পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন কুমার পাল জানিয়েছেন, ফেরিটি রাত ৩টার দিকে মজুচৌধুরীর ঘাট থেকে ভোলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ভোর ৪টার দিকে লক্ষ্মীপুরের মতিরহাট পাড় হয়ে মেঘনার মাঝ নদীতে আসার পর হঠাৎ আগুন লেগে যায়। এ সময় স্টাফসহ যাত্রীরা ফেরির পিছনের দিকে নিরাপদে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে মাছ ধারার একটি ট্রলার এগিয়ে এলে তারা কয়েকজন যাত্রী ওই ট্রলারের সাহায্যে নিরাপদে ভোলার ইলিশা ঘাটে চলে আসে।

বিআইডব্লিউটিসি'র ভোলার ম্যানেজার মো: পারভেজ জানান, খবর পেয়ে অপর একটি ফেরিতে করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে ফেরিটি লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর গুনগুনিয়া চর এলাকায় নোঙর করা আছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মশার কয়েল অথবা সিগারেটের আগুন থেকে এমন ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
0 Share Comment
National/International News Group
07 April 2021, 11:15

বাফুফেকে ফিফার অনুদান দেওয়া বন্ধ

বাফুফেকে ফিফার অনুদান দেওয়া বন্ধ


দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে অনুদান প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটির কাছ থেকে প্রতি বছর সাড়ে ৪ লাখ ডলার পেয়ে থাকে বাফুফে। কিন্তু, এবছর সেই অনুদান বন্ধ করে দিয়েছে ফিফা। ফিফা বলছে, বাফুফের অর্থ ব্যয়ের হিসাবে গড়মিল আছে।

তবে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বাফুফে জানিয়েছে, এ ব্যাপারে সভাশেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

এদিকে অনুদান বন্ধ করে দিয়ে বাফুফের কাছে কিছু কাগজ চেয়েছে ফিফা। ঘটনাটি নিয়ে বেশকিছুদিন ধরে গুঞ্জন চললেও তা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে বাফুফে। কিন্তু এবার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী।

বাফুফের এই কর্তা জানিয়েছেন, ‘ফিফা বাফুফের অর্থ ব্যয়ের হিসেবে গড়মিল পেয়েছে। তাই তারা আমাদের অনুদান বন্ধ রেখেছে।'

তিনি আরও জানান, ফিফার সাথে বাফুফের আগামী মঙ্গলবার এই বিষয়ে একটি সভা রয়েছে। সভার পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

সালাম মুর্শেদী এই ঘটনায় দোষ চাপিয়েছেন চীফ ফিনানশিয়াল অফিসার আবু হোসেনের ঘাড়ে। তিনি বলেছেন, এই কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার কারণে এমনটা হয়েছে।

এদিকে করোনাকালীন সময়ে ফিফার সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে দেওয়া কোভিড ফান্ডের অর্থও পায়নি বাংলাদেশের ফুটবল। প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ আছে স্থানীয় কোচদের বেতন।
0 Share Comment
National/International News Group
07 April 2021, 11:14

দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসাপাতাল

দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসাপাতাল


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মহখালীর ডিএনসিসি মার্কেটে চালু হতে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল। এতো দিন এটি করোনার আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে মহাখালীর ডিএনসিসির সেই মার্কেটকে। এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে ১০০টি আইসিইউ শয্যা এবং ১১২টি এইচডিইউ থাকবে। চলতি মাসের শেষ দিকে পূর্ণাঙ্গ হাসাপতাল হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করার কথা রয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহায়তায় এই হাসপাতালটি চলবে। আর হাসপাতালটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী।

হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন জানান, এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ২৫০টি শয্যা এবং কিছু আইসিইউ শয্যা চালু হয়ে যাবে। তবে এই হাসপাতালে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার করা হবে না।
0 Share Comment
National/International News Group
07 April 2021, 11:04

Bangladesh Water Development Board VIVA Exam Schedule 2021

0 Share Comment
National/International News Group
07 April 2021, 10:58

Bogra Sadar Upazila Nirbahi Officer’s Office Job Circular

Bogra Sadar Upazila Nirbahi Officer’s Office Job Circular
Source: Karotoa, 06 April 2021
Application Deadline: 29 April 2021
0 Share Comment
National/International News Group
07 April 2021, 10:57

Pran-RFL Group Job Circular 2021

Pran-RFL Group Job Circular 2021
Source: Bangladesh Pratidin, 28 March 2021
Interview Date: 03-28 April 2021
0 Share Comment
National/International News Group
07 April 2021, 10:54

Pabna University of Science & Technology Job Circular 2021

Pabna University of Science & Technology Job Circular 2021
Source: Jugantor, 04 April 2021
Application Deadline: 25 April 2021
0 Share Comment
National/International News Group
07 April 2021, 10:52

Planning Division Job Circular 2021

Planning Division Job Circular 2021
Source: Bhorer Kagoj, 06 April 2021
Application Deadline: 29 April 2021
0 Share Comment
National/International News Group
07 April 2021, 10:51

Chittagong Port Authority Job Exam Schedule Notice 2021

0 Share Comment
National/International News Group
07 April 2021, 10:49

Bank Asia Limited Job Circular 2021

0 Share Comment
National/International News Group
07 April 2021, 10:48

CAAB Job Circular 2021

CAAB Job Circular 2021
Source: Bangladesh Pratidin, 06 April 2021
Application Deadline: 08 April 2021
0 Share Comment
Deshi Group
05 April 2021, 10:35

তরমুজ। গরমের সময় সবচেয়ে মজার, উপকারী আর প্রশান্তির এক ফল। যে ফলে
পানির পরিমাণ শতকরা ৯২ ভাগ। এতে ক্যালরির পরিমাণও অনেক কম। এছাড়া এতে রয়েছে
বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। ভিটামিন সি, থায়ামিন ও ম্যাগনেসিয়ামের
উপস্থিতি আছে তরমুজে। এতে কোনো কোলেস্টেরল নেই এবং নেই কোনো চর্বিও। 
চৈত্রের
শুরুতেই বাজারে তরমুজ উঠতে শুরু করেছে। আমরাও দেখে শুনে বড় একটা তরমুজ
কিনে বাড়ি ফিরি। তবে অনেকেই ঘরে গিয়ে তরমুজ কাটার পর হতাশ হয়। তরমুজের না
থাকে লাল রঙ-না থাকে মিষ্টি স্বাদ। যে বিষয়গুলো মাথায় রাখলে আপনি তরমুজ
কিনে আর হতাশ হতে হবেন না, জেনে নিন পাকা-মিষ্টি তরমুজ চেনার উপায়-
পাকা তরমুজের মাথার দিকে রঙ হলুদ হয়তরমুজ পাকলে বেশ ভারী হয়ে যায়, হাতে নিয়ে দেখুনতরমুজের গায়ে হাত দিয়ে টোকা দিন, আওয়াজটা খেয়াল করুনতরমুজের আকৃতি দেখেও বোঝা যায়, এটি পেকেছে কিনা তরমুজ পুরো সমান হয়, তাহলে এটি পাকারং দেখেও যায় চেনা, পাকা তরমুজ সাধারণত গাঢ়, কালচে হয়পাকা তরমুজ থেকে মিষ্টি গন্ধ বেরোয়, একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়।
মোটামুটি এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে তরমুজ কিনুন। দেখবেন আর হাতাশ হবেন না। তো এবার দেখে-বুঝে পাকা মিষ্টি তরমুজ কিনে খান।

0 Share Comment
Deshi Group
05 April 2021, 10:31

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এবারের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর।

এ পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন ৪৮ হাজার ৯৭৫ জন। আসন সাপেক্ষে তাদের মধ্যে প্রথম ৪ হাজার ৩৫০ জন পরীক্ষার্থীকে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির জন্য নির্বাচিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এবার মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৮৭৪ জন শিক্ষার্থী মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯২ জন গত ২ এপ্রিল পরীক্ষায় অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, এবার মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছেন মিশোরী মুনমুন। তিনি পাবনা মেডিকেল কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তার মোট প্রাপ্ত নাম্বার ২৮৭.২৫।
0 Share Comment
Deshi Group
05 April 2021, 10:29

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনা মাশুলে লেনদেন

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনা মাশুলে লেনদেন
মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় এ সিদ্ধান্ত নেয় ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাঠাতে গ্রাহককে কোনো মাশুল দিতে হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল রোববার এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা জারি করেছে। এর ফলে বিকাশ, রকেট, নগদের মতো সেবাদাতাদের এই নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যক্তি হতে ব্যক্তি (পি-টু-পি) প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা লেনদেন করা যাবে, আগে যা ছিল ৭৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে পি-টু-পিতে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কোনো মাশুল আদায় করা যাবে না। তবে প্রতিবার লেনদেনে সর্বোচ্চ সীমা হবে ১০ হাজার টাকা। বর্তমানে যেসব অপারেটর বিভিন্ন অফার দিয়েছে, তা–ও এর আওতায় পড়বে। তবে চাইলে যে কেউ গ্রাহকদের আরও সুবিধা দিতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। এ ছাড়া এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখতে হবে ও নিয়মিত জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে হবে।

পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের তারিখ সরকার চলাচলে ঘোষিত বিধিনিষেধ আরোপকালীন সময়সীমার মধ্যে হলে বিল পরিশোধের তারিখ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ার পর পাঁচ কর্মদিবস পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। বিল পরিশোধের সময়সীমা পর্যন্ত বিলম্বে পরিশোধের জন্য কোনো অতিরিক্ত মাশুল ও সুদ আরোপ করা যাবে।এ ক্ষেত্রে পরবর্তী মাসের বিলে, পূর্ববর্তী মাসের বিলের সুদের ওপর কোনো প্রকার নতুন সুদ আরোপ করা যাবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
0 Share Comment
Deshi Group
05 April 2021, 10:27

বাংলাদেশের আয়োজনে ডি-৮ সম্মেলন

বাংলাদেশের আয়োজনে ডি-৮ সম্মেলন
আটটি বৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্রের সংগঠন ডি-৮ এর ১০ম সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ (সোমবার)। বাংলাদেশের আয়োজনে সম্মেলনটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ ২২ বছর পর ঢাকার আয়োজনে সম্মেলনটির সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ‘বৈশ্বিক রূপান্তরের জন্য অংশীদারিত্ব: যুব সম্প্রদায় ও প্রযুক্তি শক্তির মুক্তি’ প্রতিপাদ্যে ডি-৮ দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানরা সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন। সম্মেলনটি সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) পর্যন্ত চলবে। বাংলাদেশ ছাড়া জোটের অন্য দেশগুলো হল মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক।

সম্প্রতি ডি-৮ সম্মেলন নিয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন জানান, শীর্ষ সম্মেলনে বাণিজ্য, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প সহযোগিতা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পরিবহন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং পর্যটন- এই ছয়টি বিষয়ে আলোচনা হবে। এক্ষেত্রে ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ আন্তর্জাতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়ে সম্মিলিত নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করা হবে।

এবারের সম্মেলনে বর্তমান সভাপতি তুরস্কের কাছ থেকে সভাপতির দায়িত্ব নেবে বাংলাদেশ। পরবর্তী দুই বছর এর মেয়াদ থাকবে। এরইমধ্যে শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে d8dhaka.com নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। যেখানে আগামী দুই বছর, অর্থাৎ বাংলাদেশ সভাপতি থাকাকালীন সময়ের বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে উন্নয়নশীল আটটি মুসলিম দেশ নিয়ে ডি-৮ জোট গঠন করা হয়। গঠনের এক বছরের মাথায় ১৯৯৭ সালে জোটটির প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তী ডি-৮ জোটের দ্বিতীয় সম্মেলন ১৯৯৯ সালে ঢাকায় আয়োজন করা হয়।
0 Share Comment
Abu Sale Deel Mahamud
04 April 2021, 04:18

পুত্রবধূকে ‘দারুণ পছন্দ’ মৌসুমীর

পুত্রবধূকে ‘দারুণ পছন্দ’ মৌসুমীর
বিয়ে করেছেন ওমর সানী-মৌসুমী দম্পতির একমাত্র ছেলে ফারদীন এহসান স্বাধীন। জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।


স্বাধীনের স্ত্রী সাদিয়া রহমান আয়েশা। ছেলের বিয়ে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ওমর সানী। তিনি বলেন, ২৬ মার্চ আমার ছেলের আকদ সম্পন্ন হয়েছে। আকদ করে আমরা বউ নিয়ে এসেছি। ওদের জন্য দোয়া করবেন।

এবার মৌসুমী তার পুত্রবধূকে নিয়ে গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন। ছেলের বউকে ভীষণ পছন্দ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘কানাডাপ্রবাসী অনিন্দ্য রূপবতী আমার ছেলের বউ। আয়েশা ভীষণ লক্ষ্মী ও খুব মিষ্টি। আমার তো দারুণ পছন্দ হয়েছে। ’

এর আগে, এক ফেসবুক ভিডিও বার্তায় ওমর সানী জানিয়েছিলেন, আমাদের খুব ইচ্ছা ছিল ফারদীনের বিয়ে ২৬ তারিখে দেওয়ার। আল্লাহপাক সেটা কবুল করেছেন। সাদিয়া রহমান আয়েশার সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে হয়েছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া একজন ভালো মনের অধিকারিণী আমার ঘরের বউ হয়ে এসেছে। আপনারা সবাই ফারদীন-আয়েশার জন্য দোয়া করবেন, আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।

তিনি আরও জানান, ৯ এপ্রিল ফারদীন-আয়েশার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আয়েশার বাবার অসুস্থতার কারণে সেটি পিছিয়ে গেছে। ঈদের পরে তা হওয়ার কথা রয়েছে।
0 Share Comment
Abu Sale Deel Mahamud
04 April 2021, 04:07


দ্রুততম মানব-মানবী সেই ইসমাইল-শিরিন


জাতীয় অ্যাথলেটিক্সের পর বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ
গেমসেও ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সেরা হয়েছেন দুই চেনা মুখ মোহাম্মদ ইসমাইল ও
শিরিন আক্তার।

দ্রুততম মানব-মানবী সেই ইসমাইল-শিরিন
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সেরা মোহাম্মদ ইসমাইল ও শিরিন আক্তার। ছবি: মোহাম্মদ জুবায়ের

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সেরা মোহাম্মদ ইসমাইল ও শিরিন আক্তার। ছবি: মোহাম্মদ জুবায়ের

জাতীয় অ্যাথলেটিক্সের পর বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমসেও ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সেরা হয়েছেন দুই চেনা মুখ মোহাম্মদ ইসমাইল ও শিরিন আক্তার।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে শনিবার পুরুষ বিভাগের ১০০ মিটারে ১০ দশমিক ৫০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ইসমাইল। এ ইভেন্টে নৌবাহিনীর আব্দুল রউফ (১০ দশমিক ৬০ সেকেন্ড) রুপা ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর নাইম ইসলাম (১০ দশমিক ৭০ সেকেন্ড) ব্রোঞ্জ পেয়েছেন।

গত বছর চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে হওয়া জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে ইসমাইল ১০ দশমিক ৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হয়েছিলেন। গত জানুয়ারিতে ঢাকায় হওয়া জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে ১০ দশমিক ৫৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হয়েছিলেন তিনি। এবার টাইমিং ভালো না হওয়ার কারণ হিসেবে করোনাকালীন সময়ে অনুশীলনের ঘাটতির কথাই বললেন এই অ্যাথলেট।

“করোনার কারণে নিয়মিত অনুশীলন করতে পারি না। মাঝেমাঝে মাঠে আসতে পারি; মাঝেমাঝে পারি না। রুটিন কাজ থাকে। করোনা মহামারী শেষ হলে আশা করি, আপনারা আমার ভালো একটা টাইমিং দেখতে পাবেন। এখন স্বর্ণপদক পেয়েছি, এটাই শুকরিয়া।”

মেয়েদের বিভাগে ১১ দশমিক ৬০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হন শিরিন। এই ইভেন্টে শিরিনের সেনাবাহিনীর সতীর্থ শরীফা খাতুন (১১ দশমিক ৭০ সেকেন্ড) রুপা ও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) সোনিয়া আক্তার (১২ দশমিক ১০ সেকেন্ড) ব্রোঞ্জ পেয়েছেন।

গত দুই জাতীয় অ্যাথলেটিক্সের চেয়ে শিরিনের টাইমিং ভালো হয়েছে। ২০২০ সালের জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে চট্টগ্রামে ঘাসের ট্র্যাকে ১২ দশমিক ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হয়েছিলেন তিনি। সবশেষ গত জানুয়ারিতে হওয়া জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপেও তিনি সেরা হন ১১ দশমিক ৮০ সেকেন্ড সময় নিয়ে।

মেয়েদের ১০০ মিটার হার্ডলসে ১৪ দশমিক ৫০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হয়েছেন নৌবাহিনীর তামান্না আক্তার। তিনি পেছনে ফেলেন ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম বাংলাদেশ গেমসে সুমিতা রানীর ১৫.২৬ টাইমিংকে। এই ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশ জেলের সুমিতাও। কিন্তু দৌঁড় শুরু করার পর পায়ে আঘাত পেয়ে সরে দাঁড়ান তিনি।

১৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে রুপা পেয়েছেন সেনাবাহিনীর স্মৃতি খাতুন এবং ১৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন একই সংস্থার জেসমিন আক্তার।

ছেলেদের ১১০ মিটার হার্ডলসে ১৪ দশমিক ৮০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হয়েছেন নৌবাহিনীর এম মাসুদ খান। সোনা জিতেই ট্র্যাক থেকে অবসরের ঘোষণা দেন এই হার্ডলার, “ইচ্ছা ছিল বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমসে স্বর্ণপদক জিতে অবসর নেব। স্বর্ণপদক জিতেছি। তাই অবসরের ঘোষণা দিয়েছি।”

এই ইভেন্টে ১৪ দশমিক ৯০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেনাবাহিনীর মির্জা হাসান রূপা এবং ১৫ দশমিক ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে নৌবাহিনীর সাইদ আহমেদ ব্রোঞ্জ পেয়েছেন।
0 Share Comment
Abu Sale Deel Mahamud
04 April 2021, 03:51

বিলুপ্তির মুখে বাইশ রশি জমিদার বাড়ি ও ইতিহাস

বৃহত্তর ফরিদপুরের দর্শনীয় স্থান সমূহের মধ্যে বাইশরশি জমিদার বাড়ির নাম ইতিহাসের এক অন্যতম নিদর্শন । ফরিদপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৮কিলোমিটার দূরত্বে বর্তমান সদরপুর উপজেলার মধ্যে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বাইশরশি জমিদার বাড়ি। এককালে প্রভাবশালী বাইশরশি জমিদাররা ফরিদপুর-বরিশালসহ ২২টি পরগনার বা জোত মহলের অধিপতি ছিলেন। জমিদারি পরিচালনার পাশাপাশি তখনকার দিনে বাইশরশির বাড়িটির প্রায় ৫০ একর জমি নিয়ে কয়েকটি বাগানবাড়ি, পুকুর, পূজামন্ডপ ও দ্বিতলা বিশিষ্ট ছোট-বড় ১৪টি দালান কোঠা দিয়ে ঢেলে সাঁজিয়ে ছিলেন।

জানা গেছে, ১৭'শ শতাব্দির গোড়াপত্তনে এককালের লবণ ব্যবসায়ী সাহা পরিবার বিপুল অর্থসম্পত্তির মালিক হয়ে কয়েকটি জমিদারি পরগনা কিনে জমিদারি প্রথার গোড়া পত্তন শুরু করে। ১৮শ শতক থেকে ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের আগে পর্যন্ত জমিদার পরিবারটি অনেক ধন-সম্পত্তির মালিক হন ও ২২টি জমিদারি পরগনা ক্রয় করে বিশাল জমিদার হিসেবে ভারতবর্ষে খ্যাতি লাভ করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও হিন্দুস্থান দুইটি রাষ্ট্র হওয়ার পর ১৯৪৭ থেকে ১৯৬২ সাল জমিদারি প্রথা থাকার আগ পর্যন্ত জমিদাররা কলকাতা বসে জমিদারি দেখাশুনা করত। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর জমিদার সুকুমার রায় বাহাদুর ছাড়া সবাই কলকাতা চলে যায়। ৭১-এ বাংলাদেশ স্বাধীনের পর সুকুমার বাবু ওই রাজ প্রসাদে আত্মহত্যা করেন। এরপর বাড়িটির আর কোন অভিভাবক না থাকায় পরিত্যক্ত বাড়ি হিসেবে গন্য হয়ে যায়।

বর্তমানে প্রায় ৩০একর জমির ওপর জমিদার বাড়িটির অবস্থান হলেও চারপাশের অনেক জমি ভূমিদস্যুরা দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে ৫টি শান বাঁধানো পুকুর, বিশাল বাগানবাড়ি ও ছোটবড় চৌদ্দটি কারুকার্য খচিত দালান-কোঠা জমিদারদের কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রতিনিয়ত চুরি হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান দরজা-জানালা, লোহার কারুকার্য খচিত ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাড়িটির সামনের অংশে বর্তমানে উপজেলা ভূমি অফিস রয়েছে।
nagad

বাইশরশি জমিদার বাবুরা যেভাবে আলোচিত হয়ে আছেন। কথিত আছে, উদ্ধর চন্দ্র সাহা লবনের ব্যবসা করতেন। লবন বিক্রয় করার জন্য যাবার সময় নদী ভাঙ্গনে কবলিত কোন এক পড়বাড়ীর ধ্বংসাবশেষ হতে বেশ কিছু গচ্ছিত অর্থ আত্মসাৎ করেন। এভাবে অর্থ প্রাপ্তির পর তিনি বাইশরশিতে বিশাল জোদ্দারী ক্রয় এবং জমিদারী প্রতিষ্ঠা করে পরবর্তীতে বাবু রঘুরাম সাহার পুত্র উদ্ধর চন্দ্র সাহা ১৮২৪ইং সালে সম্ভবত লর্ড ক্লাইভের সময় বাইশরশি জমিদার উদ্ধর চন্দ্র সাহা বরিশালের কালিয়ায় জোদ্দারী ক্রয় করেন।

উদ্ধর চন্দ্র সাহার পুত্র হরে কৃষ্ণ সাহা জমিদারীর হাল ধরেন এবং তিনি বরিশালের বাউফলের জমিদারী ক্রয় করেণ এবং প্রভূত উন্নতি সাধন করেন। হরে কৃষ্ণ সাহার তিন পুত্রের মধ্যে রাম জয় সাহা জমিদারীর ভার গ্রহণ করেন। এ সময়ে বাবুরা ইংরেজদের কাছ থেকে সাহা উপাধির পরিবর্তে রায় চৌধুরী উপাধী লাভ করেন। রাম জয় রায়ের দুই পুত্র বৈকুন্ঠ রায় ও নীল কন্ঠ রায় জমিদারী ভাগাভাগি করেন এবং বৈকুণ্ঠ রায়ের অংশকে বড় হিস্যা ও নীল কণ্ঠ রায়ের অংশকে ছোট হিস্যা বলা হতো। বৈকুণ্ঠ রায়ের কোন সন্তান না থাকায় তিনি মহিম চন্দ্র রায়কে পৌষ্য পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। মহিম চন্দ্র রায় প্রতাপ শালী ছিলেন। তারও কোন সন্তান না থাকায় তিনি কলকাতা হতে মহেন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরীকে পৌষ্য পুত্র হিসেবে সংগ্রহ করেন। উল্লেখ মহিম চন্দ্র রায় বাহাদুর উপাধি লাভ করেন। মহেন্দ্র নারায়ন রায় বাহাদুর সাধু প্রকৃতির লোক ছিলেন। তিনি তার পৌষ্য মাতার মহিম চন্দ্র রায় বাহাদুরের স্ত্রী শিব সুন্দরী চৌধুরানী নামে ১৯১৪ সালে ‘‘বাইশরশি শিব সুন্দরী একাডেমী’’ প্রতিষ্ঠা করেন। এ সমেয় মহেন্দ্র নারায়ন চৌধুরীর বয়স ছিল মাত্র ২০/২২ বছর।

নীল কণ্ঠ রায় বাহাদুরের পুত্র রাজেন্দ্র বাবু ও দেবেন্দ্রবাবু। রাজেন্দ্র বাবুর কোন সন্তান ছিলনা। তিনি রমেশ বাবুকে পৌষ্য গ্রহণ করেন। দেবেন্দ্র বাবুর ছেলে দক্ষিণা রঞ্জন বাবু।

দক্ষিণা রঞ্জন বাবু রাগী ও উগ্র প্রকৃতির লোক ছিলেন। দক্ষিণা বাবুর কোন সন্তান না থাকায় তিনি দিলীপ বাবুকে পৌষ্য সন্তান হিসাবে গ্রহণ করেন। ঊনিশ শতকের প্রথম দিকে দুই হিস্যার মধ্যে হিংসা-বিবাদের কারণ ঘটায় উভয় হিস্যা মামলা মোকদ্দমায় জড়িত হয়ে পড়েন এবং তা চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলে তখন ফরিদপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের হস্তক্ষেপে বিবাদের মিমাংশা ঘটে। অতঃপর দক্ষিনা বাবু তার পিতৃব্য বা জেঠার নামে ফরিদপুরের অম্বিকা চরণ মজুমদার বাবুর সহায়তায় ‘‘রাজেন্দ্র কলেজ’’ স্থাপন করেন।

এছাড়া বর্তমান ফরিদপুরের পুরাতন সরকারী হাসপাতালের একটা অংশ এখনও বাবুদের নামে বর্তমান আছে। মহেন্দ্র বাবু নগর কান্দায় নীজের নামে (মহেন্দ্র নারায়ন একাডেমী) নামের একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেন।

জমিদারদের প্রধান আয়ের উৎস্য ছিল ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা। খাজনা বা কর আদায় করার জন্য নায়েব নিযুক্ত করা হতো। অবাধ্য প্রজাকে শায়েস্তা করার জন্য লাঠিয়াল বাহীনি ব্যবহার করা হতো। এ জন্য নিজস্ব বড় লাঠিয়াল বাহিনী সুরক্ষিত ভাবে রাখা হতো। অপরাধ অনুসারে এই প্রজাদেরকে অত্যাচার করা হতো। অত্যাচারের ফলে কারও মৃত্যু হলে মৃত দেহ বাড়ীর পিছনে সু-গভীর অন্ধকুপে নিক্ষেপ করা হতো।

আরও লোক মুখে শোনা যায়, মুসলমান বা হিন্দুরা বাবুদের বাড়ীর সামনে দিয়ে জুতা পায়ে, ছাতা মাথায় দিয়ে যাতায়াত নিষেধ ছিল। বাবুদের চারটি পুকুরের মধ্যে নাট মন্দিরের সামনের পুকুরটি পানীয় জলের জন্য নির্ধারিত ছিল। ঐ পুকুরে কেহ পা ভেজাতে পরতো না। বেচু নামে এক মুসলমান প্রজা অজ্ঞাতবশতঃ ঐ পুকুরে পা ধোয়ার অপরাধে তাকে বেদম প্রহার ও দাড়ী উৎপাটন করা হয়। ফলে তা নিয়ে মামলা হলে বাবুদের এক পাই জরিমানা হয়। মানিক দহের বড় মিয়া আব্দুল বাবুদের বশ্যতা স্বীকার না করার জন্য বাবুরা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। বড় মিয়া আব্দুল উপায়ন্তর না দেখে শিবসুন্দরী চৌধুরানীকে মা ডাকেন। পরে শিব সুন্দরী চৌধুরানীর হস্তক্ষেপে বড় মিয়া আব্দুলকে মামলা হতে অব্যাহতি দেয়া হয়। মিয়াদের পরিবারের লোকজন সেই সময় থেকে বর্তমান বাইশরশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজকর্ম করতেন।

বাইশরশি শিবসুন্দরী একাডেমীর বর্তমান খেলার মাঠ বাবুদের চিত্তবিনোদনের জন্য বাগানবাড়ী ছিল এবং তারা ঐ বাগান বাড়ীতে যেমন খুশি তেমন ভাবে বিভিন্ন রকমের আনন্দ ফূর্তি করতো। জমিদার বাড়ীটি ৩০একরের উর্ধ্বে ছিল।

১৯৫০ সালে জমিদারী প্রথা লোপ ও প্রজাস্বত্তর আইন প্রনয়ন হবার পর সুকুমারবাবু অর্থহীন এবং বিত্তহীন হয়ে পড়লে তিনি জমিদারী হারিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসায় লোকশান ও বাড়ীর দাসী কর্তৃক সঞ্চিত স্বর্ণ খন্ডাদী চুরি হওয়ায় ও দাসীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে দাসী গর্ভবতী হলে ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় উপায়ন্তর না পেয়ে সুকুমারবাবু নিজে বন্দুকের গুলীতে আতœহত্যা করেন।

উল্লেখ্য যে, সুকুমার বাবু ১৯৩৪-১৯৪৬ পর্যন্ত সদরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পর জমিদার পরিবারের সদস্যরা কলিকাতা চলে যান এবং অমরেশ বাবু দিনাজপুর চলে যান। এভাবেই বাইশরশি জমিদারদের জমিদারীর পতন ঘটে। বর্তমানে জমিদার বাড়ীর অধিকাংশ জমি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের দখলে রয়েছে। অবশিষ্ট ভবন ও স্থাপনা অযত্নে ও অবহেলা পড়ে আছে। সরকারি ভাবে সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নাই।

সদরপুর এর বাইশরশি জমিদারের অধীনে থাকা আরেকটি জমিদারী শাসনামল অঞ্চল সম্পর্কে আরও জানা যায়, এ অঞ্চলের দু শতাধিক বছর পূর্বের সাক্ষী বর্তমান পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সদরে অবস্থিত ঐতিহাসিক নির্দশন জমিদার মহেন্দ্ররায় চৌধুরী ও রাজেন্দ্র রায় চৌধুরীর কাঁছারী বাড়ি। বর্তমানে উপজেলা ভূমি অফিস হিসাবে পরিচিতি।

জনশ্রুতি হচ্ছে, ১৮’শ শতকের কথা। ফরিদপুর জেলার সদরপুর বাইশরশি থেকেদক্ষিণারঞ্জন রায় বাণিজ্য জন্য চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যে যায়। চতুর্দশ শতাব্দীতে গৌড়ের সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ শাসনামলে বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য ছিল। মেঘনার অববাহিকা বর্তমান ভোলা ও বাউফলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদীর পশ্চিম পাড়ে বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া নামক স্থানে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের রাজধানী ছিল। চন্দ্রদ্বীপ তেঁতুলিয়া নদীতে গয়না পারি দিয়ে বাণিজ্য জন্য চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যে আসে।

ব্রিটিশদের থেকে অত্র এলাকায় জমি ক্রয় করে রায় চৌধারিত্ব উপাদি লাভ করে। দক্ষিণারঞ্জন রায়ের দুই ছেলে মহেন্দ্র রায় বড়ো হিস্যাই, রাজেন্দ্র রায় ছোট হিস্যাই হিসাবে সে এলাকায় স্বীকৃতি পায়। চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য এলাকা বাউফলে জমিদারীত্ব আরম্ভ করে। জমিদারিত্ব টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে মহেন্দ্র রায় ও রাজেন্দ্র রায় সদরপুরের বাইশরশি থেকে বিভিন্ন পেশার লোক নিয়ে যেত এবং বসতির জন্য অনুমতি দিয়ে থাকে। প্রজাদের মাধ্যমে অত্র এলাকায় কাঁছারী থেকে প্রজাদের মাধ্যমে খাঁজনা গ্রহণ করে। প্রতিবছর প্রজাদের মাধ্যমে খাঁজনা গ্রহণ এবং দুর্গাপূজাসহ হিন্দুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফরিদপুর বাইশরশি থেকে গয়নাযোগে এলাকায় আগমন করতেন। থাকতে মাস ব্যাপী খাস কামরায়ে। খাস কামরায় স্থাপত্য গড়ে তোলে।

স্থাপত্য দুটি বাউফল মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের জে এল নং ৮৭ দাগ নং ১১২০ও ১১২১ তে ১১.৯৭ একর জমির উপর অবস্থিত। অধিকাংশ অফিস ঘরই জমিদারী এ স্টেটের পুরাতন দালানে অবস্থিত। উপজেলা সদর প্রধান সড়ক দক্ষিণ পাশে ২২ একর জমির উপর মহেন্দ্র রাজেন্দ্র রায়ের জমিদার বাড়ি। স্থাপত্য দুটি দেড় ইঞ্চি পাকা ইটের তৈরি প্রায় দেড় ফুট পুরো দেয়াল। চিনেমাটি প্লেষ্টার দিয়ে ছাদ তৈরি লোহার আড়া। ভিতরে ৪টি কক্ষ। সামনে জোড়া বাধা ৬ টি গম্মুজ। এটি হচ্ছে দক্ষিণ ভিটে। দক্ষিণ ভিটে দালান সামনে বসার জায়গা রয়েছে বসার সাথে দুটি হাতির স্থাপনা। পশ্চিম পাশে রয়েছে অনুরূপ আরেকটি দালান। তিন কক্ষবিশিষ্ট। ৪০ ফুট উচু স্থাপত্য দালানটি উপরে রয়েছে টিনের ছাউনি। আড়া গুলো হচ্ছে বড় গাছের চিড়াই গাছ।

জমিদারের স্থাপত্য দুটি সামনে রয়েছে টিনের ৮চালা বিশিষ্ট উচু নাটঘর। নাট ঘরে বসে যাত্রা-পালাসহ নাটকহতো। কাঁছারি বাড়ীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান কে কেন্দ্র করে জমিদার বাড়ীতে হতো নানা অনুষ্ঠান। বিশেষ করে দুর্গাপুজা উপলক্ষ্যে মাস ব্যাপী যাত্রা অনুষ্ঠান হয়েছিল। দেওয়া হতো মহিষ ও পাঠা বলী। মাসব্যাপী যাত্রার রিহার্সেল দেওয়া হতো। দু ঘরের সামনে বসে জমিদার তার পরিবার নিয়ে এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেতন।

ওই সময় যাত্রা পালার মধ্যে ছিল অকালের দেশ, বাঙ্গালী রক্ততিলক, সমাজের বই, কাঞ্চন মালা, বাঙ্গালী বিচারক, সোহরাফ রুস্তম,দর্পহারী, এজিদ ও জয়নাল উদ্ধার, বঙ্গেরবর্গী প্রভৃতি। অনুষ্ঠিত যাত্রাপালায় এলাকার বাইরে থেকে আসা যাত্রাপালা দলের পাশাপাশি স্থানীয় ভাবে যারা অংশ গ্রহণ করতে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে, মাখম সাহা, মনোরঞ্জন শীল, রাজস্বর রায়, অনন্ত ঘোষ, মেঘনাথ ঘোষ, চিত্র রঞ্জন সাহা, বিনোদ বিহারী সাহা। কাঁছারী বাড়ি নিরাপত্তার্থে চার পাশে রয়েছে উচু দেয়াল। প্রাচীর রয়েছে প্রাচীর পূর্বপাশে বতর্মান প্রবেশপথ ইটের তোরণ, উত্তর পাশে রির্জাভ ঘাটে গেট পশ্চিম পাশে ঘেট রয়েছে। ইটের র্নিমান প্রাচীর ১০ ইঞ্চি প্রসস্ত উচু হচ্ছে ৯ ফুট। স্থাপত্য দুটি সংলগ্ন রয়েছে ২টি পুকুর। জমিদার বাড়ীর উত্তর পাশে পুকুরটি পানি ছিল রিজার্ভ। রিজার্ভ পুকুরের দক্ষিণ পাশে বাধাই করা ঘাট। রিজার্ভ পুকুরের পানি কেউ ব্যবহার করতে না। ভুলক্রমে কেউ পানি পান করতে গেলেও পা পুকুরে পানিকে ভিজাতে না। এ পুকুরে পানি রিজার্ভ রাখার জন্য ছিল আলাদা পাহারাদার। পশ্চিম পাশে বড়ো একটি পুকুর। যা ছিল সবার জন্য উম্মুক্ত। আরো জনশ্রুতি হচ্ছে, জমিদারের কঠোর শাসন থাকলে তাদের জমিদারিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করছে।

১৮৬৭ খ্রিঃ কলকাতা গেজেটে পটুয়াখালী মহকুমাধীন বাউফলকে থানা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং ১৮৭৪ খ্রিঃ পুলিশ ষ্টেশন স্থাপন করে থানা হিসেবে বাউফলে কার্যক্রম শুরু করা হয়। পূর্ব পশ্চিম পাকিস্তান শাসন আমল। মধ্য স্বত্বলোপ পায়। সরকার সমস্ত জমিদারিত্ব একোয়ার করে নেয়। জমিদার মহেন্দ্র রায় ও রাজেন্দ্র রায় দেশ ছেড়ে চলে যায়। সরকার ১নং খতিয়ানভুক্ত করে বর্তমানে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ভূমি অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

দু’শ বছরের পুরানো এই জমিদারী স্থাপনার ঐতিহ্য কে সংরক্ষণ করা গেলে ফরিদপুরের সদরপুরের বাইশরশি জমিদার বাড়িকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্রের উজ্জ্বল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যেতো।

সংরক্ষণ না থাকায় আজ ভগ্নদশায় ধ্বংসস্তুপের মধ্যে কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাওয়ায় তার সৌন্দর্য্য নষ্ট হচ্ছে। সরকার একটু নজর দিলে হতে পারে দেশের মধ্যে অন্যতম পর্যটক কেন্দ্র। সরকারি ভাবে সংরক্ষণ ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ির মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতল ভবনের ছাদ নিরাপত্তাদ্বয় কাঠের আড়া গুলো কেটে নেওয়ার ফলে কয়েকটি রুমের ছাদ ধসে পড়েছে ইতোমধ্যে। এছাড়াও বাড়িটির অন্যান্য কক্ষে লোহার দরজা,জানালা,গ্রীল ও চুরি হয়ে যাচ্ছে। বেশীরভাগ চুরির ঘটনা রাতে হচ্ছে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।

এবিষয়ে সদরপুরের সন্তান শামীমা জাহান দিবা বলেন, এখন সময় এসেছে আমাদের এই ইতিহাসের অংশ টুকুকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার তাই আমরা সদরপুর বাসী এই জমিদার বাড়ি টি সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি। এই জমিদার বাড়ি টি সংস্কার করলে জমিদার বাড়িটি হতে পারে অত্র সদরপুর উপজেলার দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র। রক্ষা পেত ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িটি ও একটি ইতিহাস।
0 Share Comment
Abu Sale Deel Mahamud
04 April 2021, 03:19

ঢাকার যেসব রাস্তায় ডানে মোড় নেয়া বন্ধ

ঢাকার যেসব রাস্তায় ডানে মোড় নেয়া বন্ধ
রাজধানীর তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় থেকে উত্তরা হাউজবিল্ডিং পর্যন্ত সড়কে চালু হয়েছে ১০টি ইউটার্ন। এর ফলে বেশ কয়েকটি রাইট টার্নিং (ডানে মোড়) বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এসব ইউটার্ন চালু হওয়ায় নেভি হেড কোয়ার্টারের শাখা রাস্তা, বনানী রোড নং ২৭, বনানী-কাকলী, বনানী রোড নম্বর ১১, মহাখালী আমতলী মোড়, তেজগাঁও কোহিনূর মোড়, লাভ রোড মোড় ইত্যাদি ইন্টারসেকশনগুলোতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সহযোগিতায় বন্ধ করা হয়।

সেই সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যানজট কমাতে এসব এলাকায় চলাচলকারী যানবাহনসমূহকে নবনির্মিত ইউটার্নগুলো ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ।
nagad

ডিএনসিসির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন জানিয়েছেন, ‘ঢাকার তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় থেকে উত্তরা হাউজবিল্ডিং পর্যন্ত ইউটার্ন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উত্তরা রাজলক্ষ্মীর সামনে, উত্তরা র‌্যাব ১ অফিস, ফ্লাইং ক্লাব কাওলা, বনানী ওভারপাস, বনানী আর্মি স্টেডিয়ামের সামনে, বনানী চেয়ারম্যান বাড়ী, মহাখালী আমতলী, মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে, তেজগাঁও নাবিস্কো মোড় ও সাতরাস্তার বিজি প্রেস এলাকায় নির্মিত ইউটার্নগুলো যানবাহনের ব্যবহারের জন্য শনিবার উন্মুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, এর আগে সর্বশেষ মোট ছয়টি ইউটার্ন চালু করা হয়েছিল। তবে শনিবার সবগুলো একযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের শুরুতে মোট ১১টি ইউটার্ন নির্মাণ করার পরিকল্পনা থাকলেও আর্মি গলফ ক্লাব এলাকার ইউটার্ন প্রথম সংশোধনী প্রকল্পে বাতিল করা হয়। প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ছিল। তবে প্রথম সংশোধিত প্রাক্কলিত ব্যয় ৩১ কোটি ৮০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।
0 Share Comment
Abu Sale Deel Mahamud
04 April 2021, 03:09

লকডাউন ঘোষণার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে

লকডাউন ঘোষণার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে
সারা দেশ লকডাউন ঘোষণার প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলেই শনিবার রাতে x সকালে লকডাউন ঘোষণা হতে পারেআজ শনিবার রাতেই বৈঠকের সামারিসহ ফাইল প্রধানমন্ত্রীর পৌঁছায়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) শেখ রফিকুল ইসলাম শনিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বলেন, লকডাউন ঘোষণার প্রস্তাব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি অনুমোদন দিলে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

এর আগে শনিবার সকালে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, করোনা ঠেকাতে সারা দেশে সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপরই বিকালে জরুরি বৈঠক ডাকেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
0 Share Comment
Abu Sale Deel Mahamud
04 April 2021, 03:05

মানুষ উদাসীন; করোনা নিয়ে অশনি সংকেত

মানুষ উদাসীন; করোনা নিয়ে অশনি সংকেত
করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা প্রবলভাবেই আঘাত হেনেছে দেশে। অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ৪ দিন থেকেই আগের দিনের রেকর্ড ভেঙে তৈরি হচ্ছে নতুন রেকর্ড। উদ্বেগজনকভাবে করোনার এই সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসাপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ। সিট খালি না থাকায় রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে সিট সংকট। ফলে মানুষ চিকিৎসার জন্য হাহাকার করছে। বর্তমানে স্বাস্থ্যখাতে জরুরি অবস্থা চলছে বলে দাবি করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে এসেও স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না মানুষ। স্বাস্থ্য বিধি না মেনে, মাস্ক না পরে গাদাগাদি করে এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। সরকার জনসমাগম সীমিতকরাসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দিলেও তা মানতে নারাজ তারা।

শুক্রবারও মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা ও বায়তুল মোকাররম মসজিদে হেফাজতের বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। তাদের অধিকাংশের মাঝেই ছিল না স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই- যা দেশের জন্য আশনি সংকেত বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সচেতন মহল থেকেও। অতি দ্রুত বিষয়টির লাগাম টেনে না ধরলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
nagad

তারা বলছেন, দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে এখনই, এই মুহূর্তে কমপক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য ঢাকাসহ সর্বোচ্চ সংক্রমণ প্রবণ এলাকাগুলেতে কারফিউ (লকডাউনের আদলে) জারি করতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশে গড় শনাক্তের হার ২ শতাংশ থেকে ২৩ শতাংশে পৌঁছে গেছে। রাজধানীর কোনো কোনো আরটিপিসিআর ল্যাবে শনাক্তের হার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতর ৩১ জেলাকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এসব জেলায় সংক্রমণের হার ১০ থেকে ৩০ শতাংশ। শনাক্ত ও মৃত্যুর হার প্রতিদিন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করছে। বাকি ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে কঠোরভাবে সরকার নির্দেশিত ১৮ দফা বিধিনিষেধ প্রতিপালন করতে হবে।

অন্যথায় আসছে সপ্তাহে দৈনিক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। রোগতত্ত্ববিদ এবং জনস্বাস্থ্যবিদরা করোনা পরিস্থিতি আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। ফলে গত মাসের ১৬ তারিখে স্বাস্থ্য অধিদফতর এ সংক্রান্ত একটি সভা করে ১২ দফা সুপারিশ প্রদান করেন। কিন্তু সেই সুপারিশ সরকার আমলে নেয়নি।

এরপর সংক্রমণ পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করলে ২৮ মার্চ অধিক সংক্রমিত এলাকার জন্য কঠোর বিধিনিষেধসহ ২২ দফা এবং অপেক্ষাকৃত কম সংক্রমণপ্রবণ এলাকার জন্য ১৮ দফা সুপারিশ দেন তারা। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্টরা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত আমলে না নিয়ে সারা দেশের জন্য ১৮ দফা নির্দেশনা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেন। এমনকি মেলা, বিপণিবিতান, খেলা, পাবলিক পরীক্ষা ইত্যাদি স্বাভাবিক নিয়মে চালানোর সিদ্ধান্তও পরিবর্তন করেনি সরকার। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এ ধরনের আচরণে হতবিহবল হয়ে পড়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে লকডাউন দেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৫টি জেলায় (ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মৌলভীবাজার) কারফিউর আদলে লকডাউন দিতে হবে। লকডাউন ঘোষণা-পরবর্তী ১৪ দিন কঠোরভাবে সেটি প্রতিপালন করা হচ্ছে কি না-এর জন্য নজরদারি করতে হবে। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় এক বা দুই ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হবে। তখন সবাই যেন তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলো কিনতে পারে।

সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও নেই স্বাস্থ্য বিধি প্রতিপালনের বালাই। মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকে, আবার অনেকের থুতনিতে মাস্ক ঝুলানো। ফুটপাত দিয়ে গাদাগাদি করে হাঁটছেন মানুষ। ফুটপাতের দোকানগুলোতেও এখনো চায়ের আড্ডা জমজমাট। বিতনীবিতানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি ভাঙার প্রতিযোগিতা। গণপরিবহনের অবস্থা একবারেই নাজুক। মানুষ হুড়োহুড়ি করে বাসে উঠছেন। একসিট খালি রেখে বাস চলার কথা থাকলেও অনেক বাসেই তা মানা হচ্ছে না। জুমার নামাজের সময় মসজিদেও মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। মুসল্লিরা গা ঘেষে নামাজ আদায় করেছেন। নামাজ শেষে গাদাগাদি করে বের হয়েছেন।

সরেজমিনে বেলা ১১ টার দিকে কাওয়ার বাজার বাস স্টপিজে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, অন্যদিনের তুলনায় বাস ছিল কম। ছুটির দিন থাকলেও বাস স্পটে ছিল যাত্রীদের ভিড়। বাস আসা মাত্রই মানুষ হুড়োহুড়ি করে তাতে উঠছেন। কথা হয় পারভেজ মিয়া নামের এক যাত্রীর সঙ্গে।

তিনি বলেন, এয়ারপোর্টে আমার জন্য অনেকক্ষণ থেকে এক বন্ধু দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু বাস কম। তাই অনেক ধাক্কাধাকি করে উঠলাম। উঠে দেখি সিট ফাঁকা নেই। তাই দাঁড়িয়ে যাচ্ছি। আর বাস ছাড়া বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। রাইড শেয়ারিং বন্ধ থাকায় মোটরসাইকেল পাইনি। তাই ঝুঁকি জেনেও যাচ্ছি।

করোনা মহামারীর মধ্যে শুক্রবার সারা দেশেই মেডিক্যাল কলেজসমূহের ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি থাকলেও শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের তা মানতে দেখা যায়নি। বরং গাদাগাদি করেই কেন্দ্রে ঢুকেছেন তারা; বাইরে ভিড় করেছেন অভিভাবকরাও। বেলা ১০টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫৫টি কেন্দ্রে এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়, যা বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে। সারা দেশে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেয়ার আবেদন করেছিলেন। তার মধ্যে ঢাকা মহানগরের ১৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৪৭ হাজার।

পরীক্ষার্থীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি কেন্দ্রে ঢোকার সময় সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অথবা স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের বাইরে প্রচণ্ড ভিড়ে সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই ছিল না। কোথাও কোথাও পুলিশ চেষ্টা করেও দূরত্ব বজায় রাখতে পারেনি। পরীক্ষা চলাকালে অভিভাবকরা যখন কেন্দ্রের বাইরে ভিড় করে ছিলেন আর পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা যখন বেরিয়ে আসছিলেন, তখন কোনোভাবেই আর ভিড় সামলানো যায়নি। তবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর গতকাল শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মেডিক্যাল কলেজসমূহের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত হয় হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ সমাবেশ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কয়েক সহস্রাধিক হেফাজতের নেতাকর্মীরা। তাদের অনেকেরই মুখে ছিল না মাস্ক। গাদাগাদি করেই ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন তারা। একই চিত্র একুশে বইমেলাও। সেখানেও ছিল নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতা। মেলায় আগত অনেক দর্শনার্থীদের মুখে ছিল না মাস্ক। একাধিক জনের সঙ্গে কথা বললে তারা নানা অযুহাত দেখিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন।

সংক্রমণের নতুন রেকর্ড: দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির ধারায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় এক দিনের মাথায় নতুন রেকর্ড হয়েছে, শনাক্তের হার ছাড়িয়েছে ২৩ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৬ হাজার ৮৩০ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে; মৃত্যু হয়েছে আরো ৫০ জনের।

নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৬ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৪ জনে। আর তাদের মধ্যে মোট ৯ হাজার ১৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক দিনে শনাক্ত রোগীর এই সংখ্যা দেশে মহামারী শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশে গত বছর ৮ মার্চ করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার এক বছর পর গত সোমবার প্রথমবারের মতো এক দিনে পাঁচ হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্তের খবর আসে। তার মধ্য দিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছয় লাখ ছাড়িয়ে যায়। তিন দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়ে যায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে গত এক দিনে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো ২ হাজার ৪৭৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাতে এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৪১১ জন হয়েছে।
0 Share Comment
Abu Sale Deel Mahamud
04 April 2021, 03:03

ছবি তোলার জন্য শুধু ক্যামেরানির্ভরতা অনেক আগেই কমে গেছে। এখন স্মার্টফোনেই চমত্কার ছবি তোলা যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে তা শেয়ার করা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবি আপলোড করার আগে স্মার্টফোনেই করা যাচ্ছে প্রয়োজনীয় এডিট। যে পাঁচটি অ্যাপ ব্যবহার করে আপনার স্মার্টফোনে ফটো এডিটিং করতে পারেন—
স্ন্যাপস্পিড: ফটো এডিট করার জন্য জনপ্রিয় অ্যাপগুলোর মধ্যে স্ন্যাপস্পিড অন্যতম। ফটো এডিটিংয়ের জন্য ২৮টি ভিন্ন টুলস রয়েছে এতে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অপারেটিং সিস্টেমে এ অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। এখানে আপনি ছবিতে খুব সহজেই যেমন বিভিন্ন ফিল্টারের ব্যবহার করতে পারবেন, তেমনি আবার কাস্টম টিউনিং, কারভিং, টোনাল কন্ট্রাস্ট, হোয়াইট ব্যালান্সের মতো ফিচারগুলো ইচ্ছানুসারে ব্যবহার করে ছবিকে সুন্দর করে তুলতে পারবেন।
ভিএসসিও:
ভিএসসিও হলো আরেকটি ফটো এডিটিং অ্যাপ, যা অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করতে পারবেন। এখানে আপনি প্রিসেট ফিল্টারের মতো ফিচারসহ ফটোতে থাকা খুঁতগুলো সংশোধন করতে ও এডিটিং ফিচারগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য আনার জন্য একাধিক বিকল্প পাবেন। এমনকি এডিটিংয়ের ক্ষেত্রে ছবির মান যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য আপনি ডিভাইস থেকে সরাসরি র-ফাইলগুলোও ইমপোর্ট করতে পারবেন।
প্রিজমা:
কয়েক বছর আগে ব্যবহারকারীদের মধ্যে অতিমাত্রায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এ অ্যাপটি পুনরায় ফিরে এসেছে। অ্যাপটি অন্যান্য অ্যাপের তুলনায় আলাদা হওয়ার কারণ এটি একটি সাধারণ ছবিকে স্কেচ বা পেইন্টিংয়ে পরিণত করাতে সক্ষম। সেক্ষেত্রে আপনি অনেকগুলো চমত্কার ফটো ফিল্টারও পেয়ে যাবেন অ্যাপটিতে।

অ্যাডোব ফটোশপ লাইটরুম:
ফটোগ্রাফারদের মধ্যে অধিক ব্যবহূত অ্যাপগুলোর মধ্যে একটি হল অ্যাডোব ফটোশপ লাইটরুম। সাধারণ মানুষের জন্য এ অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করা কঠিন হলেও এডিটিংয়ে দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে এ অ্যাপটি বিশেষ কার্যকরী হবে। ফটো এডিটিংয়ের জন্য বহু বিকল্পের সমন্বয়ে তৈরি এ অ্যাপটিতে আপনি পেয়ে যাবেন ছবির কালার ও ডিটেইলিং পরিবর্তনের জন্য কন্ট্রাস্ট, শ্যাডো, লেভেল, ফিল্টারের মতো প্রয়োজনীয় ফিচারগুলো।
পিক্সলার :
অনায়াসে
ছবি এডিট করে ফেলার জন্য পিক্সলার অ্যাপটি যথেষ্ট সাহায্য করবে অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস ব্যবহারকারীদের। এ ফটো এডিটিং অ্যাপটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায়। নৈমিত্তিক ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে অ্যাপটি তৈরি করার কারণে এটি ব্যবহার করার পদ্ধতি খুবই সহজ। অতিরিক্ত পরিশ্রম না করেই আপনি এখানে তৈরি করে ফেলতে পারবেন সহজ, সরল তথাপি আধুনিক স্টাইলের সুনির্মিত অ্যানিমেশন।


সূত্র: টেকগ্যাপ

0 Share Comment
Deshi Group
03 April 2021, 23:31

Ministry of Science & Technology  Job Circular 2021

Ministry of Science & Technology Job Circular 2021
Source: Ittafaq, 03 April 2021
Application Deadline: 26 April 2021
Ministry of Science & Technology Job Circular 2021
Source: Ittafaq, 03 April 2021
Application Deadline: 26 April 2021
0 Share Comment
Deshi Group
03 April 2021, 23:28

Bangladesh Diesel Plant Limited Job Circular 2021

Bangladesh Diesel Plant Limited Job Circular 2021
Source: Ittefaq, 02 April 2021
Application Deadline: 24 April 2021
Bangladesh Diesel Plant Limited Job Circular 2021
Source: Ittefaq, 02 April 2021
Application Deadline: 24 April 2021
0 Share Comment
$
$